রঙ ছবি খেলনায় শিশু শিক্ষার আয়োজন-গায়্যা লার্নিং স্টুডিও

0

বিগত দশকে শিশু শিক্ষার পদ্ধতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। রঙ, ছবি, খেলনা - শিশুদের এই জগতের সঙ্গে পড়াশোনাকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে দুনিয়া জুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু অচেনা অক্ষর দিয়ে ভারাক্রান্ত না করে বরং তার পরিচিত জগতের মধ্যে দিয়েই যদি একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় তা একদিকে যেমন হয় ফলপ্রসূ তেমনই পড়াশোনা বিষয়টিও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তার কাছে।


আর ঠিক এই কাজটিই করার চেষ্টা করছে গায়্যা লার্নিং স্টুডিও. কমিকস্, ভিডিও, খেলা এবং খেলনা এই চারটি মাধ্যমকে ব্যবহার করে ছোটদের জন্য শিক্ষার নানা অভিনব উপাদান তৈরি করে গায়্যা। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বছর ২৫ এর সৌরদীপ ঘোষ।

রঙ, তুলি, ছবি, গ্রাফিক্সের জগতটা ছোটবেলা থেকেই টানত সৌরদীপকে, নিজের মতো করেই চালিয়ে গিয়েছেন ছবি আঁকা। বিড়লা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন দীর্ঘদিন। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা ও পরে গান্ধী ফেলোশিপ (২০১৩) এবং গ্লোবাল অ্যাকশন অন প্রভার্টি চেঞ্জমেকার (২০১৪) প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ।

গান্ধী ফেলো হিসেবে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ গ্রেটার মুম্বইয়ের সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বিট অফিসারদের এডুকেশন লিডারশিপ নিয়ে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব ছিল সৌরদীপের। এই সময়ই সৌরদীপ লক্ষ্য করেন শিশুদের শিক্ষার যে প্রথাগত পদ্ধতি, তাতে একটা বড় ধরণের সমস্যা থেকে যাচ্ছে. শিশুদের বাস্তবতার সঙ্গে তাদের এই শিক্ষার কোনো যোগাযোগই নেই।


“বাচ্চাদেরর মনযোগ স্বল্প স্থায়ী হয়, তাদের শব্দের ভাঁড়ার বা বাক্যগঠনের ক্ষমতাও সীমিত, খুব ছোট্ট একটা রঙিন জগতে বাস করে ওরা। কঠিন অপরিচিত শব্দ ও জটিল বাক্যের বদলে যদি ছবি দিয়ে বিষয়গুলি রাখা যায় তাহলে তা তাদের কাছে সহজবোধ্য হয়ে ওঠে, ছবির মাধ্যমেই চরিত্রগুলি জীবন্ত হয়ে ওঠে”, বললেন সৌরদীপ। অপরিচিত শব্দ-বাক্য নয় বরং পরিচিত রঙ-ছবি দিয়েই নতুন তথ্য শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি। সৌরদীপ বললেন, “ফার্স্ট অর্ডার সিম্বল যা হল ছবি, তা শিশুদের বাস্তব জগতের অনেক কাছাকাছি, তারা সহজেই তা চিনতে, মেলাতে পারে নিজের জগতের সঙ্গে, যেখানে অপরিচিত শব্দগুলি তার অভিজ্ঞতা থেকে বহু দূরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ভারতে বর্তমানে যে সব পাঠ্যবই রয়েছে সেগুলি মূলত অক্ষর নির্ভর, ফলে শিশুদের জগত থেকে তা অনেক দূরের।

নিজে সাহিত্যের ছাত্র সৌরদীপ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকেই বেছে নিয়েছেন তার কাজের জায়গা হিসেবে। সৌরদীপ মনে করেন, আজকের পৃথিবীতে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অস্বীকার করা সম্ভব নয়, গোটা জগতের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এই ভাষা। ইন্টারনেটের মতো একটি শক্তিশালী মাধ্যমের সর্বোচ্চ সুবিধা পেতেও ইংরেজি জানা অপরিহার্য। অথচ এটি একটি বিদেশী ভাষা। একটি শিশুর রোজকার জীবনের সঙ্গে তার যোগাযোগ কম। তাই বিশেষত ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে ছবি, ভিডিও ইত্যাদির ব্যবহার খুবই প্রয়োজন। গান্ধী ফেলো হিসেবে কাজ করার সময় দেখেছেন সমাজের তুলনা মূলক ভাবে পিছিয়ে পড়া অংশ থেকে আসা শিশুদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষা কী ভীষণ রকমের সমস্যাজনক হয়ে ওঠে। ওই শিশুদের পারিপার্শ্বের সঙ্গে ইংরেজির কোনও সম্পর্কই নেই। হঠাৎই তারা পরিচিত হয় সম্পূর্ণ অচেনা কিছু অক্ষর, শব্দ, ভাষা বিন্যাসের সঙ্গে, ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা উত্সাহ হারায়, ইংরেজি হয়ে ওঠে একটা ভয়ের বিষয়, আর এভাবেই আরও একটু পিছিয়ে পড়ে তারা। গায়্যা লার্নিং স্টুডিওতে শব্দ ও ছবি হাত ধরে চলে”, বললেন সৌরদীপ।


শিক্ষা ক্ষেত্রে কাজ করা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে গায়্যা লার্নিং স্টুডিও। তৈরি করে তাদের উপযোগী শিক্ষার নানা উপাদান। উদ্যোগিনির জন্য তৈরি করেছে অ্যানিমেটেড লার্নিং মেটেরিয়াল, ডিজাইন ফর চেঞ্জের জন্য করেছে কমিক বই, দিল্লির সরকারি স্কুলের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির ওপর বই তৈরি করেছে সাঝার হয়ে। এছাড়াও প্রথম এডুকেশন ফাউন্ডেশন, অমর চিত্রকথা, ইউনাইটেড নেশনস সাসটেনেবল সলিউশনস ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক, ইন্ডিয়ান ইন্সিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (ক্যালকাটা), টিডিএইচ (জার্মানি) এর জন্যও কাজ করেছে তারা।


বর্তমানে গায়্যা লার্নিং স্টুডিওয়ের কর্মী সংখ্যা মোট পাঁচ। প্রথম বছরে মূলত বিভিন্ন সংস্থাকে পরিষেবা দেওয়া ও বেটা ভার্সনের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের কাজে লাগিয়েছেন সৌরদীপ। আগামী বছর ১০ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের জন্য ইংরেজি শিক্ষার বিভিন্ন প্রডাক্ট লঞ্চ করবে গায়্যা।