একাই একশো মণীষা

0

কেইস হারবার টেকনোলজিস। একটি আইটি পরামর্শদাতা ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। চার বছর আগে চণ্ডীগড়ের একটি ছোট্ট ঘরে পথচলা শুরু করেছিল এই সংস্থা। চার বছর পর এখন এই সংস্থার কর্মচারী সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। মণীষা কাথোরিয়া। কেইস হারবারের জন্মদাত্রী। প্রথম জীবনে হেল্থকেয়ার ও আইটি সেক্টরে কাজ করার অভিজ্ঞতা সূত্রে মণীষা জানতে পারেন সব আইটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাই নিজের মত করে সমস্যার সমাধান করে। নিজের মত করে সাজিয়ে নিজের কাজ করে। চলতি পরিষেবা না দিয়ে নিজেদের মত করে পরিষেবা সাজাতেই পছন্দ করে সংস্থাগুলি।মণীষার মতে, ঠিক এই কারণেই তারা ক্লায়েন্টদের ব্যবসার যাবতীয় প্রযোজন মেটানোর মত সফটওয়্যার তৈরি করে থাকেন।

মণীষা ও তাঁর টিম হেল্থকেয়ার দিয়ে শুরু করলেও দ্রুত সেই কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। মনঃসংযোগ করে কাস্টম বিল্ট এন্টারপ্রাইজ সলিউশন, মোবাইল অ্যাপলিকেশনস এবং সফটওয্যার কনসালটিংয়ে। নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের পরিষেবাকে দ্রুত উন্নত করার কাজে মন দেন মণীষারা। সংস্থার নীতি নির্ধারণ ও উন্নতির কক্ষ স্থির করা ছিল মণীষার প্রধান কাজ। পাশাপাশি সংস্থার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি থেকে এইচআর, সব দিকেই মণীষার কড়া নজর ছিল।

ফরিদাবাদের মেয়ে মণীষার বাবা-মা দুজনেই চাকরি করতেন। নৈতিকতার শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম, খোলা মনে ভাবা ও মত প্রকাশের স্বাধীন পরিবেশেই বড় হন মণীষা। সঙ্গে ছিল পড়াশোনার ওপর যথেষ্ট চাপ। যার ফলও হয়েছিল ভাল। বরাবরই মণীষা ভাল ছাত্রী হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। এজন্য বাবা-মাকেই সব কৃতিত্ব দিতে চান মণীষা। তাঁর মতে, স্বাধীনভাবে ভাবার অধিকার পথ চলতে গিয়ে প্রবল বাধার সম্মুখীন হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করার ভরসা জুগিয়েছে।

মণীষার মতে, কেইস হারবার কোনও ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থা নয়, বরং এটি একটি আমজনতার সংগঠন। ছোট্ট থেকে শুরু করে সঠিক কর্মী নির্বাচন, ক্লায়েন্ট বেস তৈরি করা, সঠিক সময়ে পরিষেবা প্রদান, এগুলো থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ঝুলিবন্দি করেন মণীষা। চলার পথে তাঁরা প্রতি নিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কার করে চলেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে তাঁর সংস্থায় কাকে নেওয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে ভীষণ সতর্ক মণীষা। সঠিক কাজের জন্য সঠিক লোক বেছে নেওয়াকে রীতিমত কঠিন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

ক্লায়েন্টদের প্রতি সহানুভূতি ও তাঁদের প্রয়োজন সম্পর্কে সদাসতর্ক থাকা, এই দুটি বৈশিষ্ট্য কেইস হারবারের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে দাবি করেন মণীষা। আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এমবিএ মণীষার দাবি, নিজের সংস্থায় এই সংস্কৃতি চালু করা তাঁর অভিজ্ঞতার ফল।

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গের অনুপাত শুধু আইটি নয়, ভারতের সব ক্ষেত্রেই একটা সমস্যা। এখনও ভারতীয়রা মহিলাদের ভবিষ্যত গড়ার ক্ষেত্রে তাঁদের উৎসাহ দিতে চায় না বলে দাবি করলেন মণীষা। ফলে প্রতিভাবান মহিলাদের উৎসাহ দেওয়ার মত প্রগতিশীল নীতি নির্ধারণ এখনও একটা সংস্থার জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের সহানুভূতির সঙ্গে দেখার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করেন মণীষা। উদাহরণ হিসাবে একটা ঘটনার কথা জানান মণীষা। মণীষার সংস্থায় একটি মেয়ে কাজ করতেন। কর্মরত অবস্থায় তাঁর দিল্লিতে বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু তিনি বিয়ের পরও এই সংস্থার সঙ্গেই কাজ করে যেতে চাইছিলেন। তাঁর ওই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তাঁর দিল্লির বাড়িতেই একটি ছোট্ট অফিস বানিয়ে দেয় কেইস হারবার। সেখান থেকেই তিনি অনেকটা ওয়ার্ক ফ্রম হোম হিসাবে কাজ করতে থাকেন। মণীষার মতে, একাধিক সংস্থায় কাজ করলে বোঝা যায় কারা কী ধরণের কর্মসংস্কৃতিতে বিশ্বাসী।

মণীষার মতে, একজন শিল্পোদ্যোগীর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটা সরু সুতোর মত তফাত থাকে।

পেশাগত জীবনের অগ্রাধিকার ও পেশাগত দায়বদ্ধতার সঙ্গে ‌যাতে সাংসারিক জীবনের কোনও সংঘাত না হয় সেদিকে নজর রেখে চলেন মণীষা। চণ্ডীগড়ে কেইস হারবার চালু করা মণীষার দাবি, বড় বড় শহরে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। সেখানে দক্ষ কর্মী পাওয়া সহজ। আর সহজ প্রচুর এমন গ্রাহক পাওয়া যাঁরা নিজেরা ‌যথেষ্ট প্রযুক্তি সচেতন। নতুন নতুন যন্ত্র সম্বন্ধে যাদের সম্যক ধারণা আছে। চণ্ডীগড় এমনই এক শহর হওয়ায় এখানে তাঁর সংস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে বলে খোলাখুলিই স্বীকার করে নিলেন কেইস হারবারের জন্মদাত্রী মণীষা কাথুরিয়া।