আপনাকে ‘তনদুরুস্ত’ রাখতে একটি স্টার্টআপ

স্বাস্থ্যই সম্পদ ।স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে মানুষকে ক্যালোরিমুক্ত রাখাই একমাত্র লক্ষ্য ‘তনদুরুস্ত’-এর। সহজে যাতে অর্ডার করা খাবার পাওয়া যায়, তার জন্য তারা রেখেছে সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থা।

0

খাই খাই করো কেন, এসো বসো আহারে।না এবার আর আসার দরকার নেই। তবে মোবাইলের এক কলিংএ বসে খাবার ব্যবস্থা করেছে তনদুরুস্ত।উর্দুতে তন মানে শরীর আর দুরুস্ত মানে ভালো।ভালো খাবেন অথচ শরীরও ভালো থাকবে সে সুযোগ কথায়? সেই কথা মাথায় রেখেই খাদ্যরসিকদের কাছে এক নয়া বিপ্লবের সূচনা করতে চলেছে ‘তনদুরুস্ত’। নামই যেখানে ‘তনদুরুস্ত’, অতএব বোঝাই যায়, মানুষকে যেনতেন প্রকারেন ক্যালোরিমুক্ত করে সুস্থ থাকার মেনুই ঠিক করে দেয় ‘তনদুরুস্ত’।


২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ‘তনদুরুস্ত’ সর্বসমক্ষে আসার পর রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মাত্র সাত মাসের মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি অর্ডার তারা নিয়েছে। ‘তনদুরুস্ত’-এর এই সাফল্যের পেছনে প্রধান কারিগর পুষ্পেশ দত্ত এবং সুধাংশু শর্মা। এঁরা দুজনেই বিশ্বাস করেন মানুষের জীবনে সাফল্য আসে শরীর ও মনের সঠিক নিয়ন্ত্রণে। তার জন্য দরকার সঠিক খাদ্য তালিকা। প্রাত:রাশই হোক কিংবা দুপুরের বা রাতের খাবার, সব মেনুতেই নানা অভিনবত্ব এনেছেন পুষ্পেশ। পুষ্পেশ জানিয়েছেন, পুষ্টিকর খাবার নিয়ে  তিনি নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন এবং একটা সঠিক ডায়েট মেনে নতুন নতুন মেনু প্রস্তুত করেছেন। নিজেদের ব্যবসা দাঁড় করাতে সুধাংশু এবং পুষ্পেশ প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন।

‘তনদুরুস্ত’ সারাদিনে চার-ছ’টি মিলের অর্ডার নেয়। পুরো ব্যাপারটাই হয় সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে। এই সাবস্ক্রিপশন সাপ্তাহিকও হতে পারে আবার মাসিকও হতে পারে। প্রতি মিলের পেছনে খরচ ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ‘তনদুরুস্ত’-এর ক্রেতারা বেশিরভাগই রয়েছেন এইচএসবিসি, সিসকো, গোল্ডম্যান স্যাচস, সিসকো, নারায়ানা হ্রুদালয়ার মতো কোম্পানিতে।


পুষ্পেশ দত্ত এবং সুধাংশু শর্মা
পুষ্পেশ দত্ত এবং সুধাংশু শর্মা

পুষ্পেশ জানিয়েছেন, মানুষ অনায়াসে পিৎজা বার্গার খাওয়ার জন্য টাকা খরচ করেন, কিন্তু একবারও ভেবে দেখেন না এর মধ্যে উপকারিতা আদৌ আছে কি না। আরও কুড়ি টাকা বেশি খরচ করলে যে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া যেতে পারে, সে ব্যাপারেও মানুষ কোনও চিন্তাভাবনা করেন না। পুষ্পেশের মতে, খুব কম মানুষই আছেন, যাঁরা শরীরসচেতন। ক্যালোরিহীন খাবার শরীরকে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে। হার্টের বিভিন্ন অসুখ, স্থূলতা, মধুমেহ প্রভৃতি অসুখ থেকে মানুষ দূরে থাকতে পারেন ভালো খাবারের মাধ্যমে।

খুব শিগগিরই বেঙ্গালুরু এবং আরও কয়েকটি শহরে নিজেদের আরও কয়েকটি স্টোর খুলতে চলেছে ‘তনদুরুস্ত’। তাঁদের লক্ষ্য, ২০১৭-র মধ্যে দু’টি এবং ২০১৮-র মধ্যে আরও চারটি স্টোর খোলার।