হাত বাড়ালেই হাসপাতাল

0

রাত বিরেতে হঠাতই বুকে ব্যাথা। শ্বাসকষ্টে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম। অথচ বাড়িতে নেই নির্দিষ্ট ওষুধ। অগত্যা মৃত্যুর অপেক্ষায় সময় গুনছেন। ‌কারণ নতুন শহরে হাসপাতালের হদিশ জানেন না আপনিও। জানেন না কাছেপিঠে ওষুধের দোকান। আপনাকে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিতে এসে গিয়েছে মেডিকো। মাউসের এক ক্লিকেই দোরগোড়ায় হাসপাতাল। ওষুধও পেয়ে যাবেন হাতে-হাতে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর বিশ্বের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে ৭৫০০ নতুন কোম্পানি গবেষণায় নেমেছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে গ্রাহকের হাতের মুঠোয় আনতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে তারা। তবুও গ্রাহক সমস্যার সমাধান হয়নি। ‌অবশেষে রোগীর এই সমস্যার সমাধানের উদ্যোগী হয় আইবিএম-এর দুই প্রাক্তনকর্মী। জন্ম নেয় মেডিকো। ওয়েব ও মোবাইল নির্ভর এই পরিষেবার মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে ওষুধ, সবই মাউসের এক ছোঁয়ায় পৌঁছে যাবে হাতে। রয়েছে ডায়গনস্টিক সেন্টার ছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সন্ধান। মাত্র একটি অ্যাপের মাধ্যমে এই স‌ব কিছুর হদিশ দেয় মেডিকো। এক কথায় বলতে গেলে রোগীর সমস্যার সমাধানে যোগসূত্র এই অ্যাপ্লিকেশন। শ্রীভলসন মেনন ও রমন শুক্লার মস্তিষ্কপ্রসূত এই সংস্থা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছে।

কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্রীভলসন জানালেন মেডিকো গড়ার নেপথ্য কাহিনি। আইবিএমে দীর্ঘ ২০ বছর কাজের সুবাদে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছেন তাঁকে। ফলে ক্রমই ভেঙে পড়ছিল তাঁর স্বাস্থ্য। একবার মুম্বইতে গিয়ে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নির্দিষ্ট ওষুধ পেতে লেগে যায় প্রায় ৪ ঘণ্টা। ততক্ষণে আত্মারাম প্রায় খাঁচা হওয়ার জোগাড়। সেই থেকে রোগীর সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার যোগাযোগের ভাবনাটা মাথায় আসে তাঁর। কিছু দিন এই বিষয় গবেষণার পর নিজেই নেমে পড়েন এককালের সহকর্মী রমন শুক্লাকে নিয়ে। গড়ে ওঠে মেডিকো। তথ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল রমনের। আইবিএমের হয়ে প্রযুক্তি উন্নয়নের দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। সেকারণে মেডিকোর ওয়েব নির্ভর অ্যাপ্লিকেশন করতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি তাঁর।

সমীক্ষা জানাচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবার বাজার ২০২০ সালের ২৪০ বিলিয়ন ডলার ছোঁবে। বর্তমানে যা ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা অতিক্রম করেছে। বাজারের এই বিশাল ফাঁকা জায়গাটাই ধরতে চাইছে মেডিকো। তার জন্য বেঙ্গালুরুতে দেড় হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে কোম্পানি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠা পেয়েই গতির উড়ান ধরতে পেরেছে মেডিকো। এই সামান্য সময়ের মধ্যে আটশোরও বেশি গ্রাহক হয়েছে কোম্পানির। ইতিমধ্যেই অ্যাপ্লিকেশনের ১২ হাজার পাতায় ক্লিক করেছে গ্রাহকরা। দুশোরও বেশি গ্রাহক সংস্থার অ্যাপ ডাউনলোড করেছে। যা দেখে স্বাভাবিকভাবেই হাসি ফুটেছে দুই শুরুয়াতি উদ্যোগপতির মুখে। কারণ তাঁরাও জানেন, ‘‘ওয়েল বিগান ইজ হাফ ডান।’’

লেখক-সিন্ধু কাশ্যপ, অনুবাদ-তন্ময় মুখোপাধ্যায়