২৫ বছরের শ্রেয় গুপ্তা ‘ OYO’ রুমসের অপটিমাস প্রাইম

0

লাল বোর্ডের ওপর বড় বড় সাদা হরফে লেখা ‘ OYO’ । দেশের মেট্রো শহরগুলিতে এই দৃশ্য অপরিচিত নয়। কিন্তু যাঁর জন্য এক বছরের মধ্যে এই অসাধ্যসাধন হয়েছে তিনি সংস্থার এভিপি (এক্সপ্যানশন)২৫ বছরের শ্ৰেয় গুপ্তা।

‘ OYO’ রুমসের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও রিতেশ আগরওয়াল স্বীকার করে নিয়েছেন সেকথা। “ এক বছর আগে শ্রেয় যখন আমাদের সংস্থায় যোগ দেন তখন আমাদের মাত্র ২০টি প্রপারটি ছিল। ৬ মাসে ১০০-র বেশি শহরে আমরা ছড়িয়ে পড়েছি। ”

সামান্য একটি ঘটনা থেকেই বোঝা যায় শ্রেয়-তে কেন এতটা মুগ্ধ রিতেশ। ২০১৪ সালের জুনে ‘ OYO’ –তে যোগ দেন শ্রেয়। অগাস্ট নাগাদ, সংস্থা বরাত পায় যেখানে ২০০ জনের জন্য ১০০-র বেশি ঘরের ব্যবস্থা করতে হত তাও মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ! সেইসময় সাকুল্যে ৩০০ ঘর ছিল ‘ OYO’-র যার মধ্যে মাত্র ৫০টিই খালি ছিল। অন্য কেউ হলে এই বরাত ফিরিয়ে দিত। কিন্তু শ্রেয় তা করেননি। রাত ১০ টায় এই বরাত পাওয়ার পরের দিন সকালে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। গুরগাঁওয়ের ডিএলএফ ফেস-টু তে তিনটি প্রপারটি কেনার তোড়জোড় শুরু করে দেন শ্রেয়। বিকেল ৫ টায় প্রপারটি‍র কাগজপত্র হাতে আসে। বাকি ছিল আর ২৪ ঘণ্টা! এরমধ্যে ঘরগুলিকে অতিথিদের বাসযোগ্য করে তুলতে হত।প্রপারটির কাগজপত্র পাওয়ার আগেই অবশ্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ভেন্ডারদের থেকে কুশন, টাওয়েল, লিনেন আনার ব্যবস্থা করতে দলের এক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রাত ১ টার মধ্যে ঘরদোর সাফাইয়ের কাজ শেষ হয়। অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য তৈরি হয়ে যায় ‘ OYO’ টিম।

সংস্থায় শ্রেয়-র কাজ পাওয়ার কাহিনিও ছিল অদ্ভুত। ‘ OYO’ র প্রতিষ্ঠাতা রিতেশ আগরওয়াল তখন সদ্য ব্যবসায় নেমেছেন। শ্রেয় তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে গিয়ে এই নয়া ভেঞ্চারের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে দেন।“ ‘ OYO’ রুমস আসলে কী সেটা ‌যখন বেশিরভাগ মানুষের কাছে স্পষ্ট ছিল না তখন এই আইডিয়াকে ফুল মার্কস দিয়েছিল শ্রেয়। এই ব্যবসার চ্যালেঞ্জ, অ্যাডভান্টেজ নিয়েও ওঁর একটা সম্যক ধারণা ছিল। ” বলছিলেন রিতেশ। ট্যুইট করার এক মাসের মধ্যে ‘ OYO’-র ১৫ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত হন ২৫ বছরের যুবক।

শ্রেয় জানালেন, ১৮ মাস আগেও ১ টি শহরে ২০০ টি রুম ছিল ‘ OYO’-র। আজ দেশের ১৫০টি শহরের সাড়ে তিন হাজার হোটেলে ৪০,০০০ রুম রয়েছে তাদের।

প্রথম জীবন বারাণসীতে কাটিয়েছেন। শেষের এক দশক ছিলেন গুরগাঁওতে। দিল্লির শ্রীরাম কলেজ থেকে বি.কম পাশ করার পর ২০১১ সালে বেইন অ্যান্ড কোম্পানিতে যোগ দেন। ২ বছর পর বিজেপি‍র লোকসভা ক্যাম্পেনের ওয়ার রুমে চলে আসেন শ্রেয়।“ নিরাপদ চাকরি ছেড়ে নির্বাচনের ক্যাম্পেনে সময় কাটানো আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল । ঝুঁকি নেওয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকার শিক্ষা পেয়েছিলাম সেখান থেকে। অনেকটা সে কারণেই ‘ OYO’ রুমসে যোগ দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম।” জানালেন তিনি।

কর্পোরেট জগতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাহায্য করেছিল বলে জানিয়েছেন শ্রেয়। পরিকল্পনা করা এবং তাকে বাস্তবায়িত করার শিক্ষা মিলেছিল সেখান থেকে। তবে নিজের সাফল্যের জন্য সংস্থাকে কৃতীত্ব দিতে ভোলেননি। বারবারই বলেছেন, টিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিতেশের কথায়

“ কোনও কাজ সম্পন্ন করতে গেলে তার পদ্ধতি কী হবে এবং প্রয়োজনে সেই পদ্ধতিতে কীভাবে ছোটখাটো পরিবর্তন আনা যায় সেটা বিলক্ষণ জানেন শ্রেয় যা একজন স্টার্টআপ কর্মীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।কখন কীভাবে পরিকল্পনায় বদল আনতে হয় এবং যে কোনও শর্তে কাজ করিয়ে নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে তাঁর মধ্যে।” বলছিলেন রিতেশ।

শ্রেয়‍-র গুরুত্ব বোঝাতে একটা ঘটনা বললেন রিতেশ। “ একটা হোটেলকে ‘ OYO’-তে পরিণত করার জন্য কী কী করণীয় তা নিয়ে প্রথম প্লেবুক লিখেছিলেন শ্রেয়। ভেন্ডারদের হ্যান্ডল করা, চেকলিস্ট তৈরি করা এসব যাবতীয় খুঁটিনাটি ছিল তাতে। এই পদ্ধতিকে আমরা ট্রান্সফরমেশন নাম দিই। আর টিমের সদস্যদের ট্রান্সফর্মার বলে ডাকা হয়। আর শ্রেয় হয়ে উঠলেন অপটিমাস প্রাইম । ”

আর স্টার্টআপ-দের জন্য শ্রেয়‍-র টিপস ? “ গতে ধরা পদ্ধতি ছেড়ে কোনও কাজ বিকল্প পথে করার উপায় জানা থাকলে তা বলতে ইতস্তত করবেন না।”

(লেখা তনভি দুবে, অনুবাদ শিল্পী চক্রবর্তী)