শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত অধিকাংশ প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী

1

শিক্ষার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। যে কোনও মানুষ শিক্ষার যথাযথ সুযোগ পেলে তাঁর জীবন সবদিক দিয়েই উন্নত হতে পারে। অন্তত উন্নতি লাভের পথগুলি খুলে যায়। স্বাধীনতার পরে গত কয়েক দশক ধরে সর্বস্তরে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে সরকারিভাবে বেশ কিছু নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রতিবন্ধী বালক-বালিকারা আজও বহুলাংশে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

২০১১ সালের জনগণনার রিপোর্ট অনুসারে, প্রতিবন্ধী বালক-বালিকারা স্বাভাবিক বালক-বালিকাদের তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগের অভাবে অনেক পিছনে পড়ে রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সাক্ষরতার হার মোটে ৫৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, সাক্ষরতার সার্বিক হার ৭৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, আর একটি উদ্বেগজনক তথ্য হল, প্রতিবন্ধী ছেলেদের তুলনায় প্রতিবন্ধী মেয়েদের ক্ষেত্রে বঞ্চনার ছবিটা আরও বেশি করুণ। বিশেষত, গ্রামাঞ্চলে। পরিসংখ্যান অনুসারে, গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মেয়েদের সাক্ষরতার হার ৩৮ শতাংশ। পুরুষ প্রতিবন্ধীদের তুলনায় এই হার ২০ শতাংশ কম। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মেয়েদের সাক্ষরতার হার ৬১ শতাংশ। পুরুষ প্রতিবন্ধীদের তুলনায় এই হারও ৯ শতাংশ কম বলে জানাচ্ছে পরিসংখ্যান।

তাছাড়া, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ থেকেও এখনও বঞ্চিত। অন্ধ ছেলেমেয়েরা ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া শিখে থাকেন। বাস্তব পরিস্থিতি হল, অধিকাংশ স্কুলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্তও ব্রেইল পদ্ধতিতে পঠনপাঠনের সুযোগ-সুবিধা মিলছে না। ফলে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে যথেষ্ট।

কোনও কোনও রাজ্যের সরকার প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করতে স্কুলগুলিতে ল্যাপটপ বিলি করলেও - সেটি চালাতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কর্মীরও অভাব রয়েছে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষিত করার যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যাও এ দেশে প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।