ISIS জঙ্গিদের যৌনদাসী নাদিয়া আজ বিশ্বশান্তির দূত

ISIS জঙ্গি শিবিরে অকথ্য যৌন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন মেয়েটি। তিনি ছিল এক মৃত্যুর গ্রাস। দাসত্বের নরক। সেখান থেকে পালিয়ে নাদিয়া মুরাদ এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের গুডউইল অ্যাম্বাসাডর।

2

এবছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ২৩ বছরের তরুণী নাদিয়া মুরাদ। নাদিয়ার জীবনযুদ্ধ ইতিমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘে। আইএসআইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নাদিয়া লড়়াইয়ের জের এখন বিশ্বের যে কোনও মানুষের কাছেই প্রেরণা ও গভীর শিক্ষা হতে পারে। ইরাকের মেয়ে নাদিয়া এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের গুডউইল অ্যাম্বাসাডর। নাদিয়াই রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রথম গুডউইল অ্যাম্বাসাডর যিনি আইএসআইএস জঙ্গিদের শিবিরে যৌনদাসী হিসাবে অকথ্য অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাদক ও অপরাধ বি্ষয়ক শাখায় কাজ করছেন নাদিয়া।

আইএসআইএস জঙ্গিদের শিবিরে নাদিয়াকে ধরে নিয়ে যা্ওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালে। নাদিয়া শেষপর্যন্ত পালিয়েছেন। কিন্ত তাঁর আগেই নাদিয়ার যা কিছু সর্বনাশ ঘটার তা ঘটে গিয়েছে। জঙ্গিদের হাতে গণধর্ষিতা হয়েছেন নাদিয়া। সেইসঙ্গে শিকার হয়েছেন আরও নানান অত্যাচারেরও। সেইসময় আইএসআইএস জঙ্গিরা নাদিয়া ছাড়াও তাঁর ছয় ভাইকে শিবিরে্ আটক করে রেখেছিল। সকলকেই পরে নৃশংসভাবে খুন করেছে জঙ্গিরা। নাদিয়া নিজেই জানিয়েছেন তাঁর জীবনের ওই অভিশপ্ত দিনগুলির কাহিনি। নাদিয়া সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে জানিয়েছে, জঙ্গিদের কবল থেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু। জঙ্গিরা আমায় একটা খুপরির ভিতর আটকে রেথেছিল। দিনের পর দিন আটক ছিলাম। বন্দি অবস্থাতে গণধর্ষিতাও হই।

বিশ্ব শান্তি দিবসের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরাকের সাহসী মেয়ে নাদিয়া মুরাদকে সম্মানীত করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি বুন। ওই অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাদিয়া বলেছেন, আইএসআইএস জঙ্গিদের অত্যাচারের শিকার মহিলা, নাবালিকা এবং উদ্বাস্তুদের সহায়তায় বিশ্ব নেতারা এগিয়ে আসুন। তাঁরা সহায়তা করুন জঙ্গি কবলের শিকার দুর্দশাগ্রস্তদের। আর সেইসঙ্গে জঙ্গি অত্যাচারের কবলমুক্ত হোক পৃথিবী।

পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের ওই অনুষ্ঠানে মুসলিম দুনিয়ায় বসবাসকারী মানুষের প্রতি নাদিয়ার আবেদন, জঙ্গিদে্র হাতে ধর্মকে বিকৃত হতে দেবেন না। নিজেদের অপরাধগুলির পিছনে কুযুদ্ধি খোঁজার লক্ষ্যে জঙ্গিরা ইসলামের অপব্যবহার করে চলেছে। এখবর জানিয়েছে কুর্দিস্থান ২৪ নিউজ।

(TCI)