সহজ ভাষায় জানুন স্টার্টআপ জার্গন

0
আপনি কি ব্যবসায়ী? ব্যবসায়ে আগ্রহ আছে। তাহলে যে শব্দগুলো আপনার চারধারে হামেশাই ঘুরপাক খায় মাছির মত ভন ভন করে অথচ সেগুলো হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন না। আমাদের জানান। আমরা জলবৎ তরলং করে বুঝিয়ে দেব মোদ্দা বিষয়টা কী। 

পাঠকদের অনুরোধে প্রাথমিকভাবে সেরকমই কিছু শব্দ বেছে নিয়েছি আমরা। এখানে হয়তো পাবেন আপনার প্রয়োজনীয় শব্দটিও।

Acquisition– কোনও একটি সংস্থা যখন অপর একটি সংস্থার বেশিরভাগ শেয়ার কিনে অন্য সেই সংস্থায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে এবং পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পায় তখন তাকে বলে Acquisition বা বাংলায় আমরা হামেশাই যাকে বলি অধিগ্রহন।

Agile – তরতর করে এগিয়ে যাওয়ার দর্শন। এই শব্দটি সফটওয়ার ডেভলপমেন্টের জগতের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ক্রমান্বয় উন্নতিকে প্রোমোট করার দর্শনই হল এককথায় Agile।

Angel investor– অ্যান্জেল শব্দের অর্থ দেবদূত। আর ইনভেস্টর বিনিয়োগকারী। মূলত শুরুয়াতি ব্যবসা বা স্টার্টআপে যারা বিনিয়োগ করেন তাদের মর্যাদা দেবদূতের মতই। কারণ সেই বিনিয়োগের পরিমাণ অল্প হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যাঁরা স্টার্টআপে শেয়ারের বিনিময়ে অর্থ বিনিয়োগ করেন তাঁদের বলা হয় অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর।

B2B – ব্যবসা থেকে ব্যবসা। আর B2C ব্যবসা থেকে উপভোক্তা কনজিউমার। কোনও সংস্থা যখন ক্রেতা বা উপভোক্তার জন্য পণ্য কিংবা পরিষেবা প্রদান করে তখন তাকে বলা হয় বিজনেস টু কনজিউমার। কিন্তু কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা যখন অন্য কোনও সংস্থার জন্য পরিষেবা বা পণ্য তৈরি করে তখন সেটা দুই পৃথক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান। একে বলা হয় বিজনেস টু বিজনেস। সংক্ষেপে বি টু বি।

Benchmark – স্টার্টআপ বা শুরুয়াতি সংস্থার উন্নয়নের স্তর পরিমাপের ক্ষেত্রে বেঞ্চমার্ক শব্দটি বার বার ব্যবহৃত হয়। ধরা যাক কোনও কোম্পানি দু বছরের মধ্যে চার কোটি টাকা মুনাফা করবে বলে লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল। এটা হল তাদের বেঞ্চমার্ক। ২ বছর পর লক্ষ্যমাত্রার তারা কতটা মুনাফা করত পারল তা দেখে সংস্থার উন্নয়নের পরিমাপ করা যায়।

Board of directors– স্টক হোল্ডারদের দ্বারা নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ। এঁরা কোম্পানি দেখভাল করেন, বিনিয়োগ করেন এবং নীতি নির্ধারণ করেন। তবে সব স্টার্টআপেই যে বোর্ড থাকে এমনটা নয়।

Bootstrapped – "pulling oneself up by one's bootstraps." এই প্রবাদ থেকে শব্দটি এসেছে। যখন কোনও উদ্যোগপতি ব্যক্তিগত আর্থিক জোগান কিংবা কোম্পানির নিজস্ব আয়ে সেই কোম্পানি এগিয়ে নিযে যান তখন সেই পরিস্থিতিকে বলা হয় বুটস্ট্র্যাপড।

Bridge loan– বড় বিনিয়োগ পাওয়ার আগে কখনও কখনও সংস্থাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঋণ করতে হয়। এই স্বল্প সময়ের জন্য ঋণকে বলে ব্রিজলোন।

Buyout – কোনও কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ার কিনে নেওয়াই বাইআউট। এর ফলে যিনি শেয়ার কেনেন তিনি ওই কোম্পানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পান।

Capital – যে আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের ব্যবসা শুরু করা এবং চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় তাকে বলে ক্যাপিটাল বা মূলধন। সংস্থা গড়ার জন্য যেমন মূলধন দরকার, তেমন মূলধন বা ক্যাপিটাল ছাড়া কোও কাজ চালিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়।

Capital under management – কোনও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে অথবা ম্যানেজ করে তাকে বলে ক্যাপিটাল আন্ডার ম্যানেজমেন্ট।

Convertible debt– সংস্থার বিভিন্ন সময়ে করা ঋণ যুক্ত করে তা যদি সংস্থার ইকুইটিতে বদলে নেওয়া সম্ভব হয় তখন ওই ঋণকে বলে কনভার্টেবল ডেট।

Debt financing – বিনিয়োগকারীর কাছে বিল কিংবা বন্ড বিক্রি করে অনেক সময় কোম্পানি ঋণ নেয়। শর্ত থাকে সুদ সমেত ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হবে। এধরণের অর্থ সংগ্রহকে বলা হয় ডেট ফাইনান্সিং।

Disruption – নতুন প্রযুক্তি কিংবা আবিষ্কারের ফলে কখনও কখনও বাজারের চরিত্র বদলে যায়। একেই বলে Disruption। এর ফলে পুরনো প্রযুক্তির পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়ে। পণ্যের দামে বদল আসে। পণ্যের প্রতি ক্রেতার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়।

Due diligence – সম্ভাব্য বিনিয়োগের জন্য যখন বিনিয়োগকারী সংস্থার আর্থিক তথ্য, পরিসংখ্যান গবেষণা করেন। বিচার বিবেচনা করেন প্রয়োজনে কিছুটা গোয়েন্দাগিরিও হয়তো করেন। সতর্কতার সঙ্গে এই ছানবিনের কার্যকলাপকেই বলে ডিউ ডিলিজেন্স।

Enterprise – কোম্পানি অথবা বানিজ্যিক সংস্থাকে এন্টারপ্রাইজ বলা হয়। আমরা ইওর স্টোরিতে উদ্যোগ বলি কারণ বাংলায় উদ্যোগ শব্দটি এন্টারপ্রাইজ শব্দের বাংলা হিসেবে প্রচলিত আছে।

Entrepreneur – যিনি ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করার জন্য উদ্যোগী হন তিনি Entrepreneur বাংলায় আমরা বলি উদ্যোগপতি। 

Entrepreneur in residence (EIR) – পোর্টফোলিও কোম্পানির দেখভাল করার জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম অনেক সময় অভিজ্ঞ উদ্যোগপতিকে নিয়োগ করে। তাঁকে বলে EIR।

Equity financing – শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি তার মূলধন সংগ্রহ করে। একে বলে ইকুইটি ফাইনান্সিং।

Exit – স্টার্টআপ লাইফ সাইকেলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। অনেক সময়ই স্টার্টআপ শুরু হয় একটা ভালো Exit এর সম্ভাবনার কথা ভেবে। প্রতিষ্ঠাতারা এই পদ্ধতিতে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন। কোম্পানি যখন উন্নতি করছে সে সময় তারা আইপিও কিংবা বাই আউটের রাস্তায় যান। এতে বাজার থেকে দ্রুত টাকা তোলা যায়। শুধু প্রতিষ্ঠাতারা কেন শুরুয়াতি ব্যবসায় যারা বিনিয়োগ করেন তাঁরাও খোঁজেন এক্সিটের রাস্তা। বিনিয়োগের অর্থ বাজার থেকে দ্বিগুণ তিনগুণ তুলে নেওয়ার জন্য প্রয়োজন এক্সিট স্ট্র্যাটেজি। ঠিকঠাক পরিকল্পনা। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি এই এক্সিটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল না দেখলে বিনিয়োগই করতে আগ্রহী হয় না।

Fund of funds – কোনও মিউচিয়াল ফান্ড যখন অন্য কোনও মিউচিয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে তখন তাকে বলা হয় ফান্ড অফ ফান্ডস।

Ground floor – স্টার্ট আপের প্রাথমিক স্তর। অর্থাৎ, সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোনও বাণিজ্যিক সংস্থার প্রাথমিক অবস্থা।

Incubator – সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অনেক সময় অন্য সংস্থার সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। ইনকিউবেটরের মধ্যে নবজাতক শিশু যেমন পরিবেশ, পরিস্থিতির সঙ্গে জুঝবার শক্তি অর্জন করে তেমনি নতুন সংস্থাকেও বাজারের তুমুল প্রতিযোগিতায় টিকবার জন্য বড় কোনও সংস্থার ছত্রছায়ায় থাকতে হয়। একে ইনকিউবেশন বলে।ম্যানেজমেন্ট স্কিম তৈরি করার আগে বা তৈরির সময় ইনকিউবেটরে থাকা কোম্পানিকেও অন্যান্য সংস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

IPO – ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং। প্রাথমিকভাবে শেয়ার ছেড়ে প্রাইভেট কোম্পানি হয়ে ওঠে পাবলিক কোম্পানি। অর্থাৎ স্টার্টআপের পর্যায় থেকে সে বেরিয়ে আসে। ঠিক যেন শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি হওয়া।

Lead investor - লিভ ইনভেস্টর অর্থাৎ প্রধান বিনিয়োগকারী। কোনও ব্যক্তি কিংবা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড কোনও স্টার্টআপের জন্যে বিনিয়োগ জোগার করার কাজটায় নেতৃত্ব দেন এবং সেই রাউন্ডে সর্বাধিক বিনিয়োগ করেন তাকে বলে লিড ইনভেস্টর কিংবা লিডিং দ্য রাউন্ড।

Leveraged buyout – সংস্থা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী যদি ওই সংস্থার বকেয়া ঋণ‌পত্র এবং বন্ড কিনে পাশাপাশি কম শেয়ার কিনে কোম্পানি অধিগ্রহণ করে তখন তাকে বলে লেভারেজড বাইআউট। বৃহদায়তন সংস্থার অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এই ধরণের বাইআউট দেখা যায়। এর ফলে বিনিয়োগকারীকে অত্যাধিক পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না।

Liquidation – কোনও সংস্থা যখন তার সমস্ত স্থবর অস্থাবর সম্পত্তি ‌বিক্রি করে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে তখন সেই পর্যায়কে বলা হয় লিকিউডেশন।

Mezzanine financing – স্টার্ট আপের গণ্ডি ডিঙিয়ে পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার মাঝের স্তরে কোম্পানির জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে। সেই বিনিয়োগকে বলা হয় মেজেনাইন ফাইনান্সিং।

NDA – নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট। বাণিজ্যিক কারণে কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি কিংবা সমঝোতা প্রকাশ্যে আনা হয় না। তাকে বলা হয় এনডিএ।

Pivot – বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য স্টার্ট আপকে অনেক সময় পুরনো কৌশল থেকে সরে আসতে হয়। একে বলা হয় পিভট। 

Portfolio Company – যে কোম্পানিতে VC বা ভেঞ্চার ক্যাপিটার ফার্ম বিনিয়োগ করে সেই সংস্থাই হল ওই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের কাছে পোর্টফোলিও কোম্পানি।

Preferred stock – প্রেফার্ড শেয়ারের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধাযুক্ত ডিভিডেন্ড পাওয়া যায়। সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার আগে এধরনের শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেন্ড ফেরত দেওয়া হয়।

Proof of concept – যে কোনও স্টার্টআপের জন্য দরকার হয় নতুন আইডিয়া। সেই আইডিয়া বা পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত তার প্রমাণ দেওয়াকে বলে প্রুফ অফ কনসেপ্ট।

Pro rata rights – একে সুপ্রা প্রো রাটা রাইটসও বলা হয়। প্রো রাটা কথাটি এসেছে ল্যাটিন থেকে। যার অর্থ সমানুপাতিক হার। বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম বা বিনিয়োগকারী সমানুপাতিক হারে মালিকানা বাড়ানোর যে অধিকার ভোগ করেন এককথায় তাকেই বলে প্রোরাটা রাইট।

Recapitalization – ইক্যুইটি কিংবা ঋণের পরিমাণ হেরফের করে কোনও কোম্পানি অনেক সময় তার মূলধন কাঠামোর পরিবর্তন করে। একে বলে রিক্যাপিটালাইজেশন। ট্যাক্স ছাড় পেতে অথবা অধিগ্রহণের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য অনেক সময় এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

ROI – কোনও ভেঞ্চারের বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারী যে অর্থ ফেরত পেয়ে থাকেন তাকে বলে রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট। সংক্ষেপে আরওআই। ধরা যাক ২০ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে কোনও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম একটি কোম্পানিতে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে। যদি ৪০ লক্ষ টাকায় সেই কোম্পানি বিক্রি হয়ে যায় তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম পাবে ৮ লক্ষ টাকা।

Round – ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের কাছ থেকে দফায় দফায় বিনিয়োগ তোলে সংস্থাগুলি। একে বলে রাউন্ড। এরকম রাউন্ড A থেকে F পর্যন্ত হতে পারে।

SaaS- সফটওয়্যার অ্যাজ অ্যা সার্ভিস। সফটওয়্যার প্রোডাক্ট যখন ইন্টারনেটে পাওয়া যায় তখন তাকে SaaS বলে।

Seed – গাছের জন্ম দেয় বীজ। সেরকম সদ্য গঠিত কোনও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের প্রথম দফাকে বলা হয় সিড।

Secondary public offering – ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং-এর মধ্যে দিয়ে প্রাইভেট কোম্পানি হয়ে ওঠে পাবলিক কোম্পানি। এরপর যদি সেই কোম্পানি বাজারে শেয়ার আনে তবে তাঁকে বলে সেকেন্ডারি পাবলিক অফারিং।

Sector – যে বাজারের দিকে তাকিয়ে কোনও স্টার্টআপ তার পরিষেবা কিংবা পণ্য তৈরি করে সেই বাজার হল তার সেক্টর।

Series – ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম স্টার্টআপ সংস্থায় ধাপে ধাপে  বিনিয়োগ করে। এক একটা ধাপ হল সিরিজ।

Stage – কোনও স্টার্ট আপ একদিনেই মহীরূহের চেহারা নেয় না। সে ধাপে ধাপেই উন্নতি করে। সঠিকভাবে সেই ধাপগুলোকে চিহ্নিত করা সবসময় সম্ভব হয় না। তবে সাধারণভাবে তাকে ‌সীড স্টেজ, আর্লি স্টেজ, মিড স্টেজ এবং লেট স্টেজে ভাগ করা হয়।

Startup – সদ্য গঠিত কোনও কোম্পানিক স্টার্ট আপ বলা হয়। স্টার্টআপ এই শব্দের কোনও বাংলা হাতের কাছে পাওয়া কঠিন। কিন্তু ইওর স্টোরি বাংলা এই ধরণের ব্যবসার জন্যে একটি নির্দিষ্ট নাম দিয়েছে। শুরুয়াতি সংস্থা। যার আরম্ভটাই অনেক লড়াইয়ের পর জয়ের মতো। এধরণের সংস্থার নিজস্ব কিছু চাহিদা থাকে, সমস্যাও থাকে। সেগুলো সমাধান করার দরকার। তবে কত সময় পর্যন্ত কোনও কোম্পানিকে স্টার্টআপ বলা হবে তা নিয়ে ধরাবাধা কোনও নিয়ম নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও কোম্পানি নিজেকে স্টার্টআপ বলে পরিচয় দেয় ততক্ষণ পর্যন্ত সে স্টার্ট আপের পর্যায়ে থাকে। এদের বেঁচে থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক পেশাদার আবহাওয়া প্রয়োজন। শ্বাস নেওয়ার জন্য ফান্ডিং-এর অক্সিজেন প্রয়োজন। এসব থাকলে শুরুয়াতি ব্যবসার অঙ্কুরোদ্গম সম্ভব। আর এই পরিবেশটাকেই বলে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। আমরা বলি শুরুয়াতি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ।

Term sheet – আইনি যুক্তির মধ্যে দিয়ে কোনও বিনিয়োগকারী কোনও কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। সেই যুক্তির আগের পর্যায়ে বিনিয়োগের রূপরেখা স্থির করার জন্য নন বাইন্ডিং এগ্রিমেন্ট করা হয়। যার নাম টার্ম শিট।

Valuation – কোম্পানির আর্থিক মূল্যায়ন স্থির করার প্রক্রিয়াকে বলে ভ্যালুয়েশন।

Venture capital – কোনও সংস্থা ভবিষ্যতে সফল হবে কিনা তা আগাম আঁচ করা অসম্ভব। ঝুঁকি সত্ত্বেও ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা স্টার্ট আপে যে মূলধন বিনিয়োগ করা হয় তাকে বলা হয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।

Venture capitalist – যিনি ভেঞ্চারে ক্যাপিটালের জোগান দেন তিনি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট।

Vesting – সাফল্যের পুরস্কার হিসাবে অনেক সময় কর্মীদের শেয়ার দেওয়া হয়। এটা যেমন ইনসেনটিভ, সেরকম সংস্থার কর্মীদের একাত্মতা বাড়ে। কোনও কোম্পানি যখন কর্মীদের শেয়ারপত্র বিলি করে তখন তাকে বলে ভেস্টিং।

Related Stories

'স্টার্টআপ স্কেল' নড়ে যাচ্ছে, আপনি পিছিয়ে পরছেন না তো?

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টার্টআপ পরিভাষাতেও অদল বদল হচ্ছে। অপিনিহিতি অভিশ্রুতি এসব বাংলা ব্যকরণের বিষয়। কিন্তু স্টার্টআপ ব্যকরণেও অর্থের রূপান্তর চোখে পড়ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সংজ্ঞাও। ফলে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি। সেই বিভ্রান্তি কাটাতেই বিষয়গুলির যথার্থ সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। গত কয়েক বছরের সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর বিষয় ছিল ‘সিড রাউন্ড বনাম A রাউন্ড’! কোন পুঁজির কী কাজ তার উপর ভিত্তি করে আজ এই রাউন্ডগুলির একটা পরিষ্কার ধারণা দিতে চাই।