"ডায়েটে থাকুক ডাল" বলছে Who, প্রচারে BCCI 

0

রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধীনস্থ খাদ্য ও কৃষি সম্পর্কিত সংগঠন (এফএও) সম্প্রতি যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, আহার্য হিসাবে বিভিন্ন ধরনের ডাল গ্রহণ করলে শরীর-স্বাস্থ্যের তাতে উন্নতি হয়ে থাকে। তাছাড়া, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিতে, জীববৈচিত্র্য বজায়ে ডালের জুড়ি নেই। স্বাস্থ্য ভালো রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল ডায়েট। যদিও বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন ডায়ে্টজনিত কারণে নানা ধরনের রোগব্যাধির শিকার। নানা ধরনের পুষ্টিজনিত সমস্যা, অপুষ্টি, ওবেসিটির মতো অসুখবিসুখ হচ্ছে প্রধানত ডায়েট ঠিকঠাক না হওয়ার কারণে্। কখনও কখনও একজন মানুষ নিজের ডায়েটে অপরিণামদর্শিতার জন্যে একাধিক অসুখে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে উন্নত ও উন্নতশীল দুনিয়া, উভয় ক্ষেত্রে বসবাসকারী মানুষেরই উচিত ডালকে তাঁদের খাদ্য তালিকায় নিয়মিতভাবে ঠাঁই দেওয়া।

যে সমস্ত মানুষ স্বল্প আয়ের শ্রেণিতে পড়েন, তাঁদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কারণে ডাল উপযোগী। এছাড়ার দানাশস্যের দামের ওঠাপড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পাতে নিয়মিত ডাল থাকলেও তা নানা দিক দিয়ে অত্যন্ত উপকারী।

২০১৬ সালটি ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব পালসেস (আইওয়াইপি) হিসাবে ঘোষিত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো ডাল চাষের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি অর্খনীতিও প্রভূতভাবে সম্ভাবনাময়। যদি কৃষকেরা গমের সঙ্গে ডালের ফলনেও আগ্রহী হন, তাহলে ফসলের অসুখ লাগার জেরে খামারে বিপর্যয়, পোকামাকড়ের সংক্রমণ এবং আবহাওয়াজনিত কারণে ফলনের বিভিন্ন সঙ্কট খেকেও রেহাই মিলবে।

সেই কারণে এই রাজ্যেও ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অব পালসেস উদযাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এতে বর্তমানে ডায়েটজনিত যে অসামঞ্জস্যগুলি রয়েছে, তা যেমন দূর করা যাবে - তেমনভাবে পুষ্টির চাহিদাও মেটাতে যাবে। তাছাড়া শুধুমাত্র খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, আরও নতুন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ বেশ কিছু দরজা ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির জন্যে উন্মুক্ত হবে। যেমন, কৃষকরা সরাসরি স্থানীয় বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে্ তুলে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। সেইসঙ্গে ইন্ডিয়ান পালস অ্যান্ড গ্রেইন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ডাল রফতানি করা যেতে পারে। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও ডালের ফসন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া যায়।

এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ডাকে সাড়া দিয়ে দি বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস নিয়েছে। এজন্য নতুন নতুন গবেষণাকেও উদ্বুদ্ধ করতে চায় দি বেঙ্গল চে্ম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। চেম্বারের তরফে আয়োজন করা হচ্ছে, পালস ২০১৬ – স্বনির্ভরতা, চ্যালেঞ্জ ও এগোনোর পথ নিয়ে সহযোগিতার দিকনির্দেশিক। এ কাজে চেম্বারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবে রয়েছে বিশ্বভারতী। আর নলেজ পার্টনার হিসাবে যুক্ত রয়েছে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ।

উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। অন্য বক্তাদের ভিতর ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রপস রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর দ্য সেমি অ্যান্ড ট্রপিকস-এর (আইসিআরআইএসএটি) ডিরেক্টর ডঃ রাজীব কুমারে ভার্সনে, দি বেঙ্গল চেম্বার প্রাক্তন প্রেসিড়েন্ট অম্বরীশ দাশগুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা প্রদীপ কুমার মজুমদার, বিশ্বভারতীর উপাচার্য ডঃ স্বপন দত্ত, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ ডি ডি পাত্র, পশ্চিমবঙ্গ কৃষি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ও ইন-চার্জ, আইএএস, সঞ্জীব চোপরা, ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব পালসেস রিসার্চের ডিরেক্টর ডঃ এন পি সিং প্রমুখ।

দি বেঙ্গল চেম্বারের প্রেসিডেন্ট শান্তনু ঘোষ বলেছেন, ডাল অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। এর দানাগুলি দেথতে ছোট হলেও প্রতিটি দানাই হল প্রোটিনে ভরপুর। ‌এতে গমের এর চেয়ে দ্বিগুণ ও চালের চেয়ে তিনগুণ পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে। এছাড়াও এতে কার্বোহাইড্রে়ট, ভিটামিন বি‌-এর বৈচিত্র্য রয়েছে। স্বাস্থকর ডায়েট রক্ষায় এগুলি খুবই উপযোগী বলে জানিয়েছেন শান্তনুবাবু।

ছোট কৃরষকদের আযের নিরাপদ রাস্তা খুলে দিতে লেজুমস নামে একশ্রেণির ডালের ফলনের লাভদায়ক একাধিক দিক রয়েছে। তার ভিতর রয়েছে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিজনি‌ত নিরাপত্তা – এছাড়া এটা চাষ করলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে থাকে। সারা পৃখিবীর ২০০ লক্ষ (২ বিলিয়ন) দরিদ্র মানুষের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় ডাল থাকেই। যদিও ভুট্টার ফলনে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সে তুলনায় ডাল চাষের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এখনও যথেষ্ট কমই।

আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ডালের চাষাবাদে ভবিষ্যতের রাস্তা ও দিশা খুঁজে বের করা। এজন্য কয়েকটি আশাপ্রদ পদক্ষেপ নে্ওয়া দরকার।

ডাল কেন লাভদায়ক

১. ডালে স্নেহজাতীয় উপাদান খুবই কম পরিমাণে থাকে। আর এটা ফাইবার সমৃদ্ধ। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী। পরিপাক়জনিত সমস্যা না থাকায় পুষ্টি্কর। তাছাড়া, ডাল খেলে ভরপুর এনার্জিও পাওয়া যায়।
২. ডাল কম ক্যালরিসম্পন্ন খাদ্য (প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো ডালে থাকে ২৬০-৩৬০ কিলো ক্যালরি)। সেইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে্ কার্বোহাইড্রেটও থাকে। তাছাড়া ধীরে ধীরে হজম হয়।
৩. খাবার পাতে ডাল শরীরের পক্ষে উপকারী। এতে শক্তিক্ষয় হয় অনেক কম। তাছাড়া, ডালে থাকা আয়রন সারা শরীরে স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন চলাচলের সহায়ক। আর এতে শরীর থাকে তরতাজা ও খাদ্য পরিপাকের উপযোগী।