গ্রামীণ বৈজ্ঞানিক রুদ্রনারায়ণের দরকার কিছু বন্ধুর

0

কথায় বলে, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। ঝাড়খণ্ডের সিন্দুরপুরের বাসিন্দা রুদ্রনারায়ণ মুখার্জিও তেমন একজন গেঁয়ো যোগী।রুদ্রনারায়ণকে লোকে ভালবেসে গ্রামীণ বৈজ্ঞানিক বলে ডাকে। ইতিমধ্যে ৩৫ বছরের রুদ্রনারায়ণ ২২ ধরনের ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন। এক-একটি ডিভাইজের পেটেন্ট নিতে ৮৬ হাজার টাকার ওপর খরচ। এদিকে ওঁর নিজের অত টাকা কোথায়! সে কারণে এখনও নিজের কোনও উদ্ভাবনেরই পেটেন্ট নিতে পারেননি রুদ্রনারায়ণ। আর এ নিয়ে পড়েছেন মহা আতান্তরে।

রুদ্রনারায়ণের কিন্তু প্রযুক্তি নিয়ে প্রথাগত পড়াশোনার কোনও সার্টিফিকেট নেই। বরং তিনি কলাবিভাগের স্নাতক। তবে প্রযুক্তির প্রতি ওঁর আকর্ষণ ছোটবেলা থেকেই। ওই অমোঘ টানেই রুদ্রনারায়ণ বের করে ফেলেছেন এমন বেশ কিছু অভিনব ডিভাইস, যা আমাদে‌র প্রতিদিনের আটপৌরে জীবনে কাজে লাগবে। যেমন, তিনি উদ্ভাবন করেছেন বাইকের নিরাপত্তার জন্যে সেফটি অ্যালার্ম, রেলওয়ে সেফটি ডিভাইস কিংবা অ্যাকসিডেন্ট অ্যালার্ম সিস্টেম।

রুদ্রনারায়ণের বসবাসের সুন্দরপুর জায়গাটা হল ধানবাদ জেলায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আছেন বাবা-মা, দাদা আর বউ ও তাঁর ছেলেমেয়েরা। রুদ্রনারায়ণের বাবা ছিলেন পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনীয়ার।

ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করতে ভাললাগত রুদ্রনারায়ণের। বাড়ির ছোটছেলের এই শখ নিয়ে কেউ কখনও বাধা দেননি। ফলে রুদ্রনারায়ণ ক্রমে মজে গিয়েছেন প্রযুক্তির আশ্চর্য দুনিয়ায়। এই চর্চারই ফসল তাঁর নিজের উদ্ভাবনগুলি।

রুদ্রনারায়ণ বললেন, এখন আমি যে সমস্ত আইডিয়াগুলি নিয়ে কাজ করছি, পৃ্থিবীতে সেটা আমার আগে কেউই করেননি। প্রায় ৪০ ধরনের আইডিয়া নিয়ে আমার নতুন নতুন কাজগুলি মানুষের কাজে লাগবে বলে ননে করি। প্রসঙ্গত, বলে রাখা ভাল, নিজের প্রতিটি উদ্ভাবনই যেন গোটা সমাজের উপকারে লাগে এটাই রুদ্রনারায়ণের গবেষণার প্রধান লক্ষ্য। যেমন, হেলমেটে তিনি এমন ডিভাইস ব্যবহার করছেন – যেটির কাজ হল পথেঘাটে বাইক আরোহী বিপদে পড়লে সেই সঙ্কেত বাইক আরোহীর পরিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

স্বভাবতই রুদ্রনারায়ণ চান তাঁর উদ্ভাবনগুলি সাধারণ মানুষের গোচরে আসুক। তিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন – তাতে এ দেশের সাধারণ নাগরিকরা উপকৃত হোন। এ জন্য তিনি CIMFR (Central Institute of Mining and Fuel Research, Dhanbad) ও NIF (National Innovation Foundation) –এর কাছে নিজের গবেষণা‌র কাজে মদত চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে হতাশ হয়েছেন।

রুদ্রনারায়ণের কথায়, ওই দুই সংস্থাই আমার কাজের বিনিময়ে কোনও আর্থিক সহায়তা করবে না বলে জানিয়েছে। এছাড়া, আমার উদ্ভাবনগুলি যে চুরি যাবে না অথবা কেউ নকল করে ফেলবেন না – এ ব্যাপারেও আশ্বস্ত করার মতো কোনও প্রতিশ্রুতিও ওঁরা আমায় দেননি।

ফলে রুদ্রনারায়ণ এখনও একলা চলছেন। ভারতের মতো বিরাট দেশে প্রতিভাবান নাগরিকের অভাব ছিল না কোনওকালেই। কিন্তু বাস্তব হল – বহুক্ষেত্রেই এঁরা কোনও রকম সহযোগিতা না পেয়ে পেয়ে শুকিয়ে যান। শেষপর্যন্ত হারিয়ে যান জনারণ্যে। স্বীকৃতি জোটে না তাঁদের উচ্চাকাঙ্খার। স্বীকৃতি পায় না ওঁদের মেধাও।

রুদ্রনারায়ণ মুখার্জিও এখন তেমনই একটি অনাদৃত নাম। হয়তো শেষপর্যন্ত তিনিও এককভাবে এঁটে উঠবেন না জীবনের অসম লড়াইয়ে।