শিক্ষা চক্রের সবকটি দিকে নজর দেয় Pleolabs

0

শিক্ষা ভারতে একটি বড় বাজার। গত কয়কবছর বিভিন্ন স্টার্টআপ, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষার বাজারে একটা পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছে, চেষ্টা করছে শিক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনগুলিকে মেটানোর। তবে এখনও অবধি এক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট অভিমুখ স্থির করা যায়নি। বাজারের দিকে তাকালেই সেটা স্পষ্ট হয়, প্রতিটি কোম্পানিই নিজের নিজের মতো করে কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে, তৈরি করছে বিভিন্ন প্রোডাক্ট, তবে এগুলি একটি নির্দিষ্ট চাহিদাই পূরণ করে।

প্লেওল্যাবস (Pleolabs) তাই এমন একটি প্রোডাক্ট তৈরি করতে উদ্যোগী যাতে একটি প্রোডাক্টই স্কুলের শিক্ষাচক্রের যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়। দিল্লি ভিত্তিক এই সংস্থার শুরু ২০১২ তে। একবছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করে তারা তাদের সোশ্যাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করে। এই প্ল্যাটফর্মে গোপ্লেওয়ের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্রছাত্রীদের অগ্রগতি, তাদের সঙ্গে আদানপ্রদান, প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর প্রয়োজন বুঝে তাকে এগোতে সাহায্য করা ইত্যাদি সবই করতে পারেন। শিক্ষার প্রতিটি দিককে সংযুক্ত করে গোপ্লেও, এবং তার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অগ্রগতির পুরো ছবিটিই পাওয়া যাবে।

প্লেওল্যাবসের শুরু

আড্ডার আসরেই জন্ম প্লেওল্যাবসের। ক্ষিতীশ, আইআইটি দিল্লির প্রাক্তনী এবং যশ একসঙ্গে স্কুলে পড়তেন, এক সান্ধ্যভোজের আসরে দেখা হয় দুই বন্ধুর। ক্ষিতীশ তখন বুজ এন্ড কোম্পানিতে কনসালট্যান্ট, যশ আইনি ফার্মগুলির জন্য একটি প্রযুক্তি স্টার্টআপ চালাচ্ছেন। “আড্ডায় খুব স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছিল আমাদের নিজেদের স্কুলের দিনের কথা। আর তা থেকেই এমন কিছু একটা করার ভাবনা মাথায় আসে যেটা স্কুল বা কলেজের প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতিটাকেই বদলে দিতে পারবে, এবং শিক্ষাচক্রকে উন্নত করতে সাহায্য করবে”, বললেন ক্ষিতীশ।

টিম তৈরি

ক্ষিতীশ জানালেন, “একটি উপযুক্ত টিম তৈরি করা ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা. শিক্ষা সম্পর্কে প্যাশনেট এবং নিজেদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দৃঢ় ও স্বচ্ছ মানুষদের সঙ্গে পাওয়ায় আমাদের কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল”।

ইউএসপি

বর্তমানে অন্য যারা শিক্ষায় প্রযুক্ত ব্যবহারের চেষ্টা করছেন প্রত্যেকেই খুব বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্নভাবে একটি নির্দিষ্ট দিক নিয়ে কাজ করছেন। শিক্ষা চক্রের একটি নির্দিষ্ট জায়গা যেমন পরিকল্পনা, যাচাই, অগ্রগতি বা বিশ্লেষণ ইত্যাদি যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে কাজ করে। ক্ষিতীশ বললেন, “সমস্যা হল বাজারের প্রতিটি কোম্পানিই একটি বা দুটি দিককে বেছে নিয়ে কাজ করে, কিন্তু এই সবকটিই একসঙ্গে থাকতে পারে, গোপ্লেওতে আমরা সেটিই করি, আর সেখানেই এটি বাকিদের থেকে আলাদা”।

পরিষেবা

মাসিক সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে পরিষেবা পাওয়া যায়। অভিভাবকরাও লগ-ইন করে তাঁদের সন্তানের লেখাপড়ার সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, আগামীর পরীক্ষা বা স্কুলের অন্য কোনও ইভেন্ট সম্পর্কে জানতে পারেন। এসএমএস ও ইমেল অ্যালার্টেরও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট তৈরি করে দেয় প্লেওল্যাব ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকার পক্ষে সাহায্য করা সহজ হয়। শুধুমাত্র পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর নয়, একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক উন্নয়নের বিষয়গুলিকেউ ধরে প্লেওল্যাবস। শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের সহকর্মীর সঙ্গে বা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে লেসন প্ল্যান, প্রয়োজনীয় নোট ইত্যাদি আদান প্রদান করতে পারেন. যেকোনও জায়গা থেকেই এটি ব্যবহার করা সম্ভব।

চ্যালেঞ্জ ও অনুপ্রেরণা

বাজারে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করাটাই এখন চ্যালেঞ্জ, কারণ বিভিন্ন কোম্পানি একেকটি বিশেষ ক্ষেত্র ধরে কাজ করছে এবং সেখানে কোন নির্দিষ্ট মান নেই। আগামীদিনে স্কুল, কলেজ, এন্টারপ্রাইস ইত্যাদি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সবাইকেই নিজেদের গ্রাহক হিসেবে পেতে চায় এই কোম্পানি।

“আমাদের উদ্যোগের দুনিয়ায় আসার অন্যতম মূল কারণ যেসব ভাবনা কফির টেবিলে শেষ হয়ে যায়, বা গাড়ি চালাতে চালাতে বা অফিসে কাজ করার সময় আমার ভাবি এবং তারপর ভুলে যাই, সেগুলিকে বাস্তবায়িত করা”, বললেন ক্ষিতীশ।

লেখা- জয় বর্ধন

অনুবাদ- সানন্দা দাশগুপ্ত