অনলাইন শপিংয়ে ভরসা বাড়ায় ক্লাউডচেরি

0

একবার ভাবুন তো, অনলাইনে ঘড়ি অর্ডার করে সপ্তাহ কেটে গেলেও কোনও সাড়া শব্দ পাচ্ছেন না। অপনার অর্ডার সম্পর্কে না কোনও মেল, না ফোন, না নিদেনপক্ষে একটা এসএমএস। শেষ পর্যন্ত বিরক্তিই সার। এতসব ভোগান্তির কারণেই দাম বা অন্য কোনও ইউএসপি নয়, বরং গ্রাহকের সন্তুষ্টিই পণ্যের ব্র্যান্ড তৈরি করে বা নষ্ট করে। গ্রাহকের বাড়তে থাকা এবং বদলে চলা চাহিদার মেটানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, বদলের সঙ্গে তাল মেলানো এবং সব চাহিদা মেটানো। গ্রাহকের কথা ভেবেই ক্লাউডচেরির জন্ম। ক্লাউডচেরি গ্রাহকের কাছে ব্র্যান্ডগুলি রিয়েল টাইম, ওমনিচ্যানেল স্যাস বেসড কাস্টমার এক্সপিরিয়েন্স প্ল্যাটফর্ম যা গ্রাহককে ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানতে বুঝতে এবং গ্রাহকের কেনাকাটার আনন্দ বাড়ায়।

আমরা এখন এমন একটা যুগে রয়েছি যখন ক্রেতারা স্যোশাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। বিনোদ মুথুকৃষ্ণণ, ক্লাউডচেরির প্রতিষ্ঠাতা বুঝতে পেরেছিলেন, গ্রাহকের কথা তাদের কাছ থেকে ব্র্যান্ডগুলির সরাসরি শোনা উচিত। অন্যদিকে, গ্রহকরা যারা নিজেদের কথা শোনাতে চান, ব্র্যান্ডগুলির সঙ্গে সরাসরি যেন কথা বলতে পারেন। বিনোদ মনে করেন, এই প্রক্রিয়াটাই দক্ষতার সঙ্গে হওয়া উচিত। ব্যপারটা তখনই ঘটল যখন তিনি ভাবতে শুরু করলেন, ‘যদি এমন কোনও মঞ্চ তৈরি করে দিই যেখানে গ্রাহকের কথা ব্র্যান্ড ওনার এবং ম্যানেজার সরাসরি শুনতে পারবেন এবং যদি গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দক্ষতা থাকে’? বিনোদ কেরিয়ারের শুরুটা কাটিয়েছিলেন সাগরে Maersk Line এর সার্টিফায়েড ফার্স্ট অফিসার হিসেবে। একসময় এক ব্রেকে তিনি টিমের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। যখন শেষ হল তখন ওই টিমটাই তাঁর কোর টিম হয়ে গেল যা সারা বিশ্বের সেলস এবং পার্টনারশিপ দেখত। আবার নতুন করে শুরু করতে গিয়ে এবার ক্লাউডচেরির দিকে চালিত হলেন বিনোদ।

আজকাল ব্র্যান্ডকে নম্বর দিতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ক্লাউডচেরির ‘কি মেট্রিকস নেট প্রমোটর স্কোর’ এবং ‘ক্লাউডচেরি কাস্টমার ডিলাইট স্কোর’ ব্যবহার করছেন। বিনোদের মতে, আসল ব্যাপার হল, সহজ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লাউডচেরি একটা ব্র্যান্ডকে, গ্রাহক নিয়ে ২৪ ঘণ্টা রিয়েল টাইম ডাটা, মেট্রিকস এবং অ্যানালিসিস দিতে থাকে। আমাদেরটা হল ক্লিক-কনফিগার-ডেপ্লয় প্রোডাক্ট। ‘৩০ মিনিটেরও কম সময়ে কোনও ব্র্যান্ড টাচ পয়েন্টের গ্লোবাল নেটওয়ার্কে চলে যেতে পারে’, বলেন বিনোদ। তাঁর সংযোজন, ক্লাউডচেরির মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতিদিনই ব্র্যান্ডের কথা চলতে পারে। এই কথোপকথনটা নানা চ্যানেলে নানা সময়ে হতে পারে। ‘ব্র্যান্ড হিসেবে কথাবার্তা চলার সময় গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। সেই তথ্যের মাধ্যমে পণ্যের মান ঠিক করতে গ্রাহকদের দেওয়া পরামর্শ গ্রহণ করে। এটাই করতে সাহায্য করে ক্লাউডচেরি’, বলেন বিনোদ।

এক্সপেরিয়েন্টাল ডাটাসংগ্রহ করতে কোনও ব্র্যান্ড ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে তাদের প্রোডাক্ট নানা চ্যানেল যেমন দোকানের ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, ইমেল, এসএমএস, কিউআর কোড, আইভিআরএস এবং ওয়েবসাইটে দিতে পারে। এই ডাটা কেন্দ্রীভূত কোনও ড্যাশবেোর্ডে চলে যায়। সবকিছু রিয়েল টাইমে ঘটছে। সেটাই কোনও ব্র্যান্ডকে গ্রাহকের চাহিদা মেটানোর জন্য সারাক্ষণ তৈরি রাখছে। SaaS বেসড প্রোডাক্ট হওয়ায় মাসিক সাবস্ক্রিপশনেই চলে। এই বছরের শুরুতে ক্লাউডচেরির আলফা ভার্সান লঞ্চ হয়। তার আগেই টিম ক্লাউডচেরি নিজেদের পরিচিতি তৈরি করে ফেলে। তাদের দাবি, তখন থেকে ৪০টি ব্র্যান্ড ক্লাউডচেরিতে সাইনআপ করেছে। সাতশো পয়েন্ট নিজেদের উপস্থিতি রেখে এই বছরের শেষে দশ লক্ষেরও বেশি ইন্টারেকশন প্রসেসের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার। গত ৬ মাসে ফিডব্যাক কালেকশন মাসে মাসে ২০ শতাংশ করে বেড়েছে। ‘টিমটাকে এককাট্টা করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ভাগ্যবান কারণ, ফাউন্ডিং টিমটা দারুণ। আবেগ দিয়ে কাজ করে এবং সংস্থার প্রোডাক্ট অফারের গুরুত্বে বিশ্বাস করে’, বলেন বিনোদ।

কোর টিমে রয়েছেন নগেন্দ্র, যিনি বিনোদের প্রথম স্টার্টআপে সহ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বিজয়, যিনি প্রোডাক্টের ধারনা তৈরি করার মূলে। প্রেম, বিনোদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সংস্থার মার্কেটিং দেখেন। মার্কেট রিসার্চ, অ্যানালিসিস দেখেন বিদ্যা। সংস্থার প্রথম ফান্ড এসেছিল এনজেল ইনভেস্টর থেকে। তাছাড়া পরিবার এবং বন্ধুরাও যথেষ্ঠ সাপোর্ট দিয়েছে। প্রথম সাফল্যের পর টিম আইডিজি ভেঞ্চার ইন্ডিয়া এবং দ্য চেন্নাই এঞ্জেল থেকে ১০ লক্ষ ডলার পুঁজি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ক্যাপিলারি টেকনোলজি থেকেও স্ট্রেটেজিক ইনভেস্টমেন্ট পেয়েছে, যাদের প্রোডাক্ট নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ করেছে ক্লাউডচেরি।

দেশের বাজারে নেতৃত্বের স্থান অর্জনের পর বিদেশের বাজারেও পা রাখার ইচ্ছে রয়েছে ক্লাউডচেরির। ‘নিজেদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে চাই’, সদর্পে বলেন বিনোদ।

লেখক-সিন্ধু কাশ্যপ

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস