মায়াবিওসের দৌলতে পূর্বাঞ্চল দেখছে অন্য Reality

5
চোখের পর্দায় ফুটে উঠছে অদ্ভুত সব দৃশ্য। নিউটাউনের ১৪ তলার জানলা দিয়ে ঢুকে পড়ছে একটা আস্ত গাড়ি। আপনি চাইলে ছুঁয়ে দেখতে পারেন। নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখতে পারেন আপনি স্বপ্ন দেখছেন কিনা, কিংবা চিৎকার করে বলতেই পারেন 'গাড়ি টা থামাও আমি নেমে যাবো।' আপনি স্বপ্ন এবং বাস্তবতার এমন বর্ডার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে আপনি কখন যে পরা-বাস্তবতায় ঢুকে পড়বেন আপনার সঙ্গী সেটা টেরও পাবেন না।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি আর অগমেন্টেড রিয়ালিটি নিয়ে দুর্দান্ত সব কাজ করছে কলকাতার কয়েকটি স্টার্টআপ। বাঙালি ছেলে মেয়েদের মধ্যে সৃজনশীলতা এবং কারিগরি দক্ষতা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি থাকে বলে যে জনশ্রুতি আছে তা এখন প্রমাণ দিতে শুরু করেছে। কলকাতার বেশ কয়েকটি স্টার্টআপ সংস্থা হাতা গুটিয়ে লেগে পড়েছে তুলনায় নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবসা করার কাজে। তাদেরই একজন অখিল বন্ধুর মায়াবিওস আর্ট। পূর্ব ভারতে যে সংস্থাগুলি অগমেন্টেড রিয়ালিটি নিয়ে কাজ করছে তাদের মধ্যে সব থেকে সফল মায়াবিওস। গোটা দেশে ছ‌ড়িয়ে পড়েছে তাদের ক্লায়েন্টেল। মূলত রিয়েল এস্টেট সংস্থার জন্যে প্রেজেন্টেশন, ব্রোশিওর বানিয়ে দিত অখিলের সংস্থা। সেই কাজের ভ্যালু অ্যাডিশন হিসেবে বছর তিনেক আগে শুরু হয়েছিল ভার্চুয়াল রিয়ালিটির প্রয়োগ। মায়াবিওসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অখিল বন্ধু পাল বলছিলেন, গত তিন বছরে এই সেগমেন্টে তারা যথেষ্ট ব্যবসা করতে পেরেছেন। তাদের মৌলিক ব্যবসা ছিল ডিজিটিয়াল মিডিয়া। ওয়েব সাইট ডিজাইনিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনিং দিয়ে কাজ শুরু হয়। পরে সেভ নামের একটি গ্রাফিক্স এবং অ্যানিমেশন স্কুল খুলে ফেলেন, কাজ যেমন যেমন ভাবে এগিয়েছে ধীরে ধীরে পল্লবিত হয়েছে তাদের পরিষেবা। সফ্টঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট থেকে শুরু করে অ্যাপলিকেশন ডেভেলপমেন্ট, গেমিং সলিউশন, অ্যাডভারটাইজমেনট ফিল্ম রোল, স্পেশাল এফেক্টস স্টুডিও। ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরে মায়াবিওস আর্ট। ২০১৪ সালে ভারতীয় সিনেমায় বিশেষ অবদানের জন্যে দাদা সাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভাল অ্যাওয়ার্ডের সম্মানও রয়েছে ওদের মুকুটে। এছাড়াও দুর্দান্ত কাজের জন্যে গত কয়েক বছরে দেওয়াল জোড়া অগুনতি সার্টিফিকেট পেয়েছে মায়াবিওস। অখিল বলছিলেন, ওদের নানান অভিজ্ঞতার কথা। অগমেন্টেড রিয়ালিটির নানান প্রয়োগের কথা। মূলত বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে কীভাবে অগমেন্টেড রিয়ালিটির চাহিদা বাড়ছে। গেমিং এবং এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতেও AR VR-এর কদর আছে। এই ধরণের কাজের ডাক আসছে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি থেকে। গোটা দেশ জুড়ে ওদের ক্লায়েন্ট ছড়িয়ে রয়েছে। বহুজাতিক সংস্থারাও তাদের প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের জন্যে ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে নিয়মিত।

TechSci এর রিপোর্টের প্রজেকশন অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০২১ এর মধ্যে ভারতে অগমেন্টেড রিয়ালিটি এবং ভারচুয়াল রিয়ালিটির বাজার হবে CAGR ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৫ সালে ভারতে ৫০১ কোটি মার্কিন ডলারের গেমিংয়ের বাজার ছিল। ২০২১ এর মধ্যে এই বাজারের আয়তন বেড়ে দাঁড়াবে ৭৯২ কোটি মার্কিন ডলার। বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ে AR এবং VR নিয়ে বেশ অনেকগুলি সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে মায়াবিওস ছাড়া হাতে গোণা দু-একটি সংস্থাই এই বাজারটা ধরার কাজ করছে। এদের মধ্যে ছোটো ছোটো নতুন কয়েকটি স্টার্টআপ সংস্থাও এগিয়ে এসেছে এই বাজার ধরার লক্ষ্যে। কিন্তু ব্যবসা টানার আয়তনে কিংবা কাজের দক্ষতার বিচারে মায়াবিওসই মার্কেট লিডার। আশা করা যায় আগামিদিনে এই সেগমেন্টে দুর্দান্ত অগ্রগতি দেখাবে সৃজনশীল বাংলা আর শিল্পীদের কলকাতা।

Related Stories