জিঞ্জারক্রাশে বিনিয়োগ করলেন মোহনদাস পাই

0

ওয়াইএস বাংলা

আজকের ইন্টারনেট-পাগল প্রজন্মের কাছে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দই শেষ কথা। তাই তাদের মন পেতে গেলে যে কোনও ব্র্যান্ডকেই ব্যক্তিবিশেষের চাহিদার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতে হবে।


রাজভি আর সৌম্য
রাজভি আর সৌম্য

ভদোদরার জিঞ্জারক্রাশ এমনই একটি স্টার্টআপ যা জেনারেশন ওয়াই গ্রাহকদের কাছে আদর্শ। এর পিছনে রয়েছেন টি ভি মোহনদাস পাই। এবার মূলত তাঁর পরামর্শেই সংস্থার শীর্ষকর্তারা এবং সিনিয়র ম্যানেজাররা কাজ করবেন যাতে সাংগঠনিক নেতৃত্ব বলিষ্ঠ হয় এবং সংস্থার প্রসার ঘটে। সংস্থার প্রকাশিত প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, “ মোহনদাস পাইয়ের মতে, অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেই ইন্টারনেটকে দেখতে চায় জেন ওয়াই। তাঁর এই জীবনদর্শনই জিঞ্জারক্রাশের ভিত্তি। ”

এর আগে জিঞ্জারক্রাশ গোকুল জয়কৃষ্ণ এবং ব্র্যান্ড ক্যাপিটালের নেতৃত্বে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার লাভ করেছিল। রাজভি মাকোল আর সোম্য নিধি ২০১৫ সালে জিঞ্জারক্রাশ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি B2C অর্থাৎ গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর রিটেল প্ল্যাটফর্ম। এখানে গ্রাহকরা তাঁদের পছন্দমতো বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারেন।

তবে এই ব্যবসায়ী দম্পতির আগে থেকেই স্বদেশ এসফিল নামে B2B firm রয়েছে। বিশ্বের ডজন খানেক ব্র্যান্ডের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে ওই সংস্থা। গত বছর ৭.৫৮ কোটির রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে স্বদেশ এসফিল।


মোহনদাস পাই
মোহনদাস পাই

তাহলে হঠাৎ জিঞ্জারক্রাশেই বাজি ধরলেন কেন ? জবাবে মোহনদাস বললেন, নতুন প্রজন্মের গ্রাহকদের কাছে টানার কৌশলেই লুকিয়ে রয়েছে ব্ৰ্যান্ডের ফুলেফেঁপে ওঠার রহস্য। আজকের গ্রাহকরা সেই ব্র্যান্ডকেই বেছে নেন যাঁর সঙ্গে তাঁরা একাত্ম হতে পারেন।কাজেই তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে পারলেই গ্রাহকদের আনুগত্য লাভ করতে পারবে ব্ৰ্যান্ড। আমার মনে হয় ব্র্যান্ডের সঙ্গে গ্রাহকদের সেই নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের মঞ্চই হল জিঞ্জারক্রাশ।

আর আমি বিশ্বাস করি এই প্ল্যাটফর্ম ব্র্যান্ডগুলিকেও গ্রাহককে কাছ থেকে চেনার সুযোগ করে দেয় একইসঙ্গে শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ড বেছে নেওয়াও সহজ হয়।

জিঞ্জারক্রাশের সিইও রাজভি বলেন, শ্রী পাইকে বোর্ডের উপদেষ্টা হিসেবে পেয়ে আমরা খুব উৎসাহিত।ওনার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা আর পরামর্শে আমরা ভীষণভাবে উপকৃত হব।

জনপ্রিয় সিনেমা, হলিউড-বলিউড, টিভি শো, কৌতুক চরিত্র এবং ক্রীড়াবিদদের নিয়ে মানুষের উৎসাহের অন্ত নেই। তাই এসব ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগও প্রচুর।

গ্লোবাল লাইসেন্সিং এবং ব্ৰ্যান্ডিং ইন্ডাস্ট্রির শেষ কথা লিমা’র রিপোর্ট বলছে, ট্রেডমার্ক এবং কার্টুন চরিত্রের উপমা সম্বলিত সামগ্রী, কর্পোরেট লোগো, ব্ৰ্যান্ড, বড় বড় স্পোর্টস টিম ইত্যাদির মোট রাজস্ব আয় এবং বিক্রি ২০১৪ সালে যথাক্রমে ১৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৪১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাঁড়িয়েছে।

ভারতে প্রিন্টভেনু, জুমিন, ভিস্টাপ্রিন্ট এবং ভক্সপপের মতো সংস্থা এর ফলে অতীতে অনেক আয় করেছে। সূত্রের খবর, ভক্সপপ মাসে ২ কোটি থেকে ২.৫ কোটি গড়ে আয় করে।

এর প্রেক্ষিতে এটা বলাই যায় যে জিঞ্জারক্রাশের ভবিষ্যত উজ্জ্বল।

লাইসেন্সিংয়ের অর্থ, ব্ৰ্যান্ডের হাতে কপিরাইট রেখে সেটির ডিজাইন বা ছবি অন্যদের ব্যবহার করতে দেওয়া। এটি একটি আইনি চুক্তি যার বলে ব্র্যান্ডের মালিক নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়সীমায় উৎপাদক বা খুচরো বিক্রেতাদের ব্র্যান্ডের ডিজাইন বা ছবি ব্যবহারের সুযোগ দেন।

Website

(মোহনদাস পাই ইওরস্টোরির অন্যতম বিনিয়োগকারী)

অনুবাদ শিল্পী চক্রবর্তী