Riverside Farm এ পাওয়া যাবে বিষহীন সবজি-মাছ

0

আপনি খুব ভালো করেই জানেন যে আপনি যা খাচ্ছেন তাতে বিষ আছে। বাজার থেকে যে সব সবজি কিনছেন সে গুলোয় মিশে থাকছে বিষাক্ত সব রাসায়নিক। সবুজ সবজিকে আরও সবুজ করতে মেশানো হচ্ছে রং। ক্ষেতের সবজিতে যাতে পোকা না ধরে তাই দেওয়া হচ্ছে কড়া ডোজের কীটনাশক। সেসব মিশে যাচ্ছে সবজিতে। মাছের বৃদ্ধির জন্যেও ব্যবহার হচ্ছে যথেচ্ছ রাসায়নিক হরমোন। খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আপনার রক্তে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জিন। আপনিও বদলে যাচ্ছেন। মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। খিটখিটে হয়ে যাচ্ছেন, লোকে বলছে আজকাল বুড়ো বুড়ো লাগে। অন্যদেরও আপনার কেমন যেন বিষণ্ণ ঘোড়ার মত ক্লান্ত লাগছে আজকাল। রোগের ভয় আছে। আপনিও জানেন আপনার শক্তি কমছে। হজমের শক্তি আর আগের মতো নেই। দৃষ্টি শক্তি কমছে। জীবনী শক্তিও হয়ত কমছে রোজ। আর এসব আপনি খুব ভালো করে জানেন কেন হচ্ছে। কিন্তু উপায়ান্তর না পেয়ে রোজ সকালে ছুটছেন সবুজের সন্ধানে। চোখ কে মন ঠাট দিয়ে বাজারের থলে ভরে ভরে বিষ কিনে আনছেন রোজ।

আজ আপনাদের একটা উপায় বাতলে দিই। জীবনে বরং একটু জীবন যোগ করুন। খান শুদ্ধ খাবার। অর্গানিক ফুড। বিষহীন। সেই সব সবজি খান যেগুলো সবুজ করতে সবুজ রঙ মেশানোর প্রয়োজন পড়ে না। চাষের সময় কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। কীটনাশক প্রয়োগ হয় না। বাইরে থেকে কোনও বাড়তি উপাদানের প্রয়োজন পড়ে না। খান সেরকম সবজি। খান রাসায়নিক হীন মাছ। ভাবছেন তো কোথায় পাবেন?

উত্তরপাড়ার দোলতলায় রিভারসাইড ফার্মে যেতে পারেন। সেখানে অ্যাকোয়াপনিক পদ্ধতিতে অর্গানিক ফার্মিং হয়। তিনটি বড় চৌবাচ্চায় মাছের চাষ চলছে। কই, মাগুর এসব মাছের চাষ। কোনও রাসায়নিক ছাড়াই সেই সব মাছ চাষ চলছে গত আড়াই বছর ধরে। এক একটি চৌবাচ্চায় সত্তর আশি কিলো মাছের ধারণ ক্ষমতা। হিসেব করে মাছকে খাবার দেওয়া হয়। সকালে দুপুরে বিকেলে তিন বেলা। শুধু এটুকুই বাইরে থেকে দেওয়া হচ্ছে এই অ্যাকোয়াপনিক ইকোসিস্টেমে। বাকিটা প্রকৃতির নিয়মেই তৈরি হচ্ছে নাইট্রেট সার। মাছের জৈব বর্জ্য ধোয়া জল ছেঁকে সেই জলে চাষ চলছে। ভাসমান থার্মোকলে লাগানো রয়েছে সার বদ্ধ ছোটো ছোটো টব। এক একটি টবে এক একটি চারা। ওখানে দেখে এলাম চাষ হচ্ছে, টোম্যাটো, স্ট্রবেরি, ফুলকপি, পালং শাক, গুজ বেরি, পুদিনা পাতা, ধনে পাতার মত যাবতীয় সবজি। আলাপ হল রিভার সাইড ফার্মের মালিক অজয় ব্যানার্জির সঙ্গে। ওর সাফ কথা, বিষ হীন খাবার এবার খাওয়াবেন ওরা। চাষ তো চলছেই। শুরু হয়েছে সেই সবজি বিক্রির কাজও। খুব শিগগিরই এইসব সবজি দিয়ে রান্না করা খাবারও পাওয়া যাবে ওদের এই ফার্ম লাগোয়া রেস্তোরাঁয়। গঙ্গার পাড়ে প্রকৃতির মুখোমুখি বসে নিতে পারবেন অমৃতের স্বাদ।

এখানেই দেখা হল অনীশ দাগা নামে আরও এক কৃষকের সঙ্গে। অনীশের সংস্থার নাম অ্যাকোয়া ফ্লোরা ফার্ম। উদ্যোগপতি কৃষক অনীশ বললেন অ্যাকোয়াপনিক পদ্ধতিতে তিনি ফলাচ্ছেন প্রায় সব ধরণের সবজি। সেই সব সবজি বিক্রি করছেন অনলাইন মার্কেট প্লেসের মারফত। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মাছেরও চাষ চলছে। এই চাষে তিনি দারুণ দক্ষ। অ্যাকোয়াপনিক চাষের কনসালটেন্সিও করছেন। এবার রিভারসাইড ফার্মের কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে অনীশের ফসলও। মাছও পাওয়া যাবে এই কাউন্টারে। কই তো আছেই পাওয়া যাবে রুই, কাতলা, মাগুর। চিংড়ির চাষও করবেন ওঁরা। আপাতত বাজার দরের থেকে সামান্য বেশি। তবে উৎপাদন বাড়লে, উৎপাদকের সংখ্যা বাড়লে এই সব বিষমুক্ত ফসলের দাম হু হু করে কমবে। বাজার দরের থেকে অনেক কমেই দেওয়া যাবে সবজি মাছ। চাষের জমি থেকে ক্রেতার রান্নাঘরে পৌঁছতে আরও কোনও তৃতীয় হাত ঘুরবে না। আপনি পাবেন ফ্রেশ ফ্রম ফার্ম। বললেন অজয় ব্যানার্জি।

সংস্থার একগাদা কর্মসূচি রয়েছে। অনেক স্বপ্ন। উত্তরপাড়া দোলতলায় গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোডের পাশে গঙ্গার পাড়ে এই ফার্মে আপনি একটা শুদ্ধ পৃথিবীর দেখা পাবেন। মন ভালো করে দেওয়া কৃষিকাজ। বাড়ি বাড়ি চাষের ব্যবস্থাও করে দিতে চান ওরা। বলছিলেন ওদেরই প্রশিক্ষিত কর্মীরা বাড়ি গিয়ে চাষের সমস্ত বন্দোবস্ত করে দিতে পারবেন। এক ছাতার তলায় আরও অনেক অ্যাকোয়াপনিক কৃষককে নিয়ে তৈরি হবে একটি বৃহদায়তন সংগঠনও। ইজরায়েলি প্রযুক্তির এই চাষ বাংলার জল বাতাসে দারুণ হবে আশা রাখছেন অজয় এবং অনীশ।