হায়দরাবাদে মুদির দোকানেও ই-কমার্স

0

খাদ্যদ্রব্য-সহ প্রয়োজনীয় জিনিস। কোটি-কোটি ভারতবাসী বাড়ির পাশের মুদির দোকানেই গিয়ে থাকেন। টাকা দেন, জিনিস নেন। ক্রেতা আর বিক্রেতার বহুকালের চেনা ছবি। ছোট-ছোট এইসব মুদির দোকানে (যা কিরানা স্টোরস নামেও পরিচিত)বিকিকিনির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। ২০১১ সালে গ্রামে থাকাকালীন এক বন্ধুর মুদির দোকানে গিয়েছিলেন কিরণ গালি। সেই সময় একটা আইডিয়া তার মাথায় আসে। এইসব দোকানিদের জন্য কিছু করলে কেমন হয়। এমন কিছু করতে হবে যাতে এইসব দোকানিদের জরুরি কাজগুলো সহজ হতে পারে, সময়ের সাশ্রয় হতে পারে। সেই ভাবনারই ফসল NumberMall app. এমন এক অ্যাপ্লিকেশন যার মাধ্যমে কোন জিনিসের কতটা মজুত প্রয়োজন তা সহজেই বুঝতে পারবেন দোকানদার।সেইমতো তাদের সেইসব জিনিস সহজেই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মুদির দোকানকেও ই-কমার্সের আওতায় আনা। দোকানিদেরও প্রযুক্তির সুফল তথা স্বাদ দেওয়া। ভাবনাকে কাজে রূপ দিতে দেরি করেননি কিরণ। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একক উদ্যোগেই ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করেন NumberMall. কিরণের বক্তব্য, হায়দরাবাদে তার গড়ে তোলা এই নাম্বার মল'ই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের প্রথম প্রযুক্তি-নির্ভর, অল-ইন-ওয়ান পেমেন্টস অপশন। আবার একই প্ল্যাটফর্ম থেকে মোবাইলের মাধ্যমে সিটিজেন সার্ভিসেরও ব্যবস্থা। মোবাইলের বিল পেমেন্ট, ডিটিএইচ রিচার্জ, ডেটা কার্ড রিচার্জের মতো হরেক সুবিধা।


কিরণের বিজনেস মডেল

কিরানা স্টোরসগুলির জন্য তার এই উদ্যোগকে বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ই-কমার্স মার্কেট প্লেস হিসাবেই দেখছেন কিরণ। কীভাবে কাজ করছে এই প্ল্যাটফর্ম? কিরানা স্টোরসগুলি তাদের যে যে জিনিস লাগবে তার তালিকা পাঠাচ্ছে। সেই জিনিস সবচেয়ে সস্তায় তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এজন্য ৫০টিরও বেশি পাইকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া গড়ে তুলেছে কিরণের সংস্থা। অর্থাৎ পাইকারি বিক্রেতার সঙ্গে খুচরো বিক্রেতার যোগসূত্র হিসাবে কাজ করছে নাম্বারমল।যেখানে উভয়পক্ষেরই লাভের পরিমাণ বাড়ছে, বাঁচছে শ্রম ও সময়।


NumberMall-এর প্রতিষ্ঠাতা কিরণ গালি
NumberMall-এর প্রতিষ্ঠাতা কিরণ গালি

ভারতে নগদ টাকা দিয়ে কেনাকাটিতেই অভ্যস্ত ক্রেতারা। খুচরো বিক্রেতাদের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এই শ্রেণির ক্রেতাদেরও ই-কমার্সে আনতে উদ্যোগী হয়েছে নাম্বারমল। এইসব ক্রেতারা অনলাইন শপিং না করায় প্রাইস বেনিফিট পান না। ঠিক এখানটাতেই নজর দিয়েছেন কিরণ। ছোট-ছোট খুচরো বিক্রেতাদের মাধ্যমে এই শ্রেণির ক্রেতাদের নাগালে আনতে চান তিনি। অর্থাৎ শুধু ছোট দোকানদার নয়, সাধারণ ক্রেতাকেও ই-কমার্সে ঢুকিয়ে নেওয়া। ইতিমধ্যেই ১৫ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তি হয়ে গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে এই ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর ব্যবসার পরিমাণ? বছরে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা। পড়ে রয়েছে একটা বিরাট বাজার। সেই বাজারে স্টার্টআপগুলি এখনও সেভাবে নজর দেয়নি বলেই মনে করেন কিরণ গালি।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

তাঁর বিজনেস মডেলের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কিরণ জানান, "মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক থেকে ক্রেতা, সকলের জন্যই বিভিন্ন সুযোগসুবিধা করে দেওয়াটাই এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য। আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে যারা জিনিস বিক্রি করেন তাদের থেকে আমরা একটা মার্কেটিং ফি নিয়ে থাকি। খুব শিগগিরই নামি ব্র্যান্ডগুলোও আমাদের স্টোরের মাধ্যমে তাদের জিনিস সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন"। কিরণের এই উদ্যোগে যথেষ্ট সাড়াও মিলেছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই অ্যাঞ্জেল ইনভেস্ট হিসাবে SRI Capital থেকে ৫ কোটি টাকা পেয়েছে তাঁর সংস্থা। এই টাকা কাজে লাগান হয়েছে মার্চেন্টস নেটওয়ার্ক, প্রফেশন্যাল টিম গঠন, প্রযুক্তির কাজে। কিরণের সংস্থার বর্তমানে বার্ষিক টার্নওভার ১২০ কোটি। মাসিক বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ। এই বৃদ্ধির হারকে মাসিক ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়াটাই এখন কিরণের লক্ষ্য।