অ্যাকুইজেশনের নাড়ি নক্ষত্র

0

২০১৬-তে ভারতের ই-কমার্স সেক্টরের সবচেয়ে বড় খবর এটাই যে, ফ্লিপকার্টের মালিকানায় থাকা সংস্থা মাইন্ত্রা ৭০ মিলিয়ন ডলারে জ্যাবংকে অ্যাকুইজিশন করেছে। ফ্লিপকার্ট মোটে তিন দিনের ভিতর এই বিষয়টি পাকা করেছিল বলে খবর।

ভারতে স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে ই-কমার্স-এর ভাবমূর্তি হল পোস্টার বয়ের। ইয়োর স্টোরির তরফ থেকে বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ বছরে যে কটি সংস্থা অ্যাকুইজিশনে গিয়েছে তার বিচার-বিশ্লেষণের নিরিখে ইয়োর স্টোরি দেখেছে আখেরে ব্যাপারটার ফলাফল কী।

অনলাইন ফ্যাশান পোর্টালগুলি ২০১৬-তে দারুণ ভালো ব্যবসা করেছে। ফ্যাশন ডিসকভারি এবং মার্কেট প্লেস সংস্থা ভুনিক এর ফলে এককভাবে ৫টি স্টার্ট আপের অ্যাকুইজিশন করেছে। এব্যাপারে ভুনিকের তরফে বলা হয়েছে. আমাদের তরফে ওই স্টার্ট আপগুলিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁরা যেন নিজেদের প্রযুক্তি ভুনিকের ছাতার তলায় আরও উন্নত করেন। কোনওক্ষেত্রেই ওই সংস্থাগুলির সম্পত্তি নিয়ে নেওয়া হয়নি বলে ভুনিকের তরফে জানানো হয়েছে।

আসলে যে সমস্ত ভারতীয় সংস্থা অ্যাকুইজিশনে গিয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় ফান্ড তৈরি করতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে. উবারকে নিয়ে নিতে পারে ভারতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা ওলা। এক্ষেত্রে বাজারে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার আকচা-আকচি কমবে। তবে এই ব্যাপারটি এখনও সরকারিভাবে সমর্থিত তথ্য নয়। উল্লেখ্য, এর আগে উবার কিনে নিয়েছিল মেরু ক্যাবকে।

মাইন্ট্রার জ্যাবংকে নিয়ে নেওয়ার ঘটনাটিও আর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এর আগে জ্যাবং টানা দুবছর পুঁজির অভাবে ভুগেছে। এখন অ্যাকুইজিশনের ফলে জ্যাবং পুনরুজ্জীবন পেয়েছে বলা যেতে পারে। অন্যদিকে, রকেট (ইন্টারনেটের ফ্যাশন পোর্টাল) তীব্র আর্থিক সঙ্কটে থাকায় সেটিকে অ্যাকুইজিশনের ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে স্ন্যাপডিল।

এছাড়াও ২০১৬তে অ্যাকুইজিশন সংক্রান্ত নানান খবরাখবর মিলেছে। ফ্লিপকার্ট যেমন শপ ক্লু-কে অ্যাকুইজিশন করার ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছে। ওয়ালমার্ট কিনে নিয়েছে জেট কম। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ আগে চিনের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সংস্থা আলিবাবা নিয়ে নিয়েছে লাজাডাকে। এক্ষেত্রে ভ্যালুয়েশন ছিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার।

আবার ব্যাঙ্গালুরুর মোবাইল পেমেন্ট সংস্থা মোমোই আবার অ্যাকুইজিশনে গিয়েছে দিল্লির সং‌স্থা শপ ক্লু-এর মাধ্যমে। বাতাসে খবর এটা ১০ মিলিয়নের অ্যাকুইজিশন।

অ্যাকুইজিশনের পরে সংস্থার বাণিজ্য বেড়ে চলার সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কার্যত এই উদ্দেশ্যেই অ্যাকুইজিশন করা হয়ে থাকে। গত ১২ মাসে ই-কমার্স ক্ষেত্রগুলির প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়ন ঘটেছে। ২০১৭-তে এই ধারা বজায় থাকবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন।