Blogging থেকে Business! গল্প নয়, সত্যি!

0

"আপনি কী করেন?"

"আমি নিয়মিত ব্লগ লিখি।"

"খুব ভালো। কিন্তু আপনার পেশাটা কী?"

আপনি যদি একজন পূর্ণ সময়ের ব্লগার হন, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়তো আপনাকেও হতে হয়। ব্লগ লেখেন সে ঠিক আছে, রোজগার কিছু হয় কী? প্রশ্নটা আপত্তিকর আর উত্তর খানিকটা হলেও অস্বস্তিকরই হয়ে দাঁড়ায়। আসলে গোড়াতেই গণ্ডগোল। ব্লগিংকে নিছকই হবি বা শখ মনে করা হয়, কেরিয়ার নয়। যারা লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাননি, শেষ চেষ্টা হিসাবে তারাই ব্লগ লিখে থাকেন, এমনটাও মনে করা হয়। কিন্তু ডিজিটাল বিপ্লব সব বদলে দিয়েছে। ব্লগ লিখেই আপনি অনেক কিছু করে ফেলতে পারেন। ধরুন একটা ভার্চুয়াল ব্যবসা। সেই ব্যবসার আপনিই কর্তা। CEO বলে যদি কেউ থাকেন সে আপনার কম্পিউটারের কি বোর্ড।


ডিজিটাল জগৎ যে দ্রুত বদলে যেতে চলেছে তা অনেকেই বুঝতে পারেননি। কিন্তু কেউ-কেউ তা পেরেছিলেন। নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে তারা এর পিছনেই লগ্নি করেন। নিঃশব্দেই গড়ে তোলেন ব্লগ এবং ওয়েবসাইট সাম্রাজ্য। ইয়োর স্টোরির পাঠকদের জন্য তেমনই পাঁচটি কোম্পানির খবর, যার ভিত্তি ব্লগিং।

Kunzum (কুনঝাম)

ভ্রমণ সম্পর্কিত বিষয়ে একদিন এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। নিজের এমন একটা স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন অজয় জৈন। সেই লক্ষ্যেই আমব্রেলা ব্র্যান্ড হিসাবে জন্ম নেয় কুনঝাম। প্রথমে এটি ছিল এক ট্রাভেল ব্লগার্সের ডায়েরি। পরে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। সেই ওয়েবসাইটের পথ ধরেই একে একে আসে Kunzum Travel Café এবং এখন ভ্রমণ সংক্রান্ত নিজস্ব অনলাইন চ্যানেল Kunzum TV.


একজন ভ্রমণপ্রেমী থেকে আন্ত্রেপ্রেনার হয়ে যাওয়া অজয় জৈন এখন নিজেই একটা ছোটখাট সাম্রাজ্য চালান। সেই অজয়ের কথায়, "সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ হিসাবে শুরুটা হয়েছিল কুনঝামের। ভারতে এই যে এত বৈচিত্র রয়েছে, বেড়ানোর জায়গা রয়েছে, আমি চেয়েছিলাম আমার ব্লগের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তা তুলে ধরতে। যাতে একদিকে যেমন পর্যটনের প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে রোজগারেরও পথ খুলবে।" ট্র্যাভেলিং কতটা আনন্দদায়ক, নিজের ব্লগে বিশ্ববাসীকে সেটাই জানাতে চেয়েছিলেন অজয়। সে কাজে অনলাইন ও অফলাইন দু'ক্ষেত্রেই তিনি সফল।অনলাইনে মিলবে exquisite travel content আর অফলাইনে দিল্লির হউজখাসে the Kunzum Travel Café. অজয় আরও বললেন, " কিছু করার একটা উদ্যোগী মনোভাব আমার ছিল। তাই শুধুমাত্র লেখালেখি করেই থেমে থাকতে চাইনি। একটা জার্নির মতোই শুরু করেছিলাম কুনঝাম। ব্যবসার শুরুটা এভাবেই হয়েছিল।" হ্যাঁ, সেই ছোট্ট শুরুই এখন বিশাল আকার নিয়েছে। ব্লগের নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছেন ৭০ হাজার গ্রাহক। সোশ্যাল মিডিয়াও ছড়িয়ে রয়েছেন আরও অনেকে। নতুন-নতুন জায়গা, অচেনা পরিবেশের খোঁজে ভ্রমণ-প্রেমিকরা নিজেদের মতের আদানপ্রদান করছেন।

Popxo (পপক্সো)

একজন লাইফস্টাইল জার্নালিস্ট হিসাবে ফ্যাশন জগৎ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ছিল প্রিয়ঙ্কা গিলের। ফ্যাশন নিয়ে একইরকম উৎসাহ ছিল ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট নম্রতা বসট্রুমের। দুজনেই চাইছিলেন ডিজিটাল লাইফস্টাইলে কিছু একটা গড়ে তুলতে। তারা মনে করছিলেন ফ্যাশন নিয়ে যা কিছু আলোকপাত তা সীমাবদ্ধ শুধুমাত্র ম্যাগাজিন বা পত্রিকায়। এমন কোনও ওয়েবসাইট নেই যেখানে শহুরে আধুনিক নারীদের স্টাইল স্টেটমেন্ট জায়গা পাচ্ছে। এইসব মহিলা তাই মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়াতেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের কথা মাথায় রেখেই শুরু হয় ফ্যাশন ওয়েবসাইট POPxo-র।


শুরুর প্রথম সাত মাসের মধ্যেই ইউজারের সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। মান্থলি পেজভিউ আরও বেশি। মাসেই প্রায় ৪০ লক্ষ। অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসাবে সংস্থার পাশে দাঁড়িয়েছে হুসেন কানজি, রাজন আনন্দন, কারা লেনের মিঠুন সাঞ্চেতি-সহ কয়েকটি সংস্থা।

The Malini (দ্য মালিনী)

তারকাদের বিচ্ছেদ, পরকীয়া সম্পর্ক, নিন্দা কিংবা কুকথা। এন্টারটেইনমেন্ট ও শোবিজের দুনিয়া মানে কি শুধুই নেতিবাচক খবর? ব্যাপারটা ভালো লাগেনি মালিনী আগরওয়ালের। এখনকার এই যে আধুনিক ভারত, তার মানুষ, কোথাও যেন এর স্পর্শ নেই লেখায়। সাধারণ মানুষের ভালো লাগার চোখ দিয়েই তাই ২০১০ সালে MissMalini.com ওয়েবসাইট শুরু করেন মালিনী।


ভারতে বিনোদন সাংবাদিকতার মানচিত্রে মূলত বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিরই দাপট। সেই জায়গায় একটি ঘরোয়া ওয়েবসাইট পাঠকের সঙ্গে সহজেই সম্পর্ক গড়ে তুলবে বলে মনে করেছিলেন মালিনী। সেই তাঁর ব্লগ লেখা শুরু। সময়টাও ঠিকঠাক বেছেছিলেন তিনি। ভারতে তখন সবেমাত্র মাথা তুলেছে ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া। কেচ্ছা আর গসিপের চেনা ছক নয়, মালিনী বেছে নিলেন শো বিজনেসের ইতিবাচক দিকগুলি। ভালো-ভালো খবর, যার কনটেন্ট জোরদার বাজারে সাড়া ফেলে দিল। আর তাই ২০১০ সালে যেখানে MissMalini.com-এর মাসিক রিডারশিপ ছিল ১০ হাজার, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ। সংস্থায় লগ্নিকারীদের মধ্যে রয়েছে গুগল ইন্ডিয়ার রাজন আনন্দন, Chegg.com, Match.com, SherSingh/Exclusively.in, Asia Director of TA Associates-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা।

Style Fiesta (স্টাইল ফিয়েস্তা)

ছেলেবেলা থেকেই ফ্যাশনের দিকে ঝোঁক ছিল মাসুম মিনাওয়ালার। তবে ফ্যাশনের রীতিনীতি অনুসরণ তার ধাতে ছিল না। গতানুগতিকতা থেকে ফ্যাশনকে বের করে নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নিতে তাই দেরি হয়নি। আর এ কাজে কাজে লাগান তাঁর ব্লগকে। খুব শিগগিরই যা একটি চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।


আগেই বলেছি, ফ্যাশন নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল মাসুমের। তার বয়সি পাশের বাড়ির মেয়েটি কী চাইছে তা তিনি বন্ধুর মতোই বুঝতে পারতেন। লেখাতেও ছিল এর বহিঃপ্রকাশ। এই ব্লগ-বিজনেস মডেলটাই সাড়া ফেলে দিয়েছে। এমন একটা ব্র্যান্ড যা সহজেই মনে করতে পারছে। বলা হয় সুযোগকে কাজে লাগাতে পারাটাই একজন আন্ত্রেপ্রেনারের সবচেয়ে বড় গুণ। মাসুম ঠিক সেটাই করে দেখান। ই-কমার্সের পথ ধরে নিজের পছন্দের জুয়েলারি দিয়ে শুরু করে দেন অনলাইন শপ। একইসঙ্গে ব্লগ, ফ্যাশন আর জুয়েলারি শপ। একই প্ল্যাটফর্মে অনেক কিছু।

Ipleaders.in (আইপ্লিডার্স ডট ইন)

কর্পোরেট জগৎ মানেই আইনের অনুশাসন। একটু এধার-ওধার হলেই ঘাড়ে চাপবে মামলার বোঝা। আইনের মারপ্যাঁচ না বুঝলে উদ্যোগপতিই প্যাঁচে পড়ে যাবেন। সেই ঘাটতিই পূরণ করে থাকে iPleaders.in-এর আইনি ব্লগ। কর্পোরেট জগতের কোনও একটি সমস্যা, যা অনেককে সমস্যায় ফেলতে পারে, তা নিয়ে আইনি দিশা দেখিযে থাকে আই প্লিডার্স।আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনও একটি সংস্থার কী কী নিয়ম মানা উচিত, তার বিস্তারিত আলোচনা করে থাকে এই ওয়েবসাইট।

legal liability management-এর জায়গা থেকেই আই প্লিডার্সের শুরু। কোনও একটি বিজনেস মডেলে কী কী ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে তা চিহ্নিত করা এবং সমাধান দেওয়াই আইপ্লিডার্সের কাজ। যাতে কাউকে আইনি সমস্যায় পড়তে না হয়। শুধু পরামর্শ নয়, স্টার্টআপ ও সোশ্যাল আন্ত্রেপ্রেনারদের জন্য রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কোর্সও তৈরি করেছে আইপ্লিডার্স।


কীভাবে এতটা এগোলেন? আইপ্লিডার্সের প্রতিষ্ঠাতা রামানুজ মুখোপাধ্যায় বললেন," প্রথম যখন আইপ্লিডার্সে ব্লগ লিখতে শুরু করি পাঠক ছিল না বললেই চলে। আমরা ধরেই নিলাম আইনগত ব্যাপারস্যাপার নিয়ে আমাদের এই ব্লগ কেউ পড়তে চায় না। আইনি ব্যাপারে সাধারণ মানুষের তেমন কোনও উৎসাহ নেই বলেই মনে করলাম।তবে কিছুদিনের মধ্যেই ছবিটা বদলে গেল। আমরা দেখলাম, লোকজন খুবই উৎসাহী। বিশেষ করে যখন কোনও আইনি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা পরামর্শ চাইছেন।"

ব্লগিং দিয়ে শুরুটা হলেও কাজকর্মের পরিধি এখন বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে আইপ্লিডার্সের। প্রতি মাসে দুই সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটছে পোর্টালে। ভিজিটর্সদের বেশিরভাগ organic Google traffic থেকেই আসছেন বলে জানালেন রামানুজ। আরও রয়েছে। কোনও একটি ব্র্যান্ডের জন্য সব ধরনের আইনি রক্ষাকবচের ব্যবস্থা অর্থের বিনিময়ে করে দিয়ে থাকে আইপ্লিডার্স। এর জন্য রয়েছে আইনি পরামর্শদাতা। শুরুয়াতি উদ্যোগপতিদের জন্য একটি ডিপ্লোমা কোর্সও আনা হয়েছে। কলকাতার National University of Juridical Sciences-এ পড়ানো হচ্ছে Entrepreneurship Administration & Business Laws.


Related Stories