আর বদলানো যাবে না ৫০০, হাজার টাকার নোট

0

ফাঁসির দড়ি আরও শক্ত করল সরকার। এভাবেই মোদি সরকারের সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করলেন শ্যামবাজারের অমিয় সমাদ্দার। মাথায় হাত দিয়েছেন ঢাকুরিয়ার সমর দাসও। সমর বাবু ভেবেছিলেন ব্যাঙ্কের ভিড় কমুক টাকা বদলাতে যাবেন। অশীতিপর বৃদ্ধের পায়ে কোমরে ব্যথা। ছেলে বিদেশে থাকে। ঘরে লোক বলতে তিনি তাঁর শয্যাশায়ী স্ত্রী এবং দুবেলা আসে ঠিকে কাজের লোক। দোকান পাট, বাজার করে দেন ওই কাজের লোকটিই। কিন্তু ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা বদল করানোর মত ব্যক্তিগত কাজ করানোর কথা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি সমর বাবু। ওই বৃদ্ধ অপেক্ষা করছিলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাবেন পোস্ট অফিসে, টাকা বদলে আনবেন। তারওপর লোকের কাছে খবর পান, সবাই নাকি দুহাজার টাকার নোটই পাচ্ছেন। সত্যি বলতে কি ২ হাজার টাকার নোটের বাজারে কোনও কদর নেই। তিনশ টাকার কেনাকাটা করলে তো কেউ ২,০০০ টাকার খুচরো দেবেন না। ফলে আতান্তরে পড়তে হবে। আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পেতে পারেন এমন বিরল ভাগ্যের মানুষরাই নাকি দেখা পেয়েছেন নতুন ৫০০ টাকার। এই সব সাত পাঁচ ভেবে ভেবে, এবং মহামান্য মোদি সাহেবের ঘোষণাকে অন্ধের মত ভরসা করে এবার বিপাকে পড়লেন ঢাকুরিয়ার সমর দাস। ঘরে যে টাকাটুকু আছে তা আর বদল করতে পারবেন না। জমা দিতে পারবেন। কিন্তু একা একা সাহস করে অতগুলো টাকা (মাত্রা ১৭ হাজার টাকা) নিয়ে যাবেনই বা কী করে। এখন এরকমই দুর্ভাবনায় পড়েছেন তিনি। একা সমর বাবু নন, শ্যামবাজারের অমিয় সমাদ্দারও একই রকম বিপাকে পড়েছেন। এতদিন মোদির হয়ে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক গলা ফাটিয়েছেন। ৫৬ ইঞ্চির দম দেখে মুগ্ধ এই শীর্ণ বৃদ্ধ। কিন্তু এখন বলছেন উল্টো কথা। বলছেন ফাঁসির দড়ি আরও শক্ত করল সরকার। ইতিহাসের ছাত্র। প্রেসিডেন্সি থেকে পাশ করেছেন। স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। হাত পা নেড়ে কথা বলতে বলতে চোখে মুখে ফুটে ওঠে ইতিহাস। যেন ছবির মত সামনে দাঁড়ায় হিটলারের হাত নাড়ানো। চে গেভারার সংশয়। ফিদেল কাস্ত্রোর জয়। জ্যোতি বসুর নিদাগ সাদা পাঞ্জাবি। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের চওড়া ছাতি। মমতার গলায় শাল জড়ানোর দৃশ্য। আর সমুদ্রের বালুরেখা ধরে নরসিংহ রাওয়ের হেঁটে যাওয়া। কিন্তু মোদির মুখ ভেসে উঠলেই তিনি নাকি আজকাল ভয় পান। ২৪ তারিখ রাতেই জেনেছেন, যে ২৪ তারিখ মধ্যরাত থেকে আর ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরে বাতিল ৫০০-১,০০০ টাকার নোট বদল করা যাবে না। তবে বাতিল নোট জমা দেওয়া যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এবং পূর্ব ঘোষণা মতো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাও তোলা যাবে। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। টিভির পর্দায় দেখেছেন খবরটা। যে সব ক্ষেত্রে বাতিল নোট ব্যবহার করা যাচ্ছিল, সেখানে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাতিল ৫০০টাকার নোট নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সমবায় সমিতিতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেনাকাটায় পুরানো নোট দেওয়া যাবে। প্রিপেড মোবাইলে ৫০০টাকা অবধি টপআপ রিচার্জের ক্ষেত্রে বাতিল নোট ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু আসলে তো কোথাও আর কেউ ৫০০-১,০০০ টাকার নোট নিচ্ছেই না। তিনি এটা জানেন। পেট্রোল পাম্প, সরকারি হাসপাতাল, ওষুধের দোকান মুখের ওপর ফিরিয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুতের বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও পরিস্থিতিটা চেখে দেখেননি তিনি। আর জলের বিল দেওয়ার প্ৰশ্নই ওঠে না কলকাতায়। বিজ্ঞপ্তিতে ওই ক্ষেত্রগুলি ছাড়াও সরকারি স্কুল কলেজে ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পুরানো নোট ব্যবহার করা যাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু নাতনির স্কুল টাকা নিতে চায়নি। কার কাছে গিয়ে অভিযোগ করবেন। কে সুরাহা দেখাবে কিচ্ছু বুঝতে পারছেন না। তাই আমাদের ফোন করে জানালেন তাঁর বিপদের কথা। আমরা চেষ্টা করলাম আপনাদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে। সামাজিক গণমাধ্যমের মারফতই এই জনমত তৈরি হতে পারে। আপনাদের অভিযোগ আমাদের পৌঁছে দিন। জনমত তৈরিতে আমরা আপনাদের পাশে থাকব।