পরিবর্তন ঘটাতে চান? প্রতীক্ষায় হালাবোল

0
হালাবোলের প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও অঙ্কুর গুপ্তা
হালাবোলের প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও অঙ্কুর গুপ্তা

আমাদের পাঠকদের কখনও-কখনও সামাজিক উদ্যোগ শুরুর কথা হয়তো মনে হয়েছে। তবে অর্থের সমস্যা, সহযোগিতার অভাব বা অন্য কোনও কারণে তাঁরা হয়তো পিছিয়ে এসেছেন। যাঁরা এমনটা ভেবেছেন তাঁদের জন্য একটা সুখবর। এই পোস্টটা পড়ার পর আপনি আর কোনও অজুহাত দিতে পারবেন না। 

আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি HALABOL, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা আপনাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের নতুন কিছু করার আইডিয়া ও ইচ্ছা রয়েছে, সমাজ বদলানোর ভাবনা রয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম তাঁদেরই জন্য।

হালাবোলের লক্ষ্য হল সম মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে পরিচয় ঘটান, সমাজের উন্নতি হবে এমন প্রকল্পে একে অপরকে সহায়তার যোগসূত্র তৈরি করা। হালাবোল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি যুক্ত হতে পারবেন এমন এক কমিউনিটির সঙ্গে, যেখানে রয়েছেন সামাজিক উদ্যোগপতি থেকে শুরু করে সমাজকর্মীরা, যাঁরা সমাজে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আনতে চান। এই প্ল্যাটফর্মে আপনি ব্লগ লিখতে পারবেন, কোনও ক্যাম্পেন চালাতে পারবেন, পিটিশন দায়ের করতে পারবেন বা সই সংগ্রহ অভিযান চালাতে পারবেন, বিশেষ কোনও অঙ্গীকারও করতে পারবেন। এমনকী সমাজসেবা মূলক কোনও সংস্থা গড়ে তুললে তার জন্য আপনি অর্থ সংগ্রহও করতে পারবেন। ইয়োর স্টোরি কথা বলেছিল হালাবোলের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অঙ্কুর গুপ্তার সঙ্গে। জানতে চেয়েছিল সমাজের উন্নতিসাধনে যাঁরা কিছু করতে চান, কীভাবে তাঁদের সহায়তা দিয়ে থাকে হালাবোল। অঙ্কুর গুপ্তা কী জানিয়েছেন আসুন পড়া যাক।

ইয়োর স্টোরি - হালাবোলের আইডিয়া আপনি কীভাবে পেলেন এবং এর ট্যাগলাইন (Initiate the Change) বাছলেন কীভাবে?

অঙ্কুর গুপ্তা - ভাবনাটা মাথায় আসে ২০০৯ সাল নাগাদ। সম্ভবত সেই ভাবনা এখনও অনেকের মাথায় রয়েছে। আমরা যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তাকে খুব ভালো কিছু বলা যায় না। হিংসা, জোরজুলুম, প্রতারণা, নাশকতা ইত্যাদি ঘটেই চলেছে। অধিকাংশ মানুষই চাইছেন শান্তি আর সুবিচার। ফেসবুকে তর্কবিতর্ক হচ্ছে, কেউবা ইন্ডিয়া গেটের সামনে ধর্নায় বসছেন, আবার কেউ-কেউ নীরবে প্রার্থনাই করে চলেছেন। এদের সকলের মধ্যেই একটা মিল রয়েছে। এরা সকলেই সমাজকে আরও ভালো জায়গায় দেখতে চান। এজন্য কিছু করতেও চান। ছোট বা বড়, তাঁরা এমন একটা মঞ্চ খুঁজছেন যেখানে কিছু অবদান রাখতে পারবেন। ২০০৯ সালের মার্চে আমিও ঠিক এমনই একটা মঞ্চের সন্ধান করছিলাম। সমাজকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমাজসেবা মূলক কাজে যোগদানের ইচ্ছা আমাকে তাড়া করছিল। কিন্তু তেমন কোনও প্ল্যাটফর্ম পেলাম না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই জন্ম নিল হালাবোল। শুধু নিজেকে নয়, আরও অনেকের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলাম। যেখানে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা যায়, সমাধান খোঁজা যায়, বিভিন্ন মতের আদানপ্রদান করা যায়। এমন একটা মাধ্যম, যা অনশন ধর্মঘটের বাইরে গিয়েও ভাবতে পারবে। আমাদের শক্তি কোথায়, সীমাবদ্ধতাই বা কোথায় রয়েছে তা আমরা যাচিয়ে নিতে পারব।

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে জানাই, হালাবোল মানে একটা আওয়াজ। জেগে ওঠার ডাক। এই ডাক পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে আসা। শুধু ভাবা নয়, কিছু করা। আমি কোনও দার্শনিক নই, তবে এটুকু বলতে পারি আমরা নিজেরাই এক-একটা পরিবর্তন, যা আমরা চাইছি। আমরা প্রত্যেকে যদি একটা করেও ক্ষুদ্র পরিবর্তন ঘটাতে পারি, সকলে মিলে কিন্তু বিশাল একটা পরিবর্তন আনা যায়। সেজন্যই আমাদের ট্যাগলাইন Initiate the Change.

ইয়োর স্টোরি - ব্যবহারকারীদের থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

অঙ্কুর গুপ্তা - কোনও কিছু শুরু করলে কিছু শক্ত বাধার মুখেও পড়তে হয়। আমাদের ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের মতামত আমাদের শক্তিশালী করে তুলেছে। প্রাথমিক সাড়া পেতে আমাদের অবশ্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। একা হাতে যতটা কাজ করা যায়, অনেকে মিলে তা অনেক বেশি করা যায়। এটাই সহজ সত্য। এখনও পর্যন্ত যে রকম সাড়া পেয়েছি তাতে হালাবোল খুব ভাল বা খারাপ, এরকম কোনও লেবেল লাগাতে পারব না, তবে এটকু বলতে পারি এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং যাতে সাড়া মিলছে। সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওনা। আনুষ্ঠানিকভাবে হালাবোল কাজ শুরু করে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে। সেই সময় থেকে যে জনগণ (স্টাফ, ভলান্টিয়ার্স, বন্ধু, এনজিও) আমাদের সঙ্গে ছিল তারা এখনও আমাদের ছেড়ে যায়নি। এটাই একটা বড় ব্যাপার। তাঁরা তাঁদের সাফল্য, ব্যর্থতা, সহযোগিতা প্রার্থনা, অন্যকে সাহায্য করা সবকিছুই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন।

আপনাকে একটা উদাহরণ দিই। আমাদের প্রথম সফল উদ্যোগ ছিল অ্যাসিড আক্রান্ত এক মহিলার জন্য পিটিশন দায়ের করা। এব্যাপারে সারা দেশ থেকে সাড়া মিলেছিল। ঝাড়খণ্ডের সোনালি মুখার্জীর (অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলা) জন্য আমাদের ওই উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে ৫৭০০ সই সংগ্রহ হয়। সদস্যদের মধ্য থেকে ১৫০০ কমেন্টস এসেছিল। wishberry.in-এর সহযোগিতায় ওই মহিলার জন্য একটা বড় অঙ্কের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। Halabol Tv-তে অ্যাসিড আক্রান্তের ভিডিও দেখে প্রতিক্রিয়া জানান প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এর পরেই টেলিভিশন মিডিয়াতে সোনালিকে নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। দেখান হয়েছিল স্টার প্লাসের KBC-তেও। আপনাকে আর একটা উদাহরণ দিই। দিওয়ালির কিছুদিন আগে আমাদের হালাবোলে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী একটি এনজিও-র পক্ষ থেকে ক্লিন দিওয়ালির পক্ষে কিছু করার জন্য আর্জি রাখা হয়। যে সব দরিদ্র মানুষের ঘরে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই, তাদের ঘরে সৌরশক্তির ব্যবস্থা করার জন্যই ক্লিন দিওয়ালি। যারা এতে সামিল হন তারা ১০ টাকা করে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এভাবে আমরা ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলাম। আরও কিছু কাজ হয়েছে। বর্তমানে হালাবোলের উদ্যোগে দুটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। দুটোতেই দারুণ সাড়া মিলেছে। এর মধ্যে একটি অ্যাসিড আক্রান্ত এক মহিলাকে সুবিচার দেওয়ার জন্য। আর অন্যটা দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধৰ্ষণের ঘটনায়, যাতে এ ধরণের পাশবিক ঘটনায় রাশ টানা যায়।

ইয়োর স্টোরি - বর্তমান সময়ে সমাজের উন্নতিতে যে সব সংস্থা (Social Entrepreneurs) কাজ করছে তাদের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী ?

অঙ্কুর গুপ্তা - না, না, আমি চ্যালেঞ্জ বলে কিছু মনে করি না। দেখুন, আপনি যে রাস্তায় হাঁটেন তা উচুনিচু হয়। রাস্তা উচু হলে উঠতে দেরি লাগে। অন্যদিকে নামার ক্ষেত্রে তা দ্রুততর হয়। Social Entrepreneurs-দেরও কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবেই। Social Entrepreneurs, এই শব্দটাই আমাদের আমাদের কাছে নতুন। মানুষকে বোঝাতে হবে এর অর্থ কী, উদ্দেশ্যটাই বা কী।

ইয়োর স্টোরি - ঠিক কী হলে বা কতটুকু হলে আপনারা একটা নয়া মোড় এনে দিতে পেরেছেন বলে মনে করবেন?

অঙ্কুর গুপ্তা - যখন আমার অফিসে কোনও অল্পবয়সি প্রফেশন্যালস (ছেলে বা মেয়ে) এসে আমাদের টিমের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, প্রতিটিকেই আমি tipping point বলে মনে করি। যে দেশ একসময় জেসিকা লাল বা আরুষি তলোয়ার হত্যাকাণ্ডে সরব হয়েছিল, সেই দেশ ফের গর্জে উঠেছে ২৩ বছর বয়সি একটি মেয়ের ধর্ষণের ঘটনায়,এটাও একটা tipping point. এমনকী কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে ছবি না দিয়ে একটা কালো বিন্দু দিলে সেটাও তো একটা পরিবর্তন।