ঠেলা গাড়ি থেকে বিশ্বের সবথেকে বড় কাবাব চেন

0

“কাবাব টার্কি বাবা রফি – দ্য ওয়ার্ল্ড বিগেস্ট কাবাব চেন” – খুব অবাক লাগলেও এটাই ছিল গুগল সার্চের রেজাল্ট। একটু শুরু থেকে বলাই ভালো। হঠাৎ করে ফেলার পর পেয়ে যাওয়া গেল সঠিক গন্তব্য। এই ধরণের ইচ্ছেগুলো যখন মাঝে মাঝে অন্তরাত্মা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় আর জিভ তার রসনা তৃপ্তিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন তাকে দমিয়ে রাখা খুবই মুশকিল, আর তাই, যেমন ভাবা তেমনি কাজ। আমার রসনা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেছিল কীর্তিকে খুশি করার জন্য, ভালো গন্ধ, ভালো পরিবেশন সবই ছিল কিন্তু কিছু একটা মিসিং ছিল, তাই একটা অতৃপ্তি থেকেই গেল। ফলতই গুগলকুমারের ওপর ভরসা রেখে একটা সার্চ করেছিল সে - “বেস্ট কাবাব চেন”। রেজাল্ট দেখে নড়েচড়ে বসা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা কীর্তির।

এরপর খানিকটা হঠাৎ করেই আলাপ হয়ে গেল একজন উদ্যোগপতির সাথে – হেনরি সেতিওন, এই বিখ্যাত কাবাব চেনের প্রতিষ্ঠাতা। ভারতে আপাতত কোন আউট-লেট না থাকলেও বেশ অনেক জায়গাতেই ছড়িয়ে গেছে এই চেন অফ রেস্টুরেন্ট। হেনরি প্রমাণ করে দিয়েছে যে সঠিক উদ্যোগ আর লক্ষ্য স্থির থাকলে সাফল্য আসতে বাধ্য। ইন্দোনেশিয়ার ছেলে হেনরি এরমধ্যেই পকেটে পুরে নিয়েছে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার, নাম উঠেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস উইক’ এর মতো ম্যাগাজিনেও। এরপরের বিভিন্ন যোগাযোগগুলো হেনরির প্রতি উৎসাহটা আরও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল কীর্তির জন্য। এরপরের ঘটনা অনেকটাই গল্পের মতো কীর্তির কাছে। আস্তে আস্তে যোগাযোগ বাড়তে থাকে ইমেইলের মাধ্যমে আর তখনই কীর্তি বুঝতে পারে যে মানুষটার মধ্যে কিছু অন্যরকম একটা ব্যাপার আছে।

শখ থেকে উপার্জন

ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হল সুরাবায়া। শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের বেশীরভাগটা সেখানেই কাটিয়েছিল হেনরি। ছোটবেলা থেকেই চিন্তা-ভাবনাটা একটু অন্যরকম ছিল হেনরির। যে সময় অন্যসব বাচ্চারা এদিকে ওদিক খেলাধুলা করে কাটায়, সেই সময় হেনরি মরটাল-কমব্যাট নিয়ে খেলত বা বিভিন্ন অডিও সিস্টেম নিয়ে নাড়াচাড়া করত। স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে হেনরি বলছিলেন যে আর সব বাচ্চাদের মতো সে ছিলনা, নিজের আগ্রহের বিষয়গুলি নিয়ে কিছু রোমাঞ্চকর করার চেষ্টা করত সে। নিজের শখের থেকে কিছু টাকা উপার্জন করার ইচ্ছাটা তার ছোটবেলা থেকেই ছিল। হাইস্কুলের ছাত্রদের সে পয়সার বিনিময়ে মরটাল-কমব্যাটের বিভিন্ন লেভেল পেরনোর উপায় বাতলে দিত আবার কখনো ছোট ছোট খেলনা গাড়িতে সে অডিও সিস্টেম লাগিয়ে তাক লাগিয়ে দিত তার থেকে বয়সে বড়দের। আসলে ছোটবেলা থেকেই কিছু এক্সট্রা রোজগার করার ইচ্ছাটা প্রবল ছিল হেনরির।

একটা জিজ্ঞাসু মনোভাব ছিল তার, ছোট বড় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সে একটু আলাদা রকম করে ভাবত আর একটা ব্যবসায়িক মানসিকতা তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো সবসময়। নিজের সব ধারনাকেই সে কোন ব্যবসায়িক কাজে লাগানোর চেষ্টা করত। স্কুলের পড়া শেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয় সে। কিন্তু কম্পিউটারের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও টেকনিকাল ব্যাপারের থেকেও ব্যবসার ব্যাপারেই সে বেশি আগ্রহ পেত সবসময়।

ঠেলা গাড়ি থেকে বিশ্বের সবথেকে বড় কাবাব চেন

কলেজে পড়ার সময় হেনরি মাঝেমাঝেই কাতারে তার বাবার কাছে ঘুরতে যেত। সেখানে গিয়ে সে রাস্তাঘাটে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত। বিভিন্ন নতুন নতুন খাবার টেস্ট করত সে। এইভাবেই সে হঠাৎ করে আবিষ্কার করে ফেলল একটা একদম নতুন জিনিস, মিডল-ইস্টের জিভে জল আনা কাবাব। প্রথম টেস্ট করেই তার মনটা যেন একদম জুরিয়ে গেল। একটা নতুন ধরণের খাবারের প্রেমে পরে গেল হেনরি। মনে মনে ঠিক করে ফেলল যে এই স্বাদ সে নিয়ে আসবে ইন্দোনেশিয়াতে। আসলে সে অনুভব করে যে এই ধরণের কাবাবের কোন মার্কেট নেই একদম ইন্দোনেশিয়াতে। কেউ কখনো টেস্টই করেনি এমন জিনিস। তাই সে যদি এই ব্যবসাটা শুরু করে তাহলে ব্যাপারটা বেশ ইউনিক হবে। যেমন ভাবা তেমনি কাজ, সে কাবাব বানানোর জন্য একটা ক্লাস করতে শুরু করল কাতারেই, শিখে নিলো একদম ঠিকঠাক কাবাব বানানোর রেসিপিটা।

ছুটি থেকে দেশে ফিরে এসে ব্যবসাটা কিভাবে শুরু করবে তা নিয়ে ভাবতে লাগল সে। আসলে এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই, তায় আবার ইন্দোনেশিয়াতে তার পছন্দের কাবাব অন্য মানুষ কতোটা পছন্দ করবে সেটাও একটা ভাবার বিষয়। এছাড়া ব্যবসা করতে গিয়ে প্রাথমিক বাঁধা তো সব আছেই। ভাবতে ভাবতেই কিছু টাকা ব্যাঙ্ক থেকে লোণ নিয়ে ফেলল আর সাথে একজন কে কাবাব বানানোর সব রেসিপি শিখিয়ে নিয়ে তার কলেজের উল্টোদিকে একটা ঠ্যালা গাড়িতে করেই শুরু করে ফেলল তার প্রথম ব্যবসা। কলেজের পরে ঠ্যালা গাড়িতেই সে বিক্রি করতে লাগল কাবাব। কিন্তু ব্যাপারটা যেভাবে ভাবা হয়েছিল ঠিক সেভাবে হল না। যাকে সে কাজে রেখেছিল তাকে সাহায্য করার জন্য, কিছুদিন বাদেই সে চলে গেল অন্য কাজ পেয়ে। বাধ্য হয়ে তাকেই সব কাজ একা একা করতে হল। কাবাব বানানো থেকে শুরু করে ঠ্যালা গাড়িতে করে সেগুলো বিক্রি করা পুরোটাই। এছাড়া সে বুঝতে পারছিল যে সে ঠিক যেরকম রেসপন্স আশা করেছিল কাবাবের থেকে, ততোটা পাওয়া যাচ্ছেনা, এখানকার লোকজন তেমন ভাবে ভালবেসে গ্রহণ করছেনা এই সুস্বাদু কাবাব। কাতারে বসে সে এই ব্যাপারটাকে যতোটা রোমান্টিক ভেবেছিল, ব্যাপারটা যে ঠিক তা নয়, সেটা বুঝতে পারল সে। যে পরিমাণ টাকা সে ঢেলে দিয়েছিল তার প্রায় কিছুই আসছিলনা তার পকেটে। কিন্তু হাল ছাড়লে তো চলবে না। আর হাল ছাড়ার পাত্রও সে নয়, ভাবতে লাগল কি করে ব্যবসাটাকে আরও ভালো করে চালান যায়। এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই সে ঠিক করে ফেলল যে দ্বিতীয় বর্ষে সে কলেজ ড্রপ আউট করবে আর এই বাড়তি সময়ে সে তার এই কাবাবের ব্যবসার পেছনে দেবে, যাতে সেটাকে ভালো করে একটা শক্ত ভিত দেওয়া যায়।

ছেলের এই অদ্ভুত সিদ্ধান্তে প্রথমে হেনরির বাবা মা খুব অবাক হয়ে গেছিল। সে কলেজ ড্রপ আউট করেছে শুনে খুব ভেঙে পরেছিল তারা কিন্তু হেনরি তাদের বোঝায় যে সে এই কাজটাকে মন থেকে ভালবাসে আর তাই সে এটাকেই ভালবেসে করতে চায় আর এটা তারর কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। আসলে কম্পিউটারের থেকে ব্যবসা করতে সে অনেক বেশি উৎসাহী আর পারদর্শী।

২০০৩ সালে একটা ঠ্যালা গাড়ি দিয়ে যে ব্যবসা শুরু হয়েছিল আজ সেটা বিশ্বের সবথেকে বড় কাবাব চেন - কাবাব টার্কি বাবা রফি । প্রায় ১৯০০ জন চাকরি করে এখানে আর প্রায় ১০০০ আউট লেট আছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া আর ফিলিপিন্সে। আসলে হেনরির কঠোর পরিশ্রম, আশাবাদী মানসিকতা আর যেকোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতাই তাকে আজ পৌঁছে দিয়েছে এই জায়গায়। সে তার বাবা মায়ের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছে যে তার সিদ্ধান্ত ভুল ছিলনা।

এক দশকের চ্যালেঞ্জ, অধ্যবসায় আর ওপরে ওঠার ইচ্ছা

হেনরি কলেজ ড্রপ আউট করার পর একটা নতুন জেদ আর সঙ্কল্প নিয়ে কাজ শুরু করে দিল। তার প্রেমিকাও (এখন তারা বিবাহিত) যদিও তাকে এই কাজে খুব সাহায্য আর উৎসাহ দিয়েছিল। হেনরি তাকে নিয়ে আর একজন কর্মচারী নিয়ে নতুন উদ্যোগে কাবাব ব্যবসার কাজে মেতে উঠলেন আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল যে এই কাজে তাকে সফল হতেই হবে। ইওরস্টোরিকে তিনি বলছিলেন যে ‘প্রথমদিকে ইন্দোনেশিয়াতে কাবাব জিনিস টার সাথে সেখানকার মানুষের পরিচয় করানোটাই ছিল সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ’। হোটেল ম্যানেজমেন্ট বা ওই ধরণের কোন ডিগ্রি ছিলনা তার কাছে। ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলেও সে নয়, কিন্তু নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ মনোভাব তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল। সে অনেক ভেবেচিন্তে কাবাব বিক্রি কম হওয়ার কারণ খুঁজতে শুরু করল আর আবিষ্কার করল যে আসলে একটা লোকাল টেস্ট না দিতে পারলে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সে এমনভাবে কাবাব তৈরি করতে লাগল যাতে একটা লোকাল টেস্ট পাওয়া যায়। ফল ও পাওয়া গেল হাতেনাতেই। ক্রমশ তার বিক্রি বাড়তে লাগল। আস্তে আস্তে সে আরও একটা নতুন স্টল খুলে ফেলল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হেনরিকে। এগিয়ে যাওয়ার পথটা ক্রমশ মসৃণ হচ্ছিল ওর জন্য। সুরাবায়ার সামনে একটা ষ্টোর খুলে ফেলল সে, ফ্র্যাঞ্চাইজি অফার করতে শুরু করল আস্তে আস্তে, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেল হেনরির স্বপ্নের ব্যবসা বিশ্বের বৃহত্তম কাবাব চেন।

খুব সহজ এবং সরল কথার মানুষ হেনরি। তার সাথে কথা বললেই এটা বেশ উপলব্ধি করা যায়। কিছু ইতিবাচক চিন্তা আর নিজের মধ্যে কাজ পাগলা মানসিকতাই তার সাফল্যের একটা বড় কারণ। সে তার চলার পথে ছোট ছোট জিনিসগুলো বড় করে ভাবতে চায়। তার স্টল কে আরও সুন্দর, চটকদার করে তুলতে সে অনেক শিল্পীকে দিয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি আঁকিয়েছে। তার কর্মচারীদের সে শিখিয়েছে নিজে হাতে যে কিভাবে মানুষের মন জয় করা যায়, কিভাবে আরও সুন্দর স্বাদ আনা যায় খাওয়ারের মধ্যে। হেনরি মনে করে সফল ভাবে ব্যবসা করতে গেলে এগুলো মেনে চলা খুব জরুরী।

প্রথমবারে অনেক আন্ত্রেপ্রেনিওরই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সফল হয় না। কিন্তু হেনরি পেরেছে। আর পেরেছে কারণ তার ইতিবাচক মানসিকতা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। কাবাব বানানো শেখা থেকে শুরু করে, কাস্টমর সার্ভিস পুরোটাই সে নিজে শিখিয়েছে তার কর্মচারীদের। আজ সে তার ব্যবসায় প্রায় ১৯০০ কর্মচারীকে চাকরি দিতে পেরেছে। তবুও জীবনে ওঠা নামা তো থেকেই যায়, যেমন এসেছিল হেনরির জীবনেও। দক্ষ একদল কর্মচারী যখন হঠাৎ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে গেছিল, তখন বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল তারা। নতুন করে নিয়োগ করা, তাদের ঠিকমতো প্রশিক্ষণ দেওয়া আবার নতুন করে সব কিছুই করতে হয়েছিল কিন্তু এসব তো আসলে ব্যবসারই অঙ্গ, তাই এসব মেনে নিয়েই জীবনে এগিয়ে যেতে হয় লক্ষ্য স্থির রেখে আর এই মন্ত্রেই সফলতা এসেছে হেনরির জীবনে।

গত কয়েক বছরে অনেক আন্তর্জাতিক পুরষ্কার নিজের দখলে করেছে হেনরি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘ইন্দোনেশিয়ান স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম বিজনেস আন্ত্রেপ্রেনিওর অ্যাওয়ার্ড’, ‘এশিয়া প্যাসিফিক আন্ত্রেপ্রেনিওরশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০০৮’, ‘ইয়ং আন্ত্রেপ্রেনিওর অফ দা ইয়ার ২০০৯’ এছাড়াও আরও অনেক পুরষ্কার গ্রহণ করেছে সে। আমাদের উনি বলছিলেন যে আসলে নতুন কোন খাওয়ারের এক্সপেরিমেন্ট করাই তার হবি আর এটা তার ব্যবসার জন্য একটা অত্যন্ত জরুরী রশদ। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে তার কিছু বন্ধুর ভূমিকাও অনস্বীকার্য। যদিও হেনরি স্বীকার করে যে তার এই ব্যবসায়িক মানসিকতা বা আশাবাদী মন সবটাই সে পেয়েছে একজন মহান মালয়শিয়ান আন্ত্রেপ্রেনিওরের কাছ থেকে। হেনরি নিজে অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা হলেও সে তার নিজের জীবনে অনুপ্রেরণা পেয়েছে যার কাছ থেকে তিনি হলেন, টনি ফারনান্দেজ – যিনি একাধারে প্রতিষ্ঠা করেছেন টিউন এয়ার থেকে শুরু করে এয়ার এশিয়া। হেনরি বলছিলেন যে – ‘তিনি আমাকে ব্যবসায়িক দুনিয়ায় প্রেরণা দিয়েছেন, আমি ওঁর মতই হতে চাই আর সেই কারণেই আমি ওঁর থেকে অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করি’।

ভুল থেকেই সবকিছু শিখেছে হেনরি

‘নতুন কিছু চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক ভুল করেছি আমি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে এটাও একটা প্রক্রিয়া, সাফল্য পাওয়ার জন্য আন্ত্রেপ্রেনিওর সবসময়ই কিছু না কিছু নতুন করার চেষ্টা করে থাকে আর এই নিরন্তর চেষ্টাই তাঁঁকে এগিয়ে নিয়ে যায় সামনের দিকে’ – কথাগুলো বলার সময় বেশ আত্মবিশ্বাসী লাগছিল হেনরিকে। বলছিলেন এক জন ব্য়বসাযীর ঠিক কী কী করা উচিত।

  • সব কাজ নিজে করার চেষ্টা – এমন অনেক কাজ থাকে যে কাজে হয়তো আপনি পারদর্শী নন। যেমন একজন আই.টির লোক একজন ভালো হিসাব রক্ষক নাও হতে পারে।
  • পণ্য বিক্রি হওয়ার উপায় – এটা কখনই মনে করা উচিত না যে আপনার প্রোডাক্ট নিজে নিজেই বিক্রি হয়ে যাবে। কোনরকম প্রোমোশন ছাড়া মানুষ জানবে কি করে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে। তাই মানুষকে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে অবহিত করা খুব জরুরী।
  • লাভ ক্ষতির হিসাব রাখা – যেকোনও ব্যবসাই নির্ভর করে নাম্বারের ওপর। আপনি যাই করুন বা না করুন আসলে সবশেষে হিসাব হবে লাভ ক্ষতির বিচারেই। ভালো ব্যবসা বলতে বোঝায় যে আপনি কতোটা আপনার লক্ষে স্থির আছেন। আপনি যদি আপনার লক্ষ্য স্থির রাখতে পারেন এবং সেইমত প্ল্যানিং করতে পারেন তবে সাফল্য আস্তে বাধ্য।
  • পূঁজি নির্ধারণ – আপনি যে ব্যবসা করতে চাইছেন, ঠিক কত টাকা নিয়ে ব্যবসা করতে নামলে আপনি প্রথমদিকের লাভ ক্ষতি সামলাতে পারবেন বা আপনার সমস্ত খরচা হয়ে যাওয়ার পরও আপনি কিছু টাকা রাখতে পারবেন।

কয়েকটা অত্যন্ত জরুরী কিছু কথা বলে হেনরি শেষ করেছেন। তিনি মনে করেন যে উদ্যোগী ব্যবসায় প্রথমেই কাউকে খুব বেশি বিশ্বাস করা বা অন্যের ওপর ভরসা করা উচিত না। নিজের কাজটা যতোটা সম্ভব নিজেই করে নেওয়া উচিত। আসলে ব্যবসায় সাফল্য পেতে গেলে নিজের মধ্যে একটা উদ্যোগ থাকা দরকার।

(লেখক – কীর্তি পুনিয়া, অনুবাদ – নভজিত গাঙ্গুলী)