‘আঙুর ফল টক’ না মিষ্টি?

0

ফলে এত ভয় কেন? এত সিটিয়ে থাকেন কেন? আপনি! কাজ যদি ঠিক করে থাকেন নিউটন সাহেবের হিসেব মত ফলও ভালো হবে। ফলেই তো পরিচয়। তবে, একটা ‘তবে’ আছে। আপনি যদি হা পিত্যেস করে ফলের দিকে তাকিয়ে থাকেন তাহলে আঙুর ফল টক হতেই পারে। আবার মনে রাখবেন, সে ফলে আপনার অধিকারও নেই। কারণ আপনি ওই ফল পাওয়ার যোগ্যই নন। পবিত্র গীতায় বলেছে কর্মে অধিকার, আর ফলে? ‘কলা?‘ ষোলো কলাও বলতে পারেন। আবার চৌষট্টি কলাও...

স্টিভ ব্ল্যাঙ্কের কথাই ধরুন। ভদ্রলোকের কথা শুনতে মুখিয়ে থাকে গোটা সিলিকন ভ্যালি। তিনি বলছেন ফলের দিকে তাকিয়ে এগোবেন না। হোঁচট খাবেন। কারণ ফল অনিশ্চিত। বরং কাজ করুণ। সামনে যদি দুটো রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন, একদিকে দামি চাকরি অন্যদিকে উদ্যোগপতি হওয়ার ডাক। ভিতরের ডাক। অথচ দ্বিধা আছে। তাহলে তাঁর উপদেশ চাকরি করুণ উদ্যোগপতি হতে হবে না। কারণ চাকরি আপনাকে নিশ্চিত ফল দেবে। কিন্তু যদি উদ্যোগপতি হন তাহলে আপনাকে কাজ করতে হবে। ফলের আসা ছেড়ে দিয়েই।

উদ্যোগপতিদের সাফল্যের জন্যে পাঁচটি পরামর্শ

১. নিজের কাছে স্পষ্ট থাকুন, তাহলে অন্যকেও স্পষ্ট ভাবে চিনতে পারবেন। আর সেই চিনতে পারাই আপনাকে স্পষ্ট বাজারের দিকে নিয়ে যাবে। যেখানে আপনার ক্রেতারা আপনার অভীষ্ট ফলের ঝুড়ি নিয়ে বসে আছে।

২. বালি দিয়ে বানানো প্রাসাদের প্রদর্শনী হতে পারে কিন্তু সে প্রাসাদে প্রবেশ নিষেধ। কারণ সেটা যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। ফলে বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই বানান। দেখবেন কাজে আসবে। ছোটো হলেও সেটাই মজবুত।

৩. Honesty is the best policy এই প্রবাদ যদি বাদ না দেন তবে বেশ উপকারী। আপনি স্টার্টআপ হতে পারেন, উদ্যোগপতি কিংবা সমাজকর্মী। জানবেন মানুষ কিন্তু সততার মূল্য দেয়। কাজ যদি সত হয় তবে ভ্যালুয়েশনে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।

৪. এখন Performance based hiring এর যুগ। কাজ চাই। যেন তেন প্রকারেণ কাজ হাসিল করতেই হবে না হলে আপনি উদ্যোগ নেবেন... আর আপনার প্রতিপক্ষ পরে দৌড় শুরু করে আগে ফিনিশিং লাইন ছুঁয়ে ফেলবে।

৫. কাজের কোনও মাপজোক হয় না। দিনে ৮ ঘণ্টার কাজ, মান্ধাতার আমলের কনসেপ্ট। কাজ হবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত। মাঝখানে যদি থামেন তবে সেটা বিরতি হিসেবে ধরুন। প্রয়োজনীয় বিরতি। খুব প্রয়োজনীয় বিরতি। কিন্তু ফিরে ফিরে আসুন কাজে। কাজের বৃত্ত বলয় থেকে আউট মানে একটা উইকেট পড়ে গেল।

ব্ল্যাঙ্কের মতই উদ্যোগ দুনিয়ার আরেক দিগগজের কথা বলি। তিনি স্টার্টআপ ফ্যাক্টরির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস হেইভলি। ভদ্রলোক বলছেন, আমরা যখন কোনও কাজ শুরু করি তখন খালি ভাবি লোকে কী ভাববে। জেনে রাখুন অধিকাংশ সময় লোকে ভালোই ভাবে। কেউ কেউ খারাপ ভাববেন বৈ কি! কিন্তু জানবেন তাঁদেরও আবার দুটো শ্রেণি আছে। এক যাদের কখনও আপনি তৃপ্ত করতে পারবেন না। কারণ তাঁরা তৃপ্ত হওয়ার জন্য জন্মাননি। আর দ্বিতীয় ভাগ আপনার অতিমাত্রায় শুভাকাঙ্ক্ষী। তাঁদের আপনার প্রতি অসীম প্রত্যাশা। তাই তাঁরা তৃপ্ত নন। যদি তাঁদের তৃপ্ত করতে ছোটেন তবে আপনার বাজারের নাম হয়ে যাবে নিশ মার্কেট। মাস মার্কেটে আপনি দুর্বোধ্য। অগম্য। দুষ্প্রাপ্য। এখন ভাবুন কোনটা চান... সিদ্ধান্ত নিন। এবং সেই ভাবে নিজের প্রডাক্টকে সাজান।

ভদ্রলোক লিখছেন, “যত বয়স বাড়ছে তত চারধারের মানুষগুলোর মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যাই বাড়ছে যারা আমাকে শক্তি দেন। তাঁরা অন্তত আমাকে তাঁদের উপার্জনযোগ্য ব্যক্তিগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন না। তাঁরাই আমার প্রোডাক্টের বাজার তৈরি করে দিয়েছেন। যত এমন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে আমার আউটকামও বেড়েছে। ফলে বেড়েছে আমার সুখ্যাতি।”

তাই হেইভলির সাফকথা। সম্পর্ককে গুরুত্ব দিন। আর নিজের কাজ করে যান। ফল আসবে নিজের গতিতে। হা পিত্যেস করে বসে থাকলে আঙুর ফল অবশ্যই টক প্রমাণিত হবে।

বরং সবার আগেই স্থির করুণ আপনার কী চাই। সেই অনুযায়ী তৈরি করুন স্ট্র্যাটেজি। একটা টাইম লাইন থাকুক। ধাপে ধাপে এগোন। তবেই না বেড়ালের কপালে শিকে ছিঁড়বে!

না হলে, সবই মায়া... মা ফলেষু কদাচন...