Phoenix এর বিক্রম  বিশ্বাস করেন ফিনিক্সের দর্শনে

0

১৯৯৯ সালে বিক্রম পুরীর বাবা আবেগের বশে অ্যাস্টর হোটেল কিনে ফেলেন। ধীরে ধীরে হোটেল ব্যবসাই তাকে টেনে আনে উদ্যোগের দুনিয়ায়। গুরগাঁওয়ের নামী সংস্থার নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করার ভূত চাপে। চেয়েছিলেন দেশে বিদেশে হোটেল ব্যবসায় বিক্রম একটা ব্র্যান্ড হয়ে উঠবেন। রাস্তা এবড়ো খেবড়ো। অনেক প্রতিযোগিতা। তবুও বিক্রম সাফল্য পেয়েছেন। ছোটবেলাটা কেটেছে দিল্লিতেই। বড় হয়ে পড়াশুনো বিদেশে। তবু কলকাতার সঙ্গে ওর নাড়ির টান। বাবার স্বপ্নের বিনিয়োগ শেক্সপিয়র সরণির অ্যাস্টর হোটেলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিক্রম। বিনিয়োগের মুকুটে একের পর এক পালকও গুঁজে চলেছেন এই উদ্যোগপতি।

২০০৭ এ চাকরি ছেড়েছেন। ২০০৮ এ শেক্সপিয়র সরণিতে প্লাশ লাউঞ্জ অ্যান্ড বার দিয়ে হোটেল ব্যবসার হাতেখড়ি। একটা লক্ষ্য ছিল, যদিও বুঝতে পারছিলেন না ঠিক করছেন কিনা। কারণ চারপাশ থেকে নানা ধরনের উপদেশ আসছিল। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। মাঝ রাস্তায় কিছু ছেড়ে দিয়ে হার মানার পাত্র নন বিক্রম, ঠিকই করে নিয়েছিলেন বাঁচবেন নিজের শর্তে। শুরুর লড়াইয়ের কথা বলছিলেন বিক্রম।

সেদিন হার মানেননি বলেই মাত্র ৯ বছরে হোটেল ব্যবসায় সাফল্য পেয়েছেন। সাফল্য মাথা ঘুরিয়ে দেয়নি। মাটিতে পা রেখে এগিয়েছেন সাফল্যের রাস্তায়। প্লাশকে ঢেলে সাজিয়ে এবার খুললেন ফিনিক্স। নিজে গান বাজনার ভক্ত। গিটার হাতে প্রায়ই মগ্ন হয়ে যান আর তার সেই সৌন্দর্যবোধের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাবে ফিনিক্সে। ২,৩৬৮ বর্গফুট জায়গায় ছড়ানো ফিনিক্সে ঝাঁ চকচকে অথচ কাঠ এবং ইটরঙা দেওয়ালে ভিনটেজ লুকে পাব আর নাইটক্লাবের মাঝামাঝি আমেজ তৈরি করা হয়েছে। পুরনো প্লাশে ঢুকতেই যে দেওয়ালে অতিথিদের ছবি সাজানো ছিল সেখানে এখন বিশাল আকৃতির ফিনিক্স পাখি। বিক্রম বলছিলেন, ‘জীবনে সবকিছুর ওঠাপড়া আছে। উঠলে পড়তেই হবে। উল্টো দিক থেকে পড়লে তার উত্থানও আছে’। ফিনিক্স তারই প্রতীক।

বার, স্মোকিংজোন, যারা নিভৃতে থাকতে পছন্দ করেন তাদের জন্য প্রাইভেট জোন, বারটুলে স্বচ্ছন্দ না হলে আরাম করে ডিনারের জন্য আলাদা জায়গা-সব ব্যবস্থা রয়েছে। মেনুতে মাল্টি কুইজিন, মেডিটারনিয়ান পদই বেশি। ডিজে কনসোল নিয়ে একটু বেশিই সচেতন পুরী। নিজেই ঠিক করেছেন বৃহস্পতিবার জ্যাজ সঙ্গীত আর রবিবার ব্যান্ড পারফরমেন্স।

পেছন ফিরে তাকালে পুরীর মনে হয় নিয়মে বাঁধা জীবনের কিছুই পাল্টায়নি। নিজেই নিজের ভাগ্য গড়তে হয় বাবার এই আপ্তবাক্যটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এই যুবক।