হ্যাভস আর হ্যাভস নট’দের মেলাচ্ছে ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’

0

পিছিয়ে পড়া এলাকায় কোনও একজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অবৈতনিক স্কুল। সেই স্কুল চালাতে আর্থিক কারণে অনেক কিছুই করে উঠতে পারছেন না সেই উদ্যমী মানুষটি। অন্যদিকে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি চাইছেন, এমনই কোনও স্কুলকে মাসে-মাসে কিছু আর্থিক সহায়তা করতে। দু’টি ছবি।প্রথম ক্ষেত্রে সাহায্যের প্রয়োজন, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্য উপযু্ক্ত জায়গার সন্ধান। সেই ফাঁক পূরণ করতেই ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’ গড়ে তুলেছেন দুই তরুণ।বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কাজে সচেতনতা এতটাই বেড়েছে যে এইসব কাজে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্যই গড়ে উঠেছে বেশকিছু সংস্থা।এমনই কয়েকটি সংস্থা হল গিভ ইন্ডিয়া, ইউনাইটেড ওয়ে, মিলাপ ডট ওআরজি।সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন মিহির লুনিয়া এবং ইশান কাপুরের ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’।

সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিহিরের কথায়, ‘২০১০ সালে কলেজে পড়ার সময় আমি ও ইশান এমন একটি বিষয়ে কাজ করার কথা প্রথম ভাবি। হ্যাভস আর হ্যাভস নট’দের কীভাবে মিলিয়ে দেওয়া যায়। যদিও বিষয়টা নিয়ে কাজ শুরু করেছি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। এই ধরনের কাজে টিচ ফর ইন্ডিয়ার মতো বড় সংস্থা রয়েছে। আবার ছোট-ছোট বেশ কয়েকটি সংস্থাও কাজ করছে। যদিও ছোট সংস্থাগুলি অনেকটাই ফ্যামিলি বিজনেসের মতো এবং উপস্থিতিও সেভাবে বোঝা যায় না। আমরাও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছি সমাজসেবা মূলক সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করে সহায়তা করার জন্য’।


মিহির লুনিয়া (বাঁদিকে) এবং ইশান কাপুর
মিহির লুনিয়া (বাঁদিকে) এবং ইশান কাপুর

কীভাবে কাজ করে ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’? যে সব নন-প্রফিট সংস্থাকে বাছাই করা হয় সেগুলির সঙ্গে প্রতি মাসে একটি লিখিত বোঝাপড়া করে নেয় ‘পাওয়ার ফর ওয়ান এবং সেইসব সংস্থার নাম ওয়েবসাইটে তুলে ধরা হয়। তুলে ধরা হয় সেইসব সংস্থার কর্মকাণ্ড। তবে বাছাই করা হয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। সেইসব সংস্থার ব্যাকগ্রাউন্ড, কাজের বহর, উদ্দেশ্য ইত্যাদি খতিয়ে দেখা হয়। এরপরই নির্বাচিত সংস্থাগুলিকে নিজেদের ছাতার তলায় নেয় ‘পাওয়ার ফর ওয়ান। ফান্ড কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় সংস্থাগুলিকে।

ডোনেশন প্রথমে পৌঁছয় ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’-এর কাছে। সেই ডোনেশনের টাকা সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে একটি নোডাল অ্যাকাউন্টের (ইন অ্যান্ড আউট) মাধ্যমে নন-প্রফিট সংস্থাগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। নিজেদের সংস্থার কাজ চালানোর জন্য সামান্য কিছু টাকা (৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে) অবশ্য রেখে দেয় ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’।


সামাজিক উন্নয়নের কাজে অর্থ সংগ্রহের (ফান্ড রেইজিং)এমন একটা পথ নেওয়ার কারণ কী? মিহির বলেন, ‘অনেস্টলি বলছি, আসলে এই জায়গাটাতেই অধিকাংশ সংস্থা পিছিয়ে পড়ে। বিশেষ কোনও ক্ষেত্রে সাহায্য করতে চান এমন কন্ট্রিবিউটারদের আমরা শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরার অপশনও দিয়ে থাকি। প্রতিটি শেয়ারিংয়ের জন্য নন-প্রফিট সংস্থা ৫০ টাকা পেয়ে থাকে। বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেব সেইসব কর্পোরেট কোম্পানিকে যারা আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এবং কোনও ব্যক্তির প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা করছে’। অন্য সংস্থার সঙ্গে তাঁদের ফারাকটা তাহলে কোথায়? মিহিরের কথায়, ‘কিছু সংস্থা সহায়তাকারীদের থেকে ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব রাখে।আমরা শুধুমাত্র চ্যারিটেবল ডোনেশনকে উৎসাহ দিয়ে থাকি’।‘পাওয়ার ফর ওয়ান’ মনে করে ঋণ ভিত্তিক ওই মডেলের তুলনায় তাদের মডেলেই স্বচ্ছতা অনেক বেশি। মিহিল আরও বলেন, ‘দেখুন, ঋণ ভিত্তিক ওই বিষয়টি বেশ জটিল বলেই আমরা ওর মধ্যে ঢুকতে চাইনি। আমরা বুঝি কেউ-কেউ আর্থিক সাহায্য চান আর কেউ-কেউ সাহায্য করতে পারলে খুশি হন। আমাদের কাজ হল সেই যোগসূত্রের কাজটা করে দেওয়া’।


যে বা যাঁরা বিশেষ কোনও উদ্দেশযে সাহায্য করতে চান (ডোনার) তাঁদের মধ্যেও স্থায়ী যোগাযোগ গড়ে তুলতে চান মিহির-ইশান। কীভাবে গড়ে উঠবে সেই যোগসূত্র? ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’ চাইছে ইনস্টাগ্রাম, হোয়্যাটস অ্যাপের মতো সোশ্যাল সাইটগুলিকে কাজে লাগাতে। যাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল তাঁদের মধ্যে একটা কমিটমেন্ট তৈরি করাও এই স্থায়ী সম্পর্কের লক্ষ্য।


কেমন চলছে ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’-এর কাজকর্ম? এককথায় বললে খুবই আশাপ্রদ। সমাজের সব স্তর থেকেই দারুণ সাড়া মিলছে। সংস্থা গড়ে ওঠার এক মাসের মধ্যেই ১০টি নন-প্রফিট সংস্থাকে সহায়তার রসদ এনে দিতে পেরেছেন মিহির-ইশানরা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও ৫০-৬০টি সংস্থাকে তাদের ছাতার তলায় আনতে চায় ‘পাওয়ার ফর ওয়ান’।