মানুষের জন্যে প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তির জন্যে মানুষ

0

হাতে হাতে মোবাইল। সস্তার ইন্টারনেট। তবু ডিজিটাল ডিভাইড কাটছে কই? দেখা গেছে অধিকাংশ লোকেরাই নিজেদের স্মার্ট মোবাইল ফোনের সব ফিচার জানেন না। শুধু কল করতে এবং কল ধরতে পারেন। প্রযুক্তি অন্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বই কমছে না। কিন্তু প্রযুক্তি তো তাবলে থেমে থাকবে না। আরও সুবিধের সন্ধানে নিত্য নতুন উদ্ভাবন তো হবেই। আর সেই প্রযুক্তিকে আত্মস্থ করেই সময় এগোবে। ব্যবসার নতুন নতুন বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি তৈরি হবে নতুন নতুন জটিলতাও। কথায় বলে না আইন থাকলে ফাঁকও থাকে... তেমনি। 

এ ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ অনেকেই দাবি করেন। রাজনৈতিক দাবি নয়। সব থেকে বিশ্বস্ত বলে মনে করা হয় এমন একটা প্লাটফর্মের নাম সরকার। তাই বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে তাদের তরফে কি আরও বেশি কিছু করার অবকাশ থাকে? এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসে। এবার উত্তর দিতে কোমর বেঁধে নামল কর্নাটক সরকার। রাজ্য সরকারি তথ্য প্রযুক্তি দফতর এবং আইএএমএআই'এর মোবাইল এক্স- একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে তারা প্রতিভাবান দক্ষদের খুঁজছে।

  • এক| সরকার এবং সাধারণ নাগরিকদের উন্নতির জন্য নতুন নতুন ধারণা এবং পরিকল্পনা খুঁজছে সরকার। প্রযুক্তি নির্ভর সেই সব পরিকল্পনার মৌলিক শর্ত হতে হবে সহজ এবং ব্যবহারকারীর পক্ষে সুবিদেজনক।
  • দুই| এমন কোনও ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে যাতে মোবাইলের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে সরকার।
  • তিন| নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বিভাগগুলির কাজকর্মকে আরও উন্নত করে তোলা যেতে পারে। যাতে মানুষকে একই অসুবিধার মুখে বারবার না পড়তে হয় এবং ওয়েব সার্ভিসকে আরও বেশি করে কাজে লাগিয়ে গোটা সরকারি প্রক্রিয়াকে সরলিকৃত এবং স্বচ্ছ করা যায়।

মূলত এই তিনটি হার্ডল টপকাতে কর্ণাটক সরকার উদ্যোগী প্রতিভাবান প্রযুক্তিবিদের খোঁজ শুরু করে দিয়েছে। খোঁজা হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের ভিতর থেকেই। পাশাপাশি পরিষেবা চালু করলেই তো হল না। সেগুলি আদৌ ব্যবহার করা হবে কিনা সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। পরিষেবা ব্যবহারে সাধারণ মানুষের বেশি বেশি অংশগ্রহণ যাতে থাকে সে বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় সরকার খুঁজছে এমন সিস্টেম যাতে প্রতারণামূলক এবং ভুল অভিযোগ ধরা পরে যাবে দ্রুত।

যে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে হবে

১) যাঁরা চাকরি খুঁজছেন তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে কিনা, বিভিন্ন তথ্য জানানো হচ্ছে কিনা পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে কিনা (ডিপার্টমেন্ট অফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং)

২) স্বচ্ছ ভারতের জন্য শহর কিভাবে কোথায় কোথায় পরিষ্কার করতে হবে এবং সেটা আদৌ কতটুকু হচ্ছে এসব বিষয়ে তথ্য পাওয়ার যে সমস্য়া রয়েছে সেটা কাটাতে হবে। (ডিপার্টমেন্ট অফ মিউনিসিপ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)

৩) অ্যাক্সিডেন্ট এফআইআর-এর জন্য সহজ রিপোর্টিং এবং সত্যাসত্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। (ডিপার্টমেন্ট অফ আরবান ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট)

৪) শিশুশ্রমমুক্ত কর্ণাটক তৈরি করার কাজে প্রয়োজন প্রযুক্তি। (ডিপার্টমেন্ট অফ লেবার)

৫) সহজে অভিযোগ নথিভুক্তিকরণ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। (ডিপার্টমেন্ট অফ মিউনিসিপ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)

যে মতামত আপনি দেবেন, তার মধ্যে থাকতে হবে অভিনবত্ব। খুব সহজে আপনার ধারণাকে কাজে পরিণত করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে G2C' র কাজকে আরও সহজ করবে। সমস্যা মেটানোর জন্য আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজকর্ম করা, ম্যাপ এবং জিও-ট্যাগ ফটো ব্যবহার করা, মোবাইলে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। ২০১৫ সালের গত ৮-১০ ডিসেম্বর একটি ইভেন্ট পরিচালনা করা হয়। যেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তিবিদ নিজেদের মতামত নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। নিজেদের প্রতিভা যাচাই করে নিতে। বিচারকমণ্ডলীও উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক পর্বে ২৫জন অ্যাপ ডেভেলপারকে নির্বাচন করা হয়। ১০ই ডিসেম্বর ফাইনাল হয়। সেখানে বিজয়ীকে ৩.৫ লাখ দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ।

(অতিথি লেখক-রাহুল গুপ্তা, সিনিয়র ওয়ার্ল্ড-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। অনুলেখক-চন্দ্রশেখর চ্যাটার্জী)