উন্নত পরিষেবায় তিন বছরে ১,৬০,০০০ বেসস্টেশনের লক্ষ্য এয়ারটেলের

0

মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার ভারতি এয়ারটেল আনতে চলেছে ‘প্রজেক্ট লিপ’ নামে নেটওয়ার্ক ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম। সম্প্রতি তার লঞ্চের কথা ঘোষণাও হয়ে গেল। লক্ষ্য আরও উন্নত নেটওয়ার্ক এবং পরিষেবা। আগামী ৩ বছরে ৬০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এই প্রকল্পে। ইতিমধ্যে অ্যাকটিভ এবং প্যাসিভ নেটওয়ার্ক, স্পেকট্রাম, ফাইবার, সাবমেরিন কেবল এবং সিস্টেমে যে ১,৬০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে তার থেকে ‘প্রজেক্ট লিপ’ একেবারেই আলাদা। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে বেসরকারি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ভারতি এয়ারটেল। ২০১৫-১৬য় সংস্থার CAPEX বিস্তারের পর এত বড় মাপের বিনিয়োগ। ‘প্রজেক্ট লিপ’ ঘোষণা করে সংস্থার এমডি এবং সিইও গোপাল ভিত্তাল বলেন, ‘শহর, গ্রাম, ঘরে ঘরে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমাদের বহু সংখ্যক গ্রাহক রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে উন্নত পরিষেবার ভাগীদার করতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। সারা জীবনের জন্য সংস্থার সঙ্গে এই সব গ্রাহকদের জুড়ে নিতে চাই। ‘প্রজেক্ট লিপ’ লঞ্চ করে আমরা রোমাঞ্চিত। আমাদের বিশ্বাস, গ্রাহকদের মধ্যে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারব এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত নেটওয়ার্ক তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারব’।

প্রজেক্ট লিপের জন্য এয়ারটেলের ১০ দফা প্রোগ্রাম সংক্ষেপে তুলে ধরা হল‍-

৩ বছরে লক্ষ্য ১,৬০,০০০ বেসস্টেশন

২০১৫-১৬ আর্থিক বছরে ৭০,০০০ বেসস্টেশন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এয়ারটেলের। এর ফলে শুরুর সময় থেকে মাত্র এক বছরে কোনও সংস্থার এটাই সবচেয়ে বড় ডেপ্লয়মেন্ট হতে চলেছে। পরিকল্পনায় রয়েছে, ২০১৬র মার্চের মধ্যে এয়ারটেলের নেটওয়ার্কের ৬০ শতাংশই হয়ে যাবে মোবাইল ব্রডব্যান্ড-অ্যাবেলড। আগামী ৩ বছরে ১,৬০,০০০ বেসস্টেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা বর্তমানের প্রায় দ্বিগুন।

সবার জন্য ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এবং সব শহরে ইনডোরের ব্যবস্থা

সব শহরে মোবাইল ব্রডব্যান্ড নিয়ে যাবে এয়ারটেল। ২০১৬র মার্চের মধ্যে ২,৫০,০০০ গ্রামেও পাওয়া যাবে এই পরিষেবা। দেশের পাঁচ লক্ষ গ্রামে ব্রডব্যান্ড নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই সংস্থার। স্মল সেলস, কেরিয়ার এগ্রেশন সলিউশন, ওয়াই-ফাই এবং নানা স্পেকট্রাম ব্যান্ডে নানা প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। এর ফলে সংস্থা নানা শহরে ভয়েস এবং ডাটা সার্ভিসের আরও ভালো কভারেজ দিতে পারবে। এই তিন বছর ধরে এয়ারটেল ওয়াই-ফাই হটস্পটস, স্মল সেলস এবং ইন্ডোর সলিউশনের মাধ্যমে ১,০০,০০০ লক্ষের বেশি সলিউশন ছড়িয়ে দিতে চায়।

৫,৫০,০০০ কিলোমিটার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ফাইবার

ভারতে ডাটা সার্ভিসের বাড়তে থাকা চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে এয়ারটেল ধাপে ধাপে ৫,৫০,০০০ কিলোমিটার দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ফাইবার পাতার লক্ষ্য রেখেছে যাতে টেলেন্সি কমানো, গ্রাহকের সুবিধা বাড়ানো এবং ডাটা সার্ভিসের চাহিদা মেটানো যায়। IAMAI এবং IMRB International এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট, ইন্টারনেট ইন ইন্ডিয়া ২০১৫য় প্রকাশ, ২০১৫র ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪০২ মিলিয়ন।

বর্তমান নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ

এয়ারটেলের পুরনো যে নেটওয়ার্ক এবং বেসস্টেশন রয়েছে আগামী ৩ বছরে সেগুলি আরও ছোট, সুসংহত এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পালটে দেওয়া হবে। সব আধুনিক বেসস্টেশনগুলি একটি মাত্র রেডিও একসেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নানা স্পেকট্রাম ব্যান্ড চালাবে।

২০১৬র মধ্যে ৫০ এমবিপিএস স্পিডের হোম ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক

আধুনিক ভেকটোরিং টেকনোলজিতে এয়ারটেল নিজের ৩০ লক্ষের ওপরে হোম ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ করতে চলেছে। ২০১৬র মধ্যে এখনকার ১৬ এমবিপিএস কে ৫০ এমবিপিএসে নিয়ে যাবে। এমনকী বাড়ি বাড়ি লাইন পেতে ব্রডব্যান্ডে ১০০ এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড দেওয়ার কথা ভাবছে।

ভারতের সব এসএমই-গুলির সংযুক্তিকরণ এবং উন্নত সার্ভিস অপারেশন সেন্টার

নানা সলিউশন যেমন বিল্ডিংয়ে ফাইবার এবং ইন্টারনেট ওয়ারলেস একসেস নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে এয়ারটেলের পরিকল্পনা রয়েছে নিজের বিশাল পরিকাঠামো ব্যবহার করার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতে ছাট-বড় এসএমই-গুলিকে আরও ভালো কানেকটিভিটি দিতে চায় এয়ারটেল।

তিন বছরে ৭০ শতাংশ কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর লক্ষ্য

আগমী তিন বছরে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে এয়ারটেলের। কমপেক্ট বেসস্টেশন এবং স্মল সেলস ব্যবহার করে আধুনিক এবং কম শক্তি খরচ করবে এমন রেডিও টেকনোলজি নিয়ে আসা হচ্ছে। নানা ব্যান্ডের এন্টেনা এবং নতুন ব্যাটারি টেকনোলজি ব্যবহার করে শক্তিক্ষয় এবং ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে। এই পদক্ষেপ করার ফলে আগামী ৩ বছরে ৭০ শতাংশ কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর দিকে এগিয়ে যেতে পারবে এয়ারটেল। ‘আমাদের বিশ্বাস, ‘প্রজেক্ট লিপ’ এয়ারটেলকে স্মার্ট এবং নানামুখী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে ভয়েস এবং ডাটা সার্ভিসের মান দৈর্ঘে এবং প্রস্থে উল্লেখজনকভাবে বাড়িয়ে দেবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা লিপ প্রজেক্ট প্ল্যান প্রত্যেক গ্রাহকের নির্দেশিত এলাকায় দিতে চাই। আমাদের ধারণা, এর ফলে গ্রাহকদের আরও স্বচ্ছ পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে’, বলেন গোপাল।

বছরের শুরুতে এয়ারটেল জিরো আনার পর সাধারণ মানুষের চাহিদা ভালই বুঝতে পারছে সংস্থা। প্রজেক্ট লিপ সমাজের সব স্তর, সাধারণ গৃহস্থ থেকে ছোট, মাঝারি মাপের ব্যবসা-সব ক্ষেত্রকে আয়ত্বে আনতে চাইছে। বর্তমানে রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। রিলায়েন্স জিওতে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, সামর্থ্যের মধ্যে স্মার্টফোন এবং প্রচুর কনটেন্ট এবং অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট বিজনেস নজর দিয়েছে রিলায়েন্স। তাছাড়া লক্ষ্য রয়েছে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং ড্রাইভ সলুউশনের মাধ্যমে এসএমইগুলিকে ক্লাউড সার্ভিস দেওয়া।

১,৬০,০০০ বেসস্টেশন এবং ৫,৫০,০০০ কিলোমিটার ডোমেস্টিক এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইবারের মাধ্যমে ভালো মানের ভয়েস এবং ডাটাসার্ভিস সহজ নয়। এখন দেখার এয়ারটেল টার্গেটে পৌঁছতে পারে কিনা।

লেখক-হরষিত মাল্য

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস