দেশপ্রিয় পার্কের ম্যানহাটানী আড্ডা এখন অন্যরকম

0
থিম ফেল করেছে। কিন্তু স্টার্টআপ ফেল করেনি। আইডিয়া ফেল করলে দুঃখ হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু প্রকৃত উদ্যোগপতি একটা আইডিয়া থেকে অন্য আইডিয়ায় যাতায়াত করতে জানেন। আজ শুনুন এমন এক তরুণ উদ্যোগপতির গল্প যিনি বিবর্তনের সঠিক মানেটা জানেন। কলকাতার মেয়ে মহিমা চেয়েছিল একটা থিমের ক্যাফে করতে। তারপর কী হল? শুনুন।

থিমের পুজো, থিমের রেস্তোরাঁ, থিমের ক্যাফে তো অনেক হয়। অনেক রকম থিম। বলিউডের থিমে অনেক ক্যাফে হয়েছে, রং দে বসন্তী, গব্বরস বার অ্যান্ড কিচেন, কিংবা ধরুন কয়েদি কিচেন, যেখানে শোলের আস্রানির কায়দায় এক 'ব্রিটিশ জমানে কি জেলার' ঘুরে ঘুরে তত্ত্বাবধান করছেন। কয়েদি সেজে খাবারের অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এবার শোনাবো আরেকটি অদ্ভুত থিমের গল্প। এক মার্কিন সিটকমের ক্যারিসমা, ওটা এত জনপ্রিয় ছিল যে তাকে নিয়ে গোটা বিশ্বে আদিখ্যেতার অন্ত নেই। ফ্যানও প্রচুর। একটা সময় ইয়াং জেনারেশন, এবং টিনএজারদের মধ্যে এই সিচ্যুয়েশনাল কমেডি রীতিমত ভাইরাল ছিল। ঠিক ধরেছেন আমি বছর বারো আগেকার মার্কিন টিভি সিরিয়াল F.R.I.E.N.D.S এর কথা বলছি।

স্যান্ডলার, মনিকা, রেচেল, রস, জোয়ে এবং ফোবদের সঙ্গে সেই কবে শেষ দেখা হয়েছে টিভিতে। ম্যানহাটানে ৬ বন্ধুর টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে সুখ, দুখ, আনন্দ, হাসি, কান্না, ঠাট্টা-মস্করা, ঠিক যেন নিজেদের জীবনে ঘটে চলা কোনও কাহিনি। যদি বলি সেই F.R.I.E.N.D.S এখন কলকাতায়, অবাক হবেন তো? সত্যিই তাই। যা শুনে আপনি অবাক হচ্ছেন তাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মাত্র উনিশে পা রাখা মহিমা বাচোয়াত, সঙ্গে ২৫ বছরের দাদা এবং তাদের খুড়তুতো ভাই ঋষভ এবং দেব। এই F.R.I.E.N.D.S আসলে টিভি সিরিয়াল নয়, F.R.I.E.N.D.S সিরিয়ালকে থিম করে একটি ক্যাফে, যার পরতে পরতে ফ্রেন্ডসেরই ছোঁয়া।

দেশপ্রিয় পার্কের এই ক্যাফে ঠিক এক্কেবারে ফ্রেন্ডসের সেন্ট্রাল পার্কের মতো না হলেও অনেকটা সেরকম। গতবছর টিনএজার উদ্যোক্তা মহিমা তাঁর ভাইদের নিয়ে বাড়ির বেসমেন্টেই এই ক্যাফে খুলে ফেলেন। গোটা দেশে নাকি এমন ধরণের ক্যাফে এটাই প্রথম। আর এশিয়াতে রয়েছে মাত্র তিনটি। দুটি বেইজিংয়ে এবং একটি পাকিস্তানে। প্রথম দিকে ইন্টিরিয়র অনেকটা ফ্রেন্ডসের সেটের মতোই ছিল। মেনুর পদগুলির বেশিরভাগই ছিল সিরিয়ালে মনিকাদের যা খেতে দেখা যেত সেরকমই। যেমন মামাস লিটল বেকারির চিজকেক, মনিকার প্রিয় স্যান্ডউইচ।

‘কিন্তু ফ্রেন্ডস থিম সেভাবে জনপ্রিয় হল না। যে এলাকায় এই ক্যাফে সেখানে ইডলি ধোসার চল বেশি। মনিকার প্রিয় মাড পাই কেউ খেতে চান না। তাছাড়া ফ্রেন্ডসের যারা ফ্যান প্রথম দিকে বেশ উৎসাহ নিয়ে তারা আসতেন, কমলা কাউচে বসে, প্যাট মানে স্যান্ডলার আর জোয়ের প্রিয় কুকুরের মূর্তির সঙ্গে ছবি তুলে মজা পেতেন। সেটাও কিছুদিনের মধ্যে বোরিং হয়ে গেল। আর যারা সিরিয়ালটা দেখেনইনি তাদের তো ফ্রেন্ডস ক্যাফে নিয়ে কোনও উৎসাহ থাকার কথাই নয়। ৬ মাসের মধ্যে বুঝে গেলাম বদলে ফেলতে হবে’, বলছিলেন মহিমা। চার তরুণ উদ্যোক্তা ঠিক করে ফেললেন কীভাবে বদলে দেবেন নিজেদের ক্ষুদ্র সঞ্চয় আর বাড়ির সামান্য সাহায্যে গড়ে তোলা মায়া মমতা মাখা ফ্রেন্ডস ক্যাফে।

ফ্রেন্ডস এবার নতুন লুকে, মেনুতেও অনেক বদল হয়েছে। ৮৫ সিটের চিল জোন দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটা পার্টের দেওয়াল জুড়ে মজার খেলা, ঢোকার মুখেই জানিয়ে দিচ্ছে মস্তি জোনে পা রাখলেন আপনি। পাশেই জায়েন্ট স্ক্রিনে আইপিএলের খেলা দেখার ব্যবস্থা। প্রথম দিকে সিরিয়ালের অনুকরণে বিখ্যাত কমলা রঙের সোফা রাখা হয়েছিল। সেটা বদলে এখন বেগুনি কাউচ রাখা হয়েছে,কিন্তু মস্তি সেই আগের মতোই আছে।‘সামান্য অদল বদলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব কঠিন ছিল। কারণ F.R.I.E.N.D.S এর সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িয়ে। পুরনো প্রপসগুলি সরিয়ে আমার আর মহিমার ঘরে নিয়ে রেখেছি। কারণ ফ্রেন্ডসের বিরাট ফ্যান আমরা, ছেড়ে থাকার কথা ভাবতে পারি না। নতুন লুকে এখনও পর্যন্ত ভালই ফিডব্যাক পেয়েছি, একটাও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাইনি’, উচ্ছ্বসিত বছর পঁচিশের আদিত্য। আর একটাও নেই।

মেনুতে এখন অনেক বেশি ভারতীয় খানার পদ। তাছাড়াও পাওয়া যাবে পিজা বম্ব, মাশরুম, মাশরুম সস আর ব্রোকোলি, পনির সঙ্গে কাসুন্দি আর ঝাল লাল সস-খেলে মন ভরে যাবে। চকোলেট ফন্ডু, মেন কোর্সের শেষে ব্রাউনি স্টিক,চকোলেট ওয়েফার, ক্রিমে ভরা চকোলেট সস ডেজার্ট হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। পাওয়া যাবে নানা ধরনের আইসক্রিম। দ্য ফ্রিক শেক, কুকিজ,চকোলেট, কিটকেট, ব্রাউনি বিটসআর আইসক্রিম সব মিলিয়ে একপ্লেট ভারি খাবারের সমান মিল্কশেক, অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে।মাতারগাস্তি চাকায় ভাগ্য পরীক্ষা হতেই পারে। ফ্রিতে খাবার অথবা বিলে ১০০ টাকা ছাড় মিললে আর কী চাই।

Related Stories