সল্টলেকে স্টার্টআপ ফেস্টে জন্ম নেবে থিওরেক্স

0

কলেজ ফেস্ট অনেক হয়। ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্ট ফেস্টও হয়। সেখানে রক ব্যান্ড থেকে ধ্রুপদী মান্নাকণ্ঠী চরম সংস্কৃতির একজিবিশনও হয়। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, সংস্কার কাটিয়ে সারারাত পার্টি আভি বাকি হ্যায় দেখে দেখে অভ্যস্ত চোখ এবার চমক দেখবে। মৌলনা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে হবে অন্যরকম স্টুডেন্ট ফেস্ট। দুদিন ধরে সেখানে চলবে কনস্ট্রাক্ট। নামেই টের পাচ্ছেন নিশ্চয়ই এখানে তাই হবে যা গঠন মূলক। উদ্যোগপতি হওয়ার হাতেখড়ি হবে সেখানে। আয়োজক ছাত্রদের দলপতি রণদীপ সাহা, নিজে একটি স্টার্টআপ চালান। রেয়ার প্ল্যানেট। বলছিলেন ওদের এই উদ্যোগের পিছনে শুধু মজা নয় কাজের কাজ করার সদিচ্ছা ছিল। ওদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে Mozila, Nasscom 10,000 startup initiative, IndUs, Telegraph, 91.9 Friends FM, বাংলা YourStory-র মত সংস্থা। এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু স্টার্টআপ সংস্থাও, যেমন Streets of Calcutta, Duck Duck Go, Social Bong, Scroll Back, Treasures of Innocence এবং TheoreX ইত্যাদি।

এই সব স্টার্টআপগুলির মধ্যে নবীনতম সম্ভবত থিওরেক্স। ২৭ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানেই পৃথিবীর মুখ দেখবে থিওরেক্স। ফলে এই সংস্থাকে সদ্যোজাত না বলে ভূমিষ্ঠ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি স্টার্টআপ বলাই ভালো। কথা হচ্ছিল সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অয়ন চৌধুরির সঙ্গে। ওঁর কাছ থেকে জানা গেল সংস্থার মূলে আছেন তিন বাঙালি তরুণ। অয়ন ছাড়া বাকিরা হলেন সুমন্ত্র মুখার্জি আর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বয়স পঁচিশের কম। প্রধানত অয়নের উদ্যোগেই জন্ম থিওরেক্সের। দেবপ্রিয় কোলাঘাট ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের ছাত্র। মাইক্রোসফট নিয়ে কাজ করেন সুমন্ত্র। মার্চের প্রথম দিকে থিওরেক্সের কাজকর্ম সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যাদি পাওয়া যাবে সংস্থার ওয়েব সাইটে। 

প্রাথমিকভাবে অয়ন জানালেন, থিওরেক্স মূলত শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করবে। এবং এমন একটা স্টার্টআপ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যেটা খুব শিগগিরই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রদের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠবে। অয়ন নিজে একজন ইঞ্জিনীয়ার। নিজের পড়ার সময় যেসব সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হয়েছিলেন সেখান থেকেই জ্বলেছিল আইডিয়া বাল্ব। অয়ন বলছিলেন, ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করার পরে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউতে একটি মাত্র সংস্থা থেকে ডাক পেয়েছিলাম। তাছাড়া, ওই সংস্থাটি আমার পছন্দের তালিকায় ছিল না। তখনও নিজে ব্যবসা করব এরকমটা সাহস পাইনি। কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরুতে যাই। সেখানে একটি স্টার্ট আপ সংস্থায় কনটেন্ট রাইটার হিসাবে কিছুদিন কাজ করি। সেসব সময় একটু একটু করে ওর আইডিয়া বাল্বের আলোর তীব্রতা বাড়তে থাকে। যুক্ত হয়ে পড়েন ওপেন সোর্স সংস্থা মোজিলার সঙ্গে। অবশ্য মোজিলার কাজটা স্বেচ্ছাসেবার স্তরেই ছিল। কিন্তু হলে কি হবে, মোজিলার কাজ করতে করতে ওপেন সোর্স কম্যুনিটি সম্পর্কে ওঁর স্বচ্ছ ধারনা তৈরি হয়। ততদিনে চাকরি করার ইচ্ছে উবে যায়। নিজেই কিছু করবেন এরকম স্থির করে বেঙ্গালুরুর চাকরি ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গড়ে ফেলেন থিওরেক্স।

ঠিক কী করবে থিওরেক্স?

মূলত অনলাইনে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ইঞ্জিনীয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস করানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন ওঁরা। এককথায় শুনে মনে হতেই পারে এ আর নতুন কী, ঠিক তাই নতুন নয়। কিন্তু এই পরিষেবা সহজে এবং সস্তায় দেওয়ার মধ্যেই অয়নদের যত কারিকুরি। বলছিলেন, ছাত্রছাত্রীদের ওপর যেন অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ না পড়ে, এ ব্যাপারেই লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। একমাসের ক্লাসের জন্য থিওরেক্স ফিজ নেবে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো। এজাতীয় ক্লাস তিনি নিজেও করেছেন এক সময়। যদিও অয়নের অভিজ্ঞতা খুব ‌একটা সুখের ছিল না। ভিডিও কোয়ালিটি খারাপ হত। টাকাটাও অনেকটাই বেশি লাগত। ৬ মাসের ক্লাস ১৫ দিনে করানো হত। স্বভাবতই, ছাত্রছাত্রীদের খুব একটা লাভ হত না। অয়ন বলছিলেন, আট-দশ হাজার টাকা খরচ করে আমি নিজেও ওই ধরনের ক্লাস করেছি। তেমন কোনও ফল পাইনি। থিওরেক্স ক্লাস করাবে বিগিনার, ইন্টারমিডিয়েট ‌এবং অ্যাডভান্স, এই তিন ধরণের পড়ুয়াদের দরকার মতো তিনটি পর্যায়ে। অয়ন বললেন, থিওরেক্স বলতে আমরা বোঝাতে চাইছি, তত্ত্ব ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে গেলে তত্ত্বের যেমন একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হাতেকলমে শিক্ষা। এই বাস্তব উপলব্ধিই থিওরেক্সের দর্শন। 

Entrepreneur's Vibe

এই  দুদিনের কর্মশালায় মোজিলা ওপেন সোর্স অথবা মেশিন লার্নিং এবং ব্লগ নিয়ে ওয়ার্কশপ থাকছে। থাকছে Entrepreneur's Vibe বাংলা ইওরস্টোরির ইভেন্ট। সেখানে স্টার্টআপ সংস্থার কর্ণধারেরা উপস্থিত থাকবেন আলোচনা করবেন তাঁদের পথ চলার নানা সমস্যা নিয়ে এবং ধুলো ঝেড়ে কিভাবে তারা দাঁড়িয়েছেন সেকথাও বলবেন উদীয়মান উদ্যোগপতিদের। জনসংযোগ ইনকিউবেটর হিসেবে স্টার্টআপদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে তৈরি কলকাতার অন্যতম পরিচিত পাবলিক রিলেশন সংস্থা গ্রে মেটার পি আর। সংস্থার কর্ণধার মালা দাশগুপ্ত জানালেন তাঁদের উদ্যোগ With You-র সাহায্যে তাঁরা কলকাতার কম করে তিনটি স্টার্টআপ সংস্থা এবং তিনটি সোশ্যাল আন্ত্রেপ্রেনিওরকে বেঁছে নিতে চান। যাদের পাবলিক রিলেশন সংক্রান্ত সমস্ত সহযোগিতা নামমাত্র মূল্যে অথবা বিনামূল্যে করে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগেরও ঘোষণা হবে ২৮ তারিখের ইওরস্টোরি বাংলার ইভেন্টের মঞ্চে।