অন্ত্রেপ্রেনিওর হিসেবে হাতেখড়ি ? জেনে নিন সমস্যার হালহকিকত

0

কর্পোরেট অফিসের মোটা মাইনের চাকরি নাকি স্টার্টআপ-এর ঝুঁকি ? আমার পছন্দ জিজ্ঞাসা করা হলে কিন্তু আমি দ্বিতীয় পেশাকেই বেছে নেব। কারণ নিজের উদ্যোগে কিছু করার মধ্যে অদ্ভুত শান্তি আছে, যেটা চাকরি করে কখনওই পাওয়া যায় না। কিন্তু স্টার্টআপ হওয়া ‌যতটা রোমাঞ্চের, ততটাই চ্যালেঞ্জিংও।

আমার বন্ধুবান্ধবদের অনেকেই শুরুয়াতি ব্যবসায় জড়িত। তাঁদের যে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তা মোটের ওপর একই। এক বছরের কম বয়সী যে কোনও স্টার্টআপই এটা উপলব্ধি করতে পারবেন।


১. আপনার সঙ্গী

নিজের বন্ধুদের সঙ্গে ভাবনা ভাগ করে নেওয়ার সময় যদি তাঁদের মধ্য থেকে সঙ্গী পেয়ে যান তবে আপনার থেকে ভাগ্যবান আর কেউ নন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সকলেই এমন ভাগ্যবান নন। এই পরিস্থিতিতে একজনের কী করা উচিত ?

বাইরে বেরোন। বন্ধুবান্ধব, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ভাবনা শেয়ার করুন, এমন সব প্ল্যাটফর্ম থেকে স্টার্টআপের জন্য সঙ্গী পেয়ে যাবেন যা কখনও ভাবতেও পারেননি।

২. আপনার টিম

প্রথম ৫ জন কর্মী নিয়োগের কাজটা কিন্তু বেশ শক্ত। সেই প্রক্রিয়া ধাক্কা খেলে হতাশ হবেন না। আপনি একা নন, প্রায় সমস্ত স্টার্টআপ-ই একই সমস্যায় ভোগেন।

যোগ্য প্রার্থীদের নিজের ভাবনার কথা বলুন। আপনার মিশনে সামিল হতে উদ্বুদ্ধ করুন। হতে পারে আপনি প্রথমেই ঝকঝকে অফিস, লোভনীয় পে প্যাকেজ তাঁদের দিতে পারবেন না, কিন্তু কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ ও সাহায্যের আশ্বাস তো দিতেই পারেন। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই কর্মীদের যোগ্যতার সঙ্গে আপোষ করা যাবে না। মনে রাখবেন ওঁরাই সংস্থার ভিত, ভবিষ্যত নির্মাণ করবেন (ভাল হোক বা খারাপ)।

৩. প্রাথমিক গ্রাহক

কী ধরনের ব্যবসা করছেন তার ওপর গ্রাহকের সংখ্যা নির্ভর করে। বিনামূল্যের মোবাইল অ্যাপ হলে রাতারাতি কয়েক হাজার গ্রাহক পাওয়া অসম্ভব নয়। অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও গ্রাহক পেতে পেতে কয়েকদিন তো লেগেই যায়। কিন্তু বিটুবি ব্যবসায় গ্রাহক পেতে কয়েক মাস কেটে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

ব্যবসায় নেমেই টাকার পিছনে দৌঁড়াবেন না। বরং সন্ধান করবেন একনিষ্ঠ গ্রাহকদের-- আপনার প্রোডাক্ট নিখুঁত না হলেও যারা আপনাকে ছেড়ে যাবে না।

এর অর্থ অবশ্যই এটা নয় যে লাভের অঙ্ক রাখাটা অন্যায়। কিছু লাভ নিশ্চয়ই রাখবেন কিন্তু অর্থ উপার্জন আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য না হওয়াই ভাল।

৪. ‘গ্রোথ চ্যানেল’ চিহ্নিত করা

আগে বিনিয়োগকারীদের তুষ্ট করতে স্টার্টআপ-দের আকর্ষণীয় আইডিয়া দিতে হত। কিন্তু এখন বৃদ্ধির রোডম্যাপ জানতেই বেশি আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা।

স্টার্টআপ বিশেষ করে অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে গ্রাহক পাওয়া তত কঠিন নয়। কিন্তু একনিষ্ঠ গ্রাহক পাওয়াই বেশিরভাগ শুরুয়াতির কাছে চ্যালেঞ্জ।

অন্তত একটা গ্রোথ চ্যানেল চিহ্নিত করতে হবে যেখান থেকে ভবিষ্যতে ‘পেড কাস্টমার ‘ পাওয়া যেতে পারে।

৫. পথপ্রদর্শক

আমার প্রথম স্টার্টআপে মেন্টর পাইনি। দ্বিতীয় স্টার্টআপে একজনকে পেয়েছিলাম। তাই স্টার্টআপে আর ব্যক্তিগত জীবনে মেন্টরদের কতটা প্রভাব পড়ে সেটা আমার চেয়ে ভাল কেই বা জানে। আপনার মানসিকতার বিকাশ ঘটান মেন্টররা। উপদেষ্টা বা কনসালট্যান্ট-এর থেকে সমস্যার গভীরে গিয়ে কাজ করেন এঁরা। শুধু স্টার্টআপের সমস্যা নয়, আপনার লক্ষ্য সম্পর্কেও তাঁরা পুরোপুরি ওয়াকিবহাল।

এমন একজন মেন্টরকে পাশে নিন যিনি অতীতে আপনার মতোই সমস্যায় পড়েছেন এবং তার মোকাবিলা করেছেন। এমন মেন্টরদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন যাঁরা কোনওদিন নিজের সংস্থা খোলেননি। কিংবা স্টার্টআপের সমস্যার শিকড়ে পৌঁছাননি।

৬. ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি থাকা বাড়তি অ্যাডভান্টেজ

দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছেন তাঁদের পক্ষে পরিচিতি বাড়ানো অনেক সহজ। কিন্তু শুরুয়াতিদের তেমন যোগাযোগ না থাকাটাই স্বাভাবিক।

ব্যবসায় নামার সঙ্গে সঙ্গেই পরিচিতি বাড়ানোর কাজটা আপনাকে শুরু করে দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই জরুরি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের স্টার্টআপ-এর খবর ছড়িয়ে দেওয়া। এ ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ার থেকে শক্তিশালী হাতিয়ার আর কিছু হতে পারে না। টুইটার, লিঙ্কডিন, ফেসবুক আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

৭. লগ্নি

প্রথমেই লগ্নির চিন্তা মাথায় আনবেন না। কোর টিম তৈরি করে বাজারলোভ্য পণ্য আনার পরই ভাববেন লগ্নি পাওয়ার কথা ।

আপনার ভাল টিম আর আকর্ষণীয় পণ্য থাকলে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন নয়। কিন্তু লগ্নিকারীদের পিছনে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকলে পণ্যের মানোন্নয়ন কীভাবে করবেন ?

পরিকল্পনা স্তরে লগ্নি পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্য, যদি না

• আপনার স্টার্টআপ সাফল্যের অতীত রেকর্ড থাকে

• নিজ ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করার স্বীকৃতি থাকে

অবশেষে

স্টার্টআপ-এর শুরুয়াতি পথ মসৃণ হয়। কারণ সফ্টওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এডব্লুএস আর অ্যাজিওরের সৌজন্যে সার্ভার বাবদ খরচও নগণ্য। সৌশ্যাল মিডিয়ার বদান্যতায় বাজারিকরণের খরচও শূন্য। আর ভাবনার তো কোনও অভাবই নেই এই ফিল্ডে।

তাই শুরুয়াতিরা প্রথম এক মাস ব্যয় করবেন বাজারের সমীক্ষায়। পরের তিন মাস পণ্যের উন্নয়ন এবং দুমাস সেলস আর মার্কেটিংয়ে। ৬ মাসেই আপনি বুঝে যাবেন আপনার স্টার্টআপ সফল না ব্যর্থ।

লেখক পারদীপ গয়াল

অনুবাদ শিল্পী চক্রবর্তী