ছত্তীসগঢ়ের চালে অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই

0

রায়পুরের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন উচ্চমানের জিঙ্ক সমৃদ্ধ চাল ছত্তীসগঢ়ের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়, যেখানে সাত লক্ষ শিশু এখনও অপুষ্টিতে ভোগে।

ছত্তীসগঢ় জিঙ্ক রাইস-১, নতুন ধানের বীজ। ভারতে প্রথম জিঙ্ক-বায়ো ফরটিফায়েড ধান। নতুন ধরনের এই ধানের বীজ মার্চে বাজারে নিয়ে এসেছে স্টেট ভ্যারাইটি রিলিজ কমিটি। পরের খরিফ মরশুমে নতুন ধান উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। একইসঙ্গে ইন্দিরা গান্ধি এগরিকালচার ইউনিভার্সিটি, রায়পুরের গবেষকরা অধ্যাপক গিরীশ চাণ্ডেলের নেতৃত্বে দু ধরনের উচ্চমানের জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের বীজ আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে একটি বাজারে ছাড়া হয়েছে। ‘দেশে সবুজ বিপ্লবের শুরু থেক ধানের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছিলাম, লক্ষ্য ছিল ক্ষুধা মুছে দেওয়া। এইভাবে চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা উৎপাদন বাড়িয়েছি কিন্তু ফসলের মান বাড়েনি’, পিটিআইকে বলছিলেন চাণ্ডেল।

'২০০০ সালে কেন্দ্র, স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একটি সমীক্ষায় জানতে পারে আমাদের জনসংখ্যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অপুষ্টিতে ভোগে শুধুমাত্র আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এর মতো খনিজের অভাবে। তারপরই সরকার সিদ্ধান্ত নিল বিভিন্ন রাজ্যে তিন খাদ্য শস্য-ধান, গম, ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণা শুরু করা হবে’,তিনি জানান।

পিটিআইয়ের সূত্র অনুযায়ী, ওই প্রোগ্রামের অধীনে শস্যগোলা ছত্তীশগঢ়ে শস্যের মান নিয়ে গবেষণা হবে ‘রাইস বায়ো ফরটিফিকেশন রিসার্চ প্রজেক্ট’ এ। ২০০৩-০৫ সালে প্রথম পর্যায়ে ২০০ ধরনের ধান চিহ্নিত করা হয়েছিল যার পুষ্টিমান অত্যধিক কিন্তু নিন্ম ফলনশীল, জানান চাণ্ডেল। পরের ধাপে ২০০৬-১১ সালে আরও উন্নতমানের বীজ উৎপাদিত হয় যা উচ্চফলনশীল এবং জিঙ্ক যুক্ত ফলনে সক্ষম। ২০১৩ য় কেন্দ্র ঠিক করল সারা দেশে ইতিমধ্যে যা যা গবেষণা হয়েছে তার ফল বুঝতে হায়দরাবাদে ‘ডিরেক্টরেট অব রাইস রিসার্চ’এর তত্বাবধানে আলাদা করে গবেষণা চালাবে। অবশেষে মানের বিচারে চার ধরনের বীজ বেছে নেওয়া হয় যার মধ্যে প্রথম দুটি ধরনই এসেছে ছত্তীসগঢ় থেকে। ‘আপাতত নতুন ধরনের ১০০ কেজি বীজ আছে এবং এটাকে আমরা ১০ একরে বাড়াতে চাই। এই বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এই বীজ রাজ্যের ৫০০০ কৃষককে দেওয়া হবে। রোপন শুরু হবে পরের খরিফ মরশুমে’, জানান চাণ্ডেল।