রেলের কাছে ৫০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড

রেলভ্রম‌ণকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করার জন্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে স্টার্ট আপ সংস্থাগুলির মাধ্যমে। এজন্য ৫০ কোটি টাকার একটি ইনোভেশন ফান্ডও গড়া হয়েছে।

0

রেলভ্রম‌ণকে আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করার জন্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে স্টার্ট আপ সংস্থাগুলির মাধ্যমে। এজন্য ৫০ কোটি টাকার একটি ইনোভেশন ফান্ডও গড়া হয়েছে।

২২ মিলিয়নেরও বেশি সংখ্যক যাত্রী নিত্যদিন রেল পরিষেবা নিয়ে থাকেন। ১৬৩ বছরের প্রাচীন ভারতীয় রেল ১ লক্ষ ১৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ব্যবস্থা। স্টার্ট আপ সংস্থাগুলি তাদের প্রযুক্তি পরিষেবা দিয়ে রেলযাত্রীদের চলাচলকে নির্বিঘ্ন করার কাজে নেমেছে।

সাম্প্রতিক বাজেট বক্তৃতায় রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু ঘোষণা করেছেন, রেল পরিষেবাকে নিরাপদ করতে ইনকিউবেটর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে রেল দফতরের। রেলযাত্রী সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা কপিল রাইজাদা বলেছেন, কোনও যাত্রীর দূরপাল্লার ট্রেনের কনফার্ম না হওয়ার খবরটি ওই যাত্রীকে জানিয়ে দিতে পারলে তিনি তাঁর কিছু টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর সেইসূত্রে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞও থাকবেন।

২০১৪ সালে রেলযাত্রী সংস্থা তৈরি করা হয়। সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ৪৫ বছরের কপিল জানিয়েছেন, মাসে ৩০ লক্ষ মানুষ রেলযাত্রী সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হচ্ছেন। গত ছয় মাসের ভিতর সংখ্যাটা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। রেলযাত্রী যে পরিষেবাগুলি দিয়ে থাকে তার ভিতর আছে ও‌য়েটিং লিস্টে আপনার টিকিটটি কী ‌অবস্থায় আছে, সে সম্পর্কিত খবরাখবর থেকে ট্রেনের গতিবিধি সংক্রান্ত খবরাখবর পর্যন্ত। সম্প্রতি রেলযাত্রীতে বিনিয়োগ করেছেন ইনফোসিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নন্দন কুলকার্নি। নন্দন আধারেরও প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এছাড়া হেলিয়ন ভেঞ্চার, ওমিডার নেটওয়ার্ক, ব্লুমি ভেঞ্চার ও উজামা রেলযাত্রীতে টাকা ঢালছে।

ওয়েটিং লিস্টে টিকিটটি পড়ে থাকলে রেলযাত্রীর দুশ্চিন্তা ও বিরক্তির শেষ থাকে না। বিনিত কুমার চিরানিয়া একটি অ্যাপের মাধ্যমে রেল যাত্রীদের এই তুমুল বিরক্তি থেকে রেহাই দিয়েছেন। ট্রে্নম্যান নামে ওই অ্যাপ পরিষেবা চালু হয়েছে ২০১৪ সাল থেকে। ওয়েটিং লিস্টে টিকিটের কী হাল কোনও যাত্রী তা ওই অ্যাপের মাধ্যমেও জানতে পারবেন। যাত্রীকে এমএমএস করে সে খবর জানিয়ে দেবে ভারতীয় রেলের ওয়েব সাইট আইআরসিটিসি। অ্যাপ আরও জানাবে বগিগুলির খবরাখবর, কোন ট্রেন কতটা দেরি করে চলছে বা ট্রেনের সময়সীমায় কোনও পরিবর্তন হল কিনা।

স্টার্ট আপগুলিকে রেল আরও নানা কাজে লাগাচ্ছে। যেমন, বুকিং ও খাবারদাবার সরবরাহেও স্টার্ট আপগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কনফার্ম টিকেটি নামে একটি স্টার্ট আপ সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্রীপদ বৈদ্য বললেন, তিরুবনন্তপুর থেকে কলকাতার টিকিট হয়তো আপনার দরকার। কিন্তু ওই রুটে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আপনাকে কলকাতা আসতে ভাইজাগ থেকে কলকাতার টিকিট দেওয়া হবে। আমরা এই বিকল্প পরিষেবা দেওয়ার কাজটাই করে থাকি। এই পরিষেবা চালু করার জন্যে স্টার্ট আপটি ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়েছে।

২০১২ সালে গড়া হয়েছিল ট্র্যাভেল খানা নামে একটি স্টার্ট আপ। এই সংস্থা যাত্রীদের রেস্তোরাঁ পরিষেবা দিয়ে থাকে। ১৫ হাজার ট্রেনে এই পরিষেবা চালাতে ট্র্যা‌ভেল খানা বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। খাবারও ভাল মানের। এপর্যন্ত ২৫০টি রেল স্টেশনে ট্ৰ্যাভেল খানার পরিষেবা মিলছে। দুপুর বা রাতের জন্যে ৫ হাজার যাত্রী প্রতিদিন খাবারের অর্ডার দিয়ে থাকেন। এ জন্য একটি ফোনই যথেষ্ট। তাছাড়া, ওয়েব সাইট ও অ্যাপের মাধ্যমেও যাত্রীরা খাবারের অর্ডার দিতে পারেন। এ তথ্য জানিয়েছেন ট্র্যাভেল খানার প্রতিষ্ঠাতা পুষ্পিন্দর সিং।

অন্যদিকে বিকাশ জাগেটিয়ার অ্যাপ ও মিত্রা যাত্রীদের একঘেয়েমির কাটানোর কাজটি করছে। ৩৫ বছরের বিকাশের কথায়, আমরা উপলব্ধি করেছি কেবলমাত্র সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলি একঘেয়েমি কাটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। একারণে গানবাজনা, সিনেমা, নানা ধরনের খেলার ব্যবস্থা রেখেছি। খাদ্য পরিষেবাও দিয়ে থাকে বিকাশের সংস্থা।

Related Stories