বিতর্কের স্থানে বিনিয়োগ – ডিবেট. এফএম

0

সাধারণত বিতর্ক থেকে দূরে থাকে বিনিয়োগ। কিন্তু কিন্তু কিছু থাকলেই আগেভাগে কেটে পড়নে লগ্নিকারীরা। তবে এ যেন এক অন্য স্থান। এখানে বিতর্কই বিনিয়োগের মূলধন। যার ওপর ভরসা করেই গড়ে উঠেছে ‘ডিবেট. এফএম‌’। হ্যাঁ, ব্যতিক্রমী হলেও এটা সত্যি। নিছক আড্ডা নয়, কফি হাউসে বসে চায়ের কাপে তুফান তোলার প্রয়োজন নেই। কোনও বিতর্কে অংশ নিতে চান ? মাউসের ছোঁয়ায় ঘরে বসেই সমাধান। ডিবেট. এফএম-এর মাধ্যমে আপনার যুক্তিও জানতে পারবেন অন্য কেউ। পাল্টা আপনার বিরুদ্ধে যুক্তি শানানোর সুযোগ থাকবে তাঁদেরও। সম্প্রতি এমনই এক অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেছেন বঙ্গসন্তান কামনাশিস রায়।

ফেসবুক, টুইটারের যুগে আলাদা কোথায় ডিবেট. এফএম। কোম্পানির কর্ণধার কামনাশিসের কথায়, তাঁদের মঞ্চ এলোমেলোভাবে মতামত বিনিময়ের কোনও জায়গা নয়। এখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর ওপরই তর্ক করা যায়। টিভির সঞ্চালকের মতো আপনার মতামতকে থামিয়ে দেওয়ার কোনও জায়গা নেই। সুষ্ঠুভাবে বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীকে তিনটি স্তরের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। ফলে এক মনোগ্রাহী আলোচনার সাক্ষী থাকেন অংশগ্রহণকারীরা।


অভিনব এই চিন্তাভাবনার রসদ জুগিয়েছিল কিন্তু টেলিভিশনই। টিভিতে পরমাণু চুল্লি নিয়ে একটা বিতর্কই ‘মস্তিষ্কের রক্তপ্লাবন’ ঘটিয়েছিল কামনাশিসের। পরদিন অফিসের সহযোগীদের অনলাইন বিতর্কসভার ভাবনটা জানান তিনি। বিকেল চারটের মধ্যেই অনলাইনে বিতর্কসভার নমুনটা ‘ইন্ডিয়াপোস্ট.কম’ নামে প্রকাশ করেন তাঁরা। পরদিন থেকে মাত্র একটি বিতর্ক নিয়ে প্রচারে হাত লাগান তিনি। ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় তর্কসভার মঞ্চ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়ে যায়। খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, কামনাশিসদের মঞ্চের মতো ভূ-ভারতে এমন কোনও প্ল্যাটফর্ম নেই। ব্যাস, দেরি না করে অনলাইনে বিতর্কসভার প্রস্তুতিতে হাত লাগান কামনাশিসের সহকর্মীরা। তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ পায় ‘ডিবেট. এফএম’।

অন্যান্য ব্যবসার মতো এখানে যন্ত্রাংশে মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না। এখানে ব্যবসার মূলধন বলতে বোঝায় ‘ম্যান পাওয়ার’। আরও ভেঙে বলতে গেলে ‘তার্কিক’ নিয়োগ। প্রথম দিকে অফিসের সহযোগীরাই কামনাশিসের হয়ে এই কাজটি সামলান। নিজেদের অফিসের কাজের পর বিতর্ক মঞ্চের জন্য সময় বের করেন। তাঁদেরও বুঝতে অসুবিধা হয়নি, অভিনব এই মঞ্চের একটা ভবিষ্যৎ আছে।

তবে ভবিষ্যতে এই মঞ্চে বিনিয়োগের বিষয়টি এখনই খোলসা করতে চান না সংস্থার কর্ণধার। যদিও ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে চিরাচরিত বিজ্ঞাপনের পথে হাঁটতে চান না তিনি। কোনও বিকল্প পথেই লগ্নি চান বিতর্ক মঞ্চে। আপাতত তাঁর উদ্দেশ্য, ডিবেট. এফএম-কে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। যাতে কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মানুষ বিতর্কের সুযোগটুকু পান।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক সাহিত্যে মাস্টার্স করেন কামনাশিস। পরে সেখান থেকেই মাস কমিউনিকেশনে ডিপ্লোমা করেন। বিঞ্জাপনের জগৎ দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের শুরু। এক বছর বিজ্ঞাপনরে জগতে থাকার পরই ‘অনলাইন মার্কেটিং’-এ যোগ দেন। গত ৬ বছরে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং’ ও ‘ওয়েব ডিজাইনিং’-এ কাজ করেছেন। বেশ কয়েক বছর হল ‘ওয়েব প্রচার.কম’ নামের একটি কোম্পানি এনেছেন কামনাশিস ও তাঁর সহযোগীরা। ‘ডিবেট. এফএম’ তাদের অন্যতম ‘প্রোডাক্ট’। ইতিমধ্যেই অনলাইন এই বিতর্ক মঞ্চ মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের ৪৪টা দেশের ১৮১টি শহরের মানুষ এই মঞ্চে অংশ নিয়েছেন। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নন উদ্যোক্তারা। তাঁর আশা, আগমী দিনে এই বিতর্ক মঞ্চ থেকেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

Related Stories