অবিবাহিত নারী চাইলে গর্ভপাত করাতে পারবেন!

জন্মনিরোধক কাজ না করলে অবিবাহিতারাও গর্ভপাত করাতে পারবেন, প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের। 

1

গর্ভপাত। এই শব্দের সামনে ধর্ম, সংস্কার, সমাজ সব রে রে করে ওঠে। সমাজের মাথারা এক বাক্যে বলেন 'না'। এই 'না' একটি জীবন নষ্ট করার পরিকল্পনাকে ঘৃণা করে উঠে আসে না। বরং সন্তান ধারণের প্রশ্নে নারীর স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্যে সব সময় উঁচিয়ে থাকে। আর তা যদি সমাজ সংসারের বিধি ভঙ্গ করে অবিবাহিত নারীর সন্তান ধারণের প্রশ্ন হয় তখন সেই কাহিনিতে বাড়তি উৎসাহ খুঁজে পান সমাজপতিরা। ভারতে তো বটেই গোটা দুনিয়ায় প্রায় একই চিত্র। গর্ভপাত করা নিয়ে দুনিয়া জুড়েই জোর বিতর্ক রয়েছে। গর্ভপাত ইস্যুতে দুনিয়া কার্যত দুটি শিবিরে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে ভারতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে গর্ভপাত নিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 

এজন্য মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগনেন্সি অ্যাক্ট বা এমটিপি সংশোধনের ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। গর্ভপাত সংক্রান্ত পুরনো আইনে সংশোধনী করে স্বাস্থ্য মন্ত্রক চাইছে জন্মনিরোধক কাজ না করার জেরে যদি অবিবাহিত মেয়েরা গর্ভবতী হয়ে পড়েন, সেক্ষেত্রে সন্তান প্রসবে অনিচ্ছুক হলে ওই মেয়েদের যে কেউ নতুন আইন অনুসারে গর্ভপাত করানোর অধিকার লাভ করবেন। প্রসঙ্গত, বর্তমানে জন্মনিরোধক কাজ করায় কেবলমাত্র বিবাহিত মহিলারাই আইনানুগভাবে গর্ভপাত করানোর অধিকারী।

গর্ভপাত সংক্রান্ত নতুন আইনটি কার্যকর করতে হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও সংসদের অনুমোদন দরকার। সেই বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর। নতুন আইনটি যদি শেষপর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে তা নারী অধিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইল ফলক হিসাবে চিহ্নিত হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে গর্ভপাত করাতে হলে তা গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহের ভিতর করানোই নিয়ম। তবে চলতি বছরে্র জুলাইয়ে দেশের শীর্ষ আদালত ২৪ সপ্তাহের গর্ভবতী এক ধর্ষিতাকে গর্ভপাত করানোর অনুমোদন দেয়। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তটিও ছিল একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। সারা দেশে হাতুড়ে ডাক্তারদের একাংশ বেআইনিভাবে গর্ভপাত করিয়ে থা্কেন। অবিজ্ঞানসম্মত ওই প্রক্রিয়ার জেরে বহু তরুণীর মৃত্যুও এদেশের জলভাতের মতো ঘটনা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রস্তাবে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার, নার্সদের গর্ভপাত সংক্রান্ত আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে খবর। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগনেন্সি অ্যাক্টে সংশোধনী এনে যুগোপযোগী কাজ করেছে।