স্থানীয় বাজারে ডেলিভারি বন্ধ করল Pickingo

0

'লোকালবন্যা','টাউনরাশ'-এর পর এবার সমস্যায়, হাইপারলোকাল বি-টু-বি লজিস্টিক্স স্টার্ট আপ 'পিকিঙ্গো'। গুরগাঁওয়ের এই সংস্থা খুচরো ব্যবসা এবং রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে তাদের পরিষেবা বন্ধ করল। সংস্থার কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আমরা 'পিকিঙ্গো'-র এক এক্সিকিউটিভের সঙ্গে রেস্তোরাঁর ডেলিভারির পার্টনারশিপের নাম করে কথা বলি। তখনই তিনি যানান স্থানীয়ভাবে জিনিসপত্র আদান প্রদানের পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে তাঁদের সংস্থা।

ওই কর্মচারীর মতে, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে ডেলিভারি এখনও চালিয়ে যাচ্ছে 'পিকিঙ্গো'। গত সেপ্টেম্বরে এই সংস্থায় খানিকটা বিনিয়োগ করেছিল 'জোম্যাটো'। সূত্রের খবর, ৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের বিনিময়ে এই টাকা দিতে রাজি হয়েছিল 'জোম্যাটো'। ওরিয়স ভেঞ্চার পার্টনার্সের রেহান ইয়ার খান এবং জিশান হায়াথের সহযোগীতায় অগাস্ট মাসে ১.৩ মিলিয়ন ডলার পুঁজি জোগাড়ে সক্ষম হয়েছিল 'পিকিঙ্গো'। ইওর স্টোরির তরফে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাহুল গিলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বারবারই পরিষেবা সীমার বাইরে বলে বার্তা এসেছে।

কয়েকজন আইআইটি এবং আইআইএম স্নাতকের হাত ধরে ২০১৪ সালে পথচলা শুরু হয় 'পিকিঙ্গো'-র। প্রথমদিকে শুধুমাত্র রিভার্স পিক-আপ পরিষেবা, অর্থাৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে জিনিস নিয়ে কোনও সংস্থার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করত এই সংস্থা। দেশের ৬টি বড় শহরে জাবং, শপক্লুজ, স্ন্যাপডিল, পেটিএম-এর মতো কোম্পানির সঙ্গে কাজ করা শুরু করেছিল 'পিকিঙ্গো'। পরে অন-ডিমান্ড-হাইপারলোকাল ডোলিভারির কাজও শুরু করে তারা। অন্তত ৩০০টি রেস্তোরাঁ, মুদিখানা এবং ওষুধের দোকানের ডেলিভারি করছিল 'পিকিঙ্গো'।

Grofers-এর হয়েও জেলিভারি করতে এই সংস্থা। Grofers-এর তরফ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মাস তিনেক আগেই 'পিকিঙ্গো'-র সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দেন তাঁরা। অতিরিক্ত খরচ কমাতে এবং কোম্পানির মোট লাভের পরিমাণ বাড়াতেই মাত্র ১১ মাসের সংস্থার এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। 'পিকিঙ্গো'-র আগে একইভাবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে পরিষেবা বন্ধ করে দেয় 'টাউনরাশ' এবং 'লোকালবন্যা'। ফুডটেক এবং হাইপারলোকাল স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে আশানুরূপ বৃদ্ধি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। সেই কারণেই লাভের মুখ দেখছে না স্টার্ট আপগুলি।

ইওর স্টোরি-র মত

যেসব স্টার্ট আপ ব্যবসার পরিধি, বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-র মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে আপোস করেছে তারাই সমস্যায় পড়ছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করে নেওয়াও এর বড় কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইপারলোকাল লজিস্টিক্স-এর ক্ষেত্রে একক অর্থনীতির বিষয়টি বুঝতে পারা বেশ কঠিন। ভারতে ক্রেতারা ডেলিভারির জন্য স্বভাবগতভাবেই অতিরিক্ত টাকা দিতে চান না। এই অবস্থায় রেস্তোরাঁ অথবা খুচরো ব্যবসার হয়ে ডেলিভারি করে আখেরে স্টার্ট আপগুলির লাভ কিছুই হয় না।

'পিকিঙ্গো' হাইপারলোকাল ডেলিভারি বন্ধ করে দেওয়ায় হয়তো বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কথাও ভাবতে পারে 'জোম্যাটো'। নিজেদের সংস্থার হোম ডেলিভারির জন্য 'পিকিঙ্গো' এবং মুম্বইয়ের সংস্থা 'গ্র্যাব'-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল 'জোম্যাটো'। এদিকে ফুডটেকের ক্ষেত্রে হাইপারলোকাল ডেলিভারির ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে এই হাইপারলোকাল ব্যবস্থা কোন দিকে এগোয় তা সময়ই বলবে।