ই-বুকসের 'প্যাপিরাস এডিটর'-কে অধিগ্রহণ ইয়োর স্টোরির

0

বছরের শেষভাগে ইয়োর স্টোরির মুকুটে নতুন পালক। খুবই আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি, অধিগ্রহণের মাধ্যমে Papyrus Editor (ই-বুকস তৈরিতে অনলাইন এডিটর) এখন ইয়োর স্টোরিরই অংশ। সকলেই যাতে নিজের কাহিনি সহজে তুলে ধরতে পারেন, তেমনই টেকনোলজি প্রোডাক্ট তৈরিতে প্রবলভাবে লেগে রয়েছে ইয়োর স্টোরি মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতেই বাজারে আসতে চলেছে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় user-generated content (UGC)। তার আগে 'প্যাপিরাস' অধিগ্রহণ নিয়ে দু'কথা বলা যাক।

ভারতে উদ্যোগপতিদের কাহিনি তুলে ধরতে ২০০৮ সালে ইয়োর স্টোরি গড়ে তোলেন শ্রদ্ধা শর্মা। এ ব্যাপারে ইয়োর স্টোরির প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও শ্রদ্ধা জানালেন, যাঁরা অভিনব কিছু করে দেখিয়েছেন, এমন মানুষদের কাহিনি রোজ তুলে ধরতে পারাটাই ইয়োর স্টোরিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এইসব মানুষ শুধু নিজের জীবন নয়, চারপাশের পৃথিবীটাকেও বদলে দিতে পেরেছেন। আমরা চাই সকলেই এভাবেই নিজের কাহিনি তুলে ধরতে পারুক। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে একটা বড় পদক্ষেপ হল প্যাপিরাস অধিগ্রহণ। শ্রদ্ধার আরও সংযোজন, "গত বছর আন্ত্রেপ্রেনার গৌরব তিওয়ারির সঙ্গে আলাপ হয়। বুঝতে পারলাম, আমরা একই পথের পথিক। আমাদের দু'জনের লক্ষ্যটাও সেই একই- যাতে সবাইকে তাদের কাহিনি তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া যায়।"


প্যাপিরাস কী? এটা আসলে একটা খুবই সহজ অনলাইন এডিটর। ই-বুকস তৈরি করতে যা লেখকদের সহায়তা করে থাকে। ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ কভার এডিটরের মাধ্যমে ইউজাররা এডিট করতে পারবেন কভার-পেজ। ওয়েব থেকে কনটেন্ট তুলে আনতে পারবেন। আবার ব্লগ পোস্ট লেখার মতোই নতুন কিছু লিখতেও পারবেন। বই লেখা তো হল, বিক্রি হবে কী ভাবে? তারও পথ রয়েছে। লেখক বা ইউজাররা বইয়ের দামটা ঠিক করে 'পাবলিস'-এ একটা ক্লিক করলেই হল।

ই-বুকস তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার লক্ষ্য নিয়েই শুরু হয়েছিল 'প্যাপিরাস'-এর পথ চলা। যে কেউই যাতে বই প্রকাশ করতে পারেন, সেটাই ছিল তাগিদ। বলা বাহুল্য সেই কাজে অনেকটাই সফল হয়েছে 'প্যাপিরাস'। সেই অনলাইন এডিটর 'প্যাপিরাস' এখন ইয়োর স্টোরিরও অংশ হয়ে গিয়েছে। ফলে আরও বেশি সংখ্যক ইউজারদের কাছে 'প্যাপিরাস' পৌঁছতে পারবে বলেই মনে করছেন গৌরব তিওয়ারি।

২০১২ সালে 'প্যাপিরাস' গড়ে তোলেন গৌরব। এখন গৌরব ইয়োর স্টোরি পরিবারেরই একজন। শুধু একজন বললে কম বলা হয়। ইয়োর স্টোরিতে তারুণ্যে ভরপুর ইঞ্জিনিয়ারদের যে টিম রয়েছে, সেই টিমেরই অন্যতম প্রযুক্তি বিশারদ। যে সব টেকনোলজি প্রোডাক্ট নিয়ে ইয়োর স্টোরি লেগে রয়েছে, সেই কাজেও হাত লাগাবেন গৌরব। এইসব প্রোডাক্টের মধ্যে প্রধান হল user-generated content (UGC) প্ল্যাটফর্ম।

ভাবনার স্বাধীনতা সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই ভাবনা সকলের সামনে তুলে ধরা? না, ততটা সুযোগ নেই। ঠিক এই জায়গাটাতেই সব ভারতীয়র পাশে দাঁড়াতে চায় ইয়োর স্টোরি। নিজের ভাষায় নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরার সুযোগ। যা দু'পাঁচজন জানে, তা লক্ষ-লক্ষ মানুষ জানুক, ছড়িয়ে পড়ুক সব জায়গায়। ইতিমধ্যে সেই কাজ করেও দেখিয়েছে ইয়োর স্টোরি। লক্ষ-লক্ষ ভারতীয় এখন তাঁদের অ্যাচিভমেন্টের কথা তুলে ধরতে পারছেন টেক্সট, ভয়েস কিংবা ভিডিও'র মাধ্যমে। এই পথেই প্রথম পদক্ষেপ ছিল একগুচ্ছ ভারতীয় ভাষায় ইয়োর স্টোরির দরজা খুলে দেওয়া। এভাবেই ২১ হাজার আন্তেপ্রেনারের কথা পৌঁছে দিয়েছে ওয়েব দুনিয়ায়। যখন খুশি সেই সব কাহিনি পড়ে ফেলা যায় ১৩টি ভাষায়। ইংরেজি ছাড়াও যার মধ্যে রয়েছে হিন্দি, বাংলা, তেলুগু, তামিল, কানাড়া, মরাঠি, মালায়ালাম, ওড়িয়া, গুজরাতি, পঞ্জাবি, অসমিয়া ও উর্দু। এখানেই কি শেষ? শ্রদ্ধা শর্মা বললেন," বরাবরের মতো আমাদের পাশে থাকুন। ভুল-ত্রুটি হলে সমালোচনাও করুন। ২০১৬ সালে আমরা আরও কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে আসছি। সেইসব জিনিস নিয়েও আপনাদের মতামত একান্ত জরুরি।"

ইয়োর স্টোরির কথা

আন্ত্রেপ্রেনারদের জন্য ভারতের এক নম্বর মিডিয়া টেক প্ল্যাটফর্ম ইয়োর স্টোরি ডট কম। ভারতে উদ্যোগের ইকো সিস্টেমে আজ নিজেই একটা নাম হয়ে গিয়েছে ইয়োর স্টোরি। আন্ত্রেপ্রেনারদের স্বপ্ন, লড়াই, সাফল্য, ব্যর্থতায় ভরা থাকে ইয়োর স্টোরির এক একটা কাহিনি। আর ভারতে বর্তমানে স্টার্টআপের যে ধুম লেগেছে তাতে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়ে থাকে ইয়োর স্টোরিই।

২০০৮ সাল থেকে আন্ত্রেপ্রেনার, ইনোভেটর, চেঞ্জ-মেকার্সদের নিয়ে ২১ হাজারেরও বেশি খবর তুলে ধরেছে ইয়োর স্টোরি। দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে কনফারেন্স ও মিট-আপের মাধ্যমে ৫০ হাজারেরও বেশি আন্ত্রেপ্রেনারকে তাঁদের ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে ইয়োর স্টোরি। ভারতে TechSparks, MobileSparks এখন বিজনেস নেটওয়ার্কিংয়ের আর এক নাম।

সোর্স - টিম ওয়াইএস