মোটরগাড়িতে দিল্লি থেকে লন্ডন, তিন নারীর স্বপ্নপূরণ

0

এ এক স্বপ্নপূরণের গল্প। অসমসাহসী তিন নারীর মোটরগাড়িতে পৃথিবীর এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধে পাড়ি জমানোর গল্প।


রেশমি কপূর, ডক্টর সৌম্যা গোয়েল এবং নিধি তেওয়ারি। স্বাধীনচেতা এই তিন বাল্যবন্ধুর ছোটবেলা থেকেই পায়ের তলায় সর্ষে। সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়া অচেনার ডাকে। অচেনাকে জয় করতেই যত আনন্দ, যত সুখ। কোনও বাধাই তাঁদের কাছে বাধা নয়, অসম্ভব শব্দটি এই তিন নারীর মনে স্থান পায়নি কখনওই। মধ্যতিরিশের রেশমি-সৌম্যা-নিধি গিয়েছেন নানা অভিযানে। যত কঠিন হয় অভিযান, ততই জয়ের জেদ চেপে ধরে তাঁদের।

কিন্তু মাঝেমধ্যেই একটা না-পাওয়ার ক্ষোভ অস্থির করে তোলে। বিষণ্ণ হয় মন। তবে কী ছোটবেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে? দেশের পশ্চিম উপকূল থেকে শুরু করে হিমালয়ে, কম তো অভিযান হল না। কিন্তু এ যে কঠিনতম এক অভিযান। আর কঠিনতম বলেই তাকে জয় করার জেদ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে।

এক দিন স্থির করেন, যা-হয় হবে, স্বপ্নের অভিযানে যাবেন। দূরত্ব মাত্র একুশ হাজার চারশো সাতাত্তর কিলোমিটার। সময় লাগবে সাতানব্বই দিন। সতেরোটি দেশ পেরিয়ে যেতে হবে তাঁদের। দিল্লি থেকে লন্ডন পাড়ি দেবেন মোটরগাড়িতে। এবং কোনও বাড়তি সহায়তা ছাড়াই। চালক বলতে একা নিধি, বাকি দুই বন্ধু সওয়ারি।

এর পর মাহিন্দ্রা ফার্স্ট চয়েসের স্পনসরশিপে চলার শুরু। একের পর এক পেরিয়ে যাওয়া মায়ানমার, চিন, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি-সহ সতেরোটি দেশ। বিপদসঙ্কুল এবং সুদীর্ঘ পথপরিক্রমার শেষে পৌঁছনো লন্ডনে। এভাবেই তিন নারীর স্বপ্নপূরণ। ইংরেজি একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাঙ্গালুরুর এম এস রামাইয়া হাসপাতালের থেরাপিস্ট ডক্টর সৌম্যা গোয়েল জানিয়েছেন, ভাষার সমস্যা ছিলই। ভারত এবং ইংল্যান্ডে ইংরেজি বলতে পারলেও, বাকি জায়গাতে আকারে, ইঙ্গিতে কথাবার্তা চালাতে হয়েছে তাঁদের। সাহায্য নিয়েছেন গুগুল ট্রান্সলেটরেরও।


 তবে কি এই কাহিনি শুধুই তিন নারীর স্বপ্নপূরণের? অবশ্যই নয়। এই কাহিনি নারীশক্তির জয়ধ্বজা ওড়ানোর আরও একটি মাইলফলকও বটে!


স্টোরি- থিঙ্ক চেঞ্জ ইন্ডিয়া অনুবাদ- দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়