পথবাসী থেকে আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার আমিন শেখ

0

আমিন শেখ - একসময় ফুটপাথের বাসিন্দা ছিলেন, তবে এখন তিনি একজন সফল উদ্যোগপতি। তাঁর উত্থানের গল্প এককথায় চমকপ্রদ। গোটা বিশ্বের কাছে তিনি নিজের আত্মজীবনী “Life is Life, I am Because of You”-র মাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য মানুষ আমিনের বই কিনেছেন এবং পড়েছেন। আমিন নিঃসন্দেহে এই খ্যাতি উপভোগ করছেন, তবে তাঁর সফল হতে চাওয়ার কারণ কিন্তু একেবারেই আত্মকেন্দ্রিক নয়। মুম্বই শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি ক্যাফে কাম লাইব্রেরি খুলতে চান আমিন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি যখন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তখন তাঁকে সাহায্য করার কেউ ছিল না। কিন্তু আমিন তাঁর মতো অসংখ্য মানুষের পাসে দাঁড়াতে চান। সেই কারণেই তাঁর ক্যাফে পথশিশুদের কাজে নিয়োগ করবে এবং তাদেরকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে। "একজন পথশিশু হওয়ার অর্থ কী তা সাধারণ মানুষ বোঝেন না। অনেকেই এই শিশুদের ভয় পান। কিন্তু তারা তো আর এভাবে বড় হতে চায়নি। তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের এই আচরণ কেন?" প্রশ্ন তোলেন আমিন। "আমার নাম আমিন এবং আমি জানি রাস্তায় বড় হওয়ার অর্থ কী? আমি যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সম্ভব উদ্ধার করার চেষ্টা করব। সকলেই বলেন তাঁরা নাকি এই পৃথিবীকে বদলাতে চান। কিন্তু কথায় বলে লাভ নেই। নিজে পাঁকে নেমে তা পরিস্কার না করতে পারলে পরিবর্তন কোনওভাবেই সম্ভব নেই। অথচ কেউই নিজেদের হাত নোংরা করতে চান না।"

বাড়ি থেকে পালিয়ে...

"ভাবতে অবাক লাগে, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে সমাজের শিক্ষিত মানুষেরা কুণ্ঠাবোধ করেন না। আপনি হয়তো সরাসরি আপনার বাড়িতে কোনও শিশুকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন না, কিন্তু ছোট দোকানে বা অন্য কোথাও শিশুশ্রমিক দেখলে সে বিষয়ে কী আপনি কিছু করার চেষ্টা করেন? মাত্র ৫ বছর বয়সে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম। আমার সৎ বাবা আমার উপর অকথ্য অত্যাচার করতেন। মা-ও কম যেতেন না। আমি প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা চায়ের দোকানে কাজ করতাম। মাইনে ছিল দিনে ২টাকা। রাতে বাড়ি ফিরে বাবা-মার মারধর সহ্য করতে হত। আমার এখনও সেই দিনটার কথা মনে আছে, যেদিন আমি পালিয়ে যাব বলে ঠিক করি। দু-ট্রে চা ভর্তি গ্লাস নিয়ে আমি যাচ্ছিলাম। হঠাৎই হোঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাই। গ্লাসগুলিও ভেঙে যায়। এর ফলে দোকানে এবং বাড়িতে আমাকে কীভাবে মারধর করা হতে পারে তা ভেবেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই ভাঙা গ্লাসগুলি রাস্তায় ওভাবে ফেলে রেখেই আমি পালিয়ে যাই। আমার ছোট বোনকে বাড়িতে ফেলে রেখে ওভাবে চলে যেতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে আর কোনও পথ খোলা ছিল না।"

সবচেয়ে কঠিন সময়

"আমি মালাড স্টেশন পৌঁছে যাই। স্টেশনের এক কোনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কুঁকড়ে বসেছিলাম। অনেকেই পাশ দিয়ে পেরিয়ে যাওয়ার সময় জানতে চাইছিলেন আমি কী হারিয়ে গিয়েছি? আমার আশেপাশে আমারই মতো বহু ছোট ছেলেমেয়ে ভিক্ষে করছিল, ঝাঁট দিচ্ছিল, জিনিসপত্র বিক্রি করছিল, নিজেদের মধ্যে খেলাধুলো মারপিট করছিল। আমি দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের লক্ষ্য করি। তারপর তাদের সঙ্গে গিয়ে যোগ দিই। ব্যস্ তখন থেকে ওই স্টেশনই আমার বাড়ি হয়ে যায়," বললেন আমিন।

এই জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া আমিনের পক্ষে কঠিন ছিল। তবে ধীরে ধীরে অভ্যেস হয়ে যায়। প্রথমদিকে কখনও রাস্তা থেকে কুড়িয়ে, কখনও চুরি করে খাবার খেতেন। পরে ভিক্ষে করে, ট্রেনে গান গেয়ে, কখনও কখনও ছোটখাটো জিনিস বিক্রি করে রোজগার করতে শুরু করেন। 

"একটু বড় ছেলেমেয়েরা এবং স্টেশনের বড়রা ছিল সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমার মতো ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ধূমপান করতে, মাদক নিতে ওরা বাধ্য করত। বাধা দিতে গেলে জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দিত। আজ পর্যন্ত আমি সিগারেট বা মদ সহ্য করতে পারি না। তবে সবচেয়ে কঠিন ছিল যৌন নির্যাতন। বড় ছেলেরা এসে আমাদের নৃশংসভাবে ধর্ষণ করত। আমার আট বছরের জীবনে এমন কোনও দুঃখ নেই যা দেখতে বাকি ছিল।"

জাদু

"তখন আমার আট বছর বয়স। একদিন দাদর স্টেশনে খেলা করছিলাম। বিকেল চারটে নাগাদ হঠাৎই আমি স্টেশনের ক্যান্টিনের সামনে একটি পরিচিত মেয়ের মুখ দেখতে পাই। সেটি ছিল আমার ছোট বোন সাবিরা। আমাকে খুঁজতে সাবিরা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে আমার জীবনে যেন কোনও ম্যাজিক হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল।"

আমিনের বোন সাবিরা মাত্র তিন-চারদিন স্টেশনে ছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই সিস্টার সেরাফিন নামে এক নান তাদের দুজনকে স্নেহসদন নামে একটি অনাথ আশ্রমে নিয়ে যেতে চান। ওই নান তাদের কোথায় নিয়ে যেতে চাইছেন তা আমিন বুঝতে পারেনি। তবে স্টেশনের অভিজ্ঞতা তাকে সবচেয়ে খারাপটাই ভাবতে বাধ্য করেছিল। বড় একটি পাথর তুলে সিস্টারকে মারতে যায় আমিন। তিনি আহত হয়েছিলেন, তবে হাল ছেড়ে দেননি। দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর পর অবশেষে আমিন তার বোন সাবিরাকে নিয়ে স্নেহসদনে থাকতে রাজি হয়।

স্নেহসদন

স্নেহসদন অনাথ শিশুদের থাকার একটি আশ্রম, তবে আমিনের মতে ওটাই তাঁর জীবনে পাওয়া শ্রেষ্ঠ বাসস্থান। আজ পর্যন্ত তিনি সেখানে ফিরে যেতে চান। আমিনের মতে, "আমি স্নেহসদনে প্রথমবার নিজেকে সুরক্ষিত অনুভব করেছিলাম।ওখানে আমার ভয় পাওয়ার কিছু ছিল না। ওখানেই আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধুদের পেয়েছি। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে ওখানে সেরকম কিছুই ছিল না। প্রত্যেককে তিন জোড়া করে জামা প্যান্ট দেওয়া হতো এবং প্রতি ক্রিসমাসে আমরা এক জোড়া করে নতুন জামা পেতাম। কিন্তু আমি ওখানে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, শিক্ষা, সুরক্ষা - সব পেয়েছি। আমি দশ বছর ওখানে ছিলাম, আর ওই দশটা বছরই আমার কাছে ছিল শান্তির। "

"কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলাম প্রথাগত শিক্ষা আমার জন্য নয়। আমাকে মিউনিসিপাল স্কুলে পড়তে পাঠানো হয়েছিল। ওখানকার শিক্ষক শিক্ষিকারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন। তখন থেকেই আমার মনে শিক্ষা সম্পর্কে বিতৃষ্ণা তৈরী হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা তো এই সমাজের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের সব সমস্যার সমাধানের জন্য। কিন্তু আমার মনে হয় যখনই কোনও মানুষ শিক্ষিত হয়ে যায়, তখনই সে খালি নিজের কথা ভাবতে শুরু করে। শিক্ষা হয়তো আমাদের চাঁদে নিয়ে গিয়েছে, কিন্তু পৃথিবীর ভাঁড়ার শূন্য করে দিয়েছে।"

"আমি কোনওরকমে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশুনো করার পর আর পারিনি। আমার যা যা শেখার দরকার ছিল সব আমি বম্বের কাছ থেকে শিখেছি। এই শহর আমার কাছ থেকে সবকিছুই কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আমি আজ যা তার পুরোটাই এই শহরের কাছ থেকে পাওয়া।"

কিশোর উদ্যোগপতি

"আমার যখন ৯ বছর বয়স তখন থেকেই আমি খবরের কাগজ বিলি করতাম। ১৬ বছর বয়সে এসে আমি বুঝতে পারি এবার নিজে থেকে কিছু করার সময় হয়েছে। বাস স্ট্যান্ডের কাছে একটি স্টল বানিয়ে, টেবিল পেতে আমি নিজে পেপার বিক্রি করা শুরু করি। প্রতিদিন আমি উৎসাহের সঙ্গে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে সকলকে কাগজ বিক্রি করার চেষ্টা করতাম। ব্যবসায় প্রচুর প্রতিযোগীতা ছিল। যত জোরে চিৎকার করতাম তত বেশি কাগজ বিক্রি হত।"

গুরুর সঙ্গে দেখা

"একদিন ফাদার প্ল্যাসি আমার কাগজের স্টলে এসে বললেন আমি যেন ওনার অফিসে গিয়ে একবার ওনার সঙ্গে দেখা করি। আমি যাব বলেও যাইনি। কয়েকদিন পর ফাদার আবার এলেন। দৃঢ় কণ্ঠে আমাকে বললেন আমি যেন পরেরদিন অবশ্যই ওনার অফিসে দেখা করি। এবার আর আমি কথার খেলাপ করিনি। ফাদার জানান আমাকে ইউস্টাস ফার্নান্ডেজের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ফার্নান্ডেজ একজন প্রখ্যাত শিল্পী ছিলেন, 'আমুল গার্ল' ওনার সৃষ্টি। প্রতিবছর উনি স্নেহসদন থেকে একজন শিশুকে নিজের বাড়ি নিয়ে যেতেন। নিজে হাতে তাকে কাজ শেখাতেন। আমি ওনার সঙ্গে ১৩ বছর ছিলাম। কখনও নিজের পরিবারের থেকে আমাকে আলাদা চোখে দেখেননি। তিনি ছিলেন একজন দারুণ প্রতিভাবান শিল্পী। আমি শিল্প সম্পর্কে যেটুকু জানি তার সবটাই ওনার কাছ থেকে শেখা। আমার কফিশপের লোগো ডিজাইন করার সময়ও সেই শিক্ষাই কাজে লেগেছে। উনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ বস, আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং আমার বাবার মতো। দুঃখের বিষয়, ২০১০ সালে ইউস্টাস ফার্নান্ডেজ প্রয়াত হন।"

পরিবারে ফিরে যাওয়া

স্নেহসদন ছাড়ার পর খুব অল্পদিনের জন্য আমিন তাঁর মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। তবে বাড়িতে তাঁর বেশিদিন থাকা হয়নি। আমিনের সৎ বাবার মধ্যে তখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। আমিনের টাকাই ছিল তাঁদের মূল আকর্ষণ। ফলে ফের বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। "২০০৬ সালে আমি বম্বেতে আমার মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনি। মায়ের সঙ্গে আমার কোনও সমস্যা ছিল না। আমি শুধু তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎ বাবার জন্য আমি কিছু করতে পারব না। মা তাতে আপত্তি করেন নি।"

ফের নতুন উদ্যোগ

২০০৩ সালে ইউস্টাস ফার্নান্ডেজ আমিনকে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। সেটি দিয়ে নিজের গাড়ির সংস্থা শুরু করেন আমিন। ইউস্টাসের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরাই ছিলেন সেই সংস্থার প্রথম গ্রাহক। ধীরে ধীরে বহু বিদেশী পর্যটক মুম্বইয়ে বেড়াতে এসে তাঁর কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিতে শুরু করেন। আমিনের কাজ এক ব্রিটিশ মহিলার এত পছন্দ হয়ে যায় যে তিনি লন্ডনে ফিরে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে একটি দারুণ লেখা লেখেন। তারপর থেকে বহু বিদেশী পর্যটক বেড়াতে এসে শুধুমাত্র আমিনের কাছ থেকেই গাড়ি ভাড়া করতেন। ব্যবসা ভালো চলতে থাকায় আরও একটি গাড়ি কেনেন আমিন। কাজ করতে করতে ইংরেজীতে কথা বলতেও শিখে যান তিনি।

বড়দিনের একটি উপহার বদলে দিল জীবন

"একবার বড়দিনে ইউস্টাস আমার কাছে জানতে চাইলেন আমি কী উপহার চাই? আমি বললাম আমি বার্সেলোনা যেতে চাই। ইউস্টাস আমাকে বার্সেলোনা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আমি বুঝতে পারি, ভ্রমণেই রয়েছে আমার শিক্ষা। আলাদা আলাদা মানুষ, একেবারে আলাদা এক একটি জগৎ আমাকে আকৃষ্ট করত। ইওরোপে বেড়াতে গিয়ে আমি দারুণ সব লাইব্রেরি আর ক্যাফে দেখি। তখনই মুম্বইতেও এরকম একটি ক্যাফে খোলার কথা মাথায় আসে আমার। আমি শিক্ষিত নই। বইপত্রের সঙ্গে খুব একটা সম্পর্কও নেই আমার। কিন্তু আমি মানুষের কথা ভাবি। তাদের জন্য রান্না করতে পারি। সেই কারণেই আমি ক্যাফে খুলতে চাই। আমার ক্যাফেতে আমি পথশিশুদের কাজ দেব। তাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। ক্যাফের নাম হবে 'বম্বে টু বার্সেলোনা লাইব্রেরি ক্যাফে।'"

Life is Life, I am Because of You

"২০১০ সালে আমি নিজের বাড়ি কিনি। কোনও ব্যাঙ্ক আমাকে লোন দিতে চায়নি। কিন্তু বম্বে, স্পেন এবং লন্ডন থেকে আমার বন্ধুরা আমার স্বপ্ন সফল হতে সাহায্য করেছে। ইউস্টাস আর আমি ওপরা উইনফ্রি-র শো-এর খুব ভক্ত ছিলেন। তিনি আমাকে বলতেন আমার ওই শো-তে যাওয়া উচিত। ইউস্টাসের মৃত্যুর পর আমি আমেরিকায় উইনফ্রি-কে চিঠি লিখেছিলাম। তবে উত্তর পাইনি। একদিন আমার এক স্প্যানিশ ক্লায়েন্ট মার্থা ম্যাকেল বার্সেলোনা থেকে আমাকে ফোন করে জানান তিনি একটি বই লিখছেন। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তখনই প্রথম আমার মাথায় আসে যে একজন চিকিৎসক যদি বই লিখতে পারেন, তাহলে আমি পারব না কেন? নিজের কথা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে আমাকে অন্য কারও সাহায্য নিতে হবে কেন? আমি তো নিজেই লিখতে পারি। আমি বই লিখতে শুরু করলাম। আমার এগারো মাস সময় লেগেছিল। এর মাঝে বেশ কয়েকবার আমি লেখার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেছিলাম। লেখা শেষ হওয়ার পর বুঝতে পারি আমি ব্যাকরণ বা বানানের বিষয়ে তো আলাদা করে নজরই দিইনি। ফের একবার আমার বন্ধুরা আমার পাশে দাঁড়ায়। ভুল সংশোধন থেকে শুরু করে বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা, বইয়ের প্রমোশন সবই ওরাই করেছে।"

পৃথিবী জুড়ে দেবদূতেরা রয়েছে

"আমি নিজেই নিজের বই প্রকাশ করি এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে তা বিক্রি করতে শুরু করি। এখনও পর্যন্ত বইয়ের হাজার হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা 'Hachete' বইটি ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য কপিরাইট নিয়েছে। আমার ক্যাফে খোলার স্বপ্নের কথা জানতে পারার পর থেকে ইওরোপ, আমেরিকার বহু মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।"

"ইতালি, কাতালান সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আমার বই অনুবাদের জন্য অনুবাদকেরা অনুমতি চেয়েছেন। মার্কিন ডিজাইনার স্তেফান বস একটি টি-শার্টের রেঞ্জ তৈরী করেছেন যা বিক্রির পুরো টাকাটাই আমার ক্যাফে তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রথমবার ইওরোপে থাকাকালীন গায়ক, সুরকার জেরেমি প্ল্যাঙ্কের সঙ্গে পরিচয় হয়। আমার কাজো অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি একটি গান লেখার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। আমার বই নিয়ে স্প্যানিশ রেডিও এবং ফরাসি সংবাদপত্রে আলোচনা হয়েছে। যেভাবে সকলে আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে এগিয়ে এসেছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ। এখনও পর্যন্ত ক্যাফের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ২০শতাংশ জোগাড় হয়েছে। যেভাবে সকলে এগিয়ে আসছেন তাতে আমি আশাবাদী বাকি ৮০ শতাংশ পেতে কোনও অসুবিধে হবে না।"

আমিনের পরামর্শ

"আপনার যদি মনে হয় আপনি কোনও কাজ করতে পারবেন তাহলে তা ঠিক। যদি আপনি ভাবেন কাজটি আপনার পক্ষে করা সম্ভব নয়, তাহলেও আপনি ঠিক। জীবন আপনার। আপনি কী করবেন তা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেলে কখনও তার সঙ্গে আপোস করবেন না।"

লেখা - রাখী চক্রবর্তী

অনুবাদ - বিদিশা ব্যানার্জী