স্টার্ট আপদের পাশে অভিভাবক হিসাবে সিআইআই

2

এ দেশের স্টার্ট আপ আন্দোলনকে পুষ্ট করতে সরকারি নানা সুযোগ থাকলেও সে সুযোগগুলি সম্পর্কে প্রচার খুবই কম। তাছাড়া, এ দেশের কয়েকটি কর্পোরেট সংস্থা ইদানীং স্টার্ট আপদের পাশে দাঁড়ালেও, তা এখনও সংস্কৃতি হয়ে উঠেনি। বলাবাহুল্য, কর্পোরেটের অভিজ্ঞ পরামর্শ পেলে স্টার্ট আপগুলি আরও ভালোভাবে বিকশিত হতে পারে। কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি এবার কর্পোরেট ইন্ডিয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারতীয় স্টার্ট আপগুলির মধ্যে যে গুলির স্বল্প কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা সিআইআই-এর কাছ থেকে ব্যবসা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় যে কোনও পরামর্শ পেতে পারেন। দেশীয় স্টার্ট আপ সংস্থাগুলির হাত দিয়ে বিশ্ব বাজারের দরজা খুলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যাতে নয়া জমানার উদ্যোগপতিরা ব্যবসা করতে পারেন, সে ব্যাপারে স্টার্ট আপগুলিকে সহযোগিতা করা সিআইআই-এর লক্ষ্য। এর সূচনাতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে কানাডা ও ইজরায়েলে সরকারি ও যৌথভাবে ভারতীয় স্টার্ট আপগুলি ব্যবসার কাজ করতে পারবে। যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে কর ও অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় পাবে ভারতীয় স্টার্ট আপগুলি।

সিআইআই-এর স্টার্ট আপ মেনটরশিপ সার্কেল তৈরির এই খবর ভারতীয় স্টার্ট আপগুলির পক্ষে অতি সুখবর। কেননা এর জেরে নয়া জমানার উদ্যোগীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করতে পারবেন। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা আগেই জরুরি ছিল।

সিআইআই-এর পশ্চিমাঞ্চলের চেয়ারম্যান সঞ্জীব বাজাজ বলেছেন, ২ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্টার্ট আপগুলিকে বিশ্ব বাজারের সম্ভাবনা ধরিয়ে সর্বতোভাবে মদত জোগানো আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে সিআইআই তিন থেকে এক বছরের জন্যে পরামর্শ দিতে পারে। মোদ্দা ব্যাপার হল, কীভাবে ২-৩ বছরের একটা প্রাথমিক পর্যায়ের পরে ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে, নয়া জমানার উদ্যোগপতিদের তারই দিকনির্দেশ দেবে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি।

বাজাজ আরও বলেছেন, স্টার্ট আপগুলিকে সিআইআই-এর সদস্য কর্পোরেট সংস্থাগুলির তরফে পরিকল্পনা বিষয়ে দরকারি সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি, বাজার ও ক্রেতা সম্পর্কিত যাবতীয় ধারণা সম্পর্কে পরামর্শ জুগিয়ে ভারতীয় স্টার্ট আপগুলিকে ব্যবসা ক্ষেত্রে আরও দক্ষ ও সাহসী করে তোলাই সিআইআই-এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এ ব্যাপারে বিস্তর সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও প্রচার নেই। সে কারণে নয়া জমানার উদ্যোগপতিদের কাছে সুযোগ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্যাদিরও অভাব আছে। এবার সেই শূন্যস্থানও পূরণ করতে চলেছে সিআইআই।

এ কাজটা সিআইআই-এর তরফে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বলে জানানো হয়েছে। সিআইআই সেইসঙ্গে জানিয়েছে, স্টার্ট আপগুলিকে শুধুমাত্র দরকার মতো বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রেই সহায়তা করা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বিনিয়োগ এসে গেলেও সংস্থার বাড়বৃদ্ধির জন্যে আরও বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের দরকার পড়ে। প্রয়োজনে সিআইআই অভিভাবকের মতো লাগাতারভাবে সহায়তা করতে পারে বলে বাজাজ জানিয়েছেন।

ভে‌ঞ্চার ফান্ড নিয়ে ভারতের ‌বাজারে যে সমস্ত পেশাদার কাজ করছেন, তাঁরা সকলেই মনে করেন দেশীয় কর্পোরেট সংস্কৃতিতে একটা বিশেষ পরিবর্তন ঘটেছে। নিজেদের ব্যবসার স্বার্থেই যে স্টার্ট আপগুলিকে সাহায্য করা উচিত এটা উপলব্ধি করেছে এ দেশের কর্পোরেটগুলি।

কয়েক বছর আগেও কর্পোরেটের এই মনোভাব ছিল না। একজন ভেঞ্চার ফান্ড ম্যানেজারের কথায়, এটা এখন ব্যবসার নতুন লাইন।

তবে দেরিতে হলেও কর্পোরেটদের ঘুম ভেঙেছে। স্টার্ট আপ সংস্থাগুলির পালক হিসাবে জাগ্রত হতে চাইছে কর্পোরেট। কয়েকটি অ্যাঞ্জেল ফার্মের সঙ্গে কথা বলে দেখা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সিআইআই নীতিগতভাবে সময়োহযোগী একটি ভূমিকা নিল। নইলে বিরাট শূন্যতা থেকে যেত।

ইন্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট পদ্মজা রুপারেলের কথায়, কাজটা খুবই ভালো হয়েছে। সিআইআই বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।