Phone-ই-ভূষণ হবেন না, বিপদ শিয়রে

1

আপনার নাম কী! রাম-শ্যাম-যদু-মধু কিংবা রফি-মোক্তার-পলি-মলি তাতে কিছু আসে যায় না। আপনিও আর পাঁচটা মানুষের মতো এখন ফোন-ই-ভূষণ। আজ্ঞে হ্যাঁ ফোনটাই ভূষণ হয়ে গিয়েছে। উঠছেন বসছেন চলছেন ফিরছেন, ফোনের ওপর যত নির্ভরশীলতা। এমকি ঘুমোতেও বিছানায় স্মার্টফোন নিয়ে না ঘুমোলে সকালে অ্যালার্ম শুনতে পাবেন না। ক্লায়েন্টের কল মিস করবেন। কাজের সম্পর্ক তো আছেই। অকাজের প্রেম ভালোবাসাতেও ফোনেই সুড়ঙ্গ খোঁড়া। অ্যাপের হাত ধরে প্রেম। ডেট। গিফ্ট। সেল্ফি। সব।

ফোনে আমরা শুধু হাজার হাজার ছবি, ভিডিও, গেমস, ওয়েবসিরিজ আর ফোননম্বরই সেভ করে রাখি না সঙ্গে থাকে ব্যক্তিগত নানান তথ্য, আধার কার্ডের ছবি, ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হিসেব এমনকি গোপণ পাসওয়ার্ডগুলোও রেখে দিই। আর সেটাই লুকিয়ে থাকা হ্যাকারদের টার্গেট। যদিও ফোন থেকে যাতে তথ্য চুরি না যায় তার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবুও হ্যাকাররা কম শেয়ানা নয়। সমানতালে নিজেদের আপডেট করে নিচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইচ্ছে করলেই যে কারও ফোনের সেন্সর ব্যবহার করে হ্যাকাররা পিনকোড চুরি করে নিতে পারে।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, সিঙ্গাপুরের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্মার্টফোনের ৬টি আলাদা আলাদা সেন্সর থেকে তথ্য ব্যবহার করে মেশিন লার্নিং অ্যালগোরিদমের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ৯৯.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যানড্রয়েড ফোন আনলক করতে সফল হয়েছে। এক্ষেত্রে জেনে রাখা ভালো ইউজাররা যে পিন নম্বর ব্যবহার করেছিলেন তারমধ্যে ৫০টি নম্বরই এমন ছিল যেগুলি প্রায়শই ব্যবহার হয়ে থাকে। যদিও তার আগে অন্য একটি উপায় ব্যবহার করে ৭৪ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল।

কীভাবে পরীক্ষা হয়েছিল? স্মার্টফোনে একটা অ্যাপ ইনস্টল করে এক্সেলেরোমিটার, গিরোস্কোপ, ম্যাগনেটোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর, ব্যারোমিটার এবং ফোনের অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সরের মাধ্যমে ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যত বারই গোপন পিন ব্যবহার করা হচ্ছে কেউ ধারণাই করতে পারবে না কীভাবে সেই পিন এই সেন্সরগুলি তুলে নিচ্ছে। ডক্টর ভাসিন, এই প্রোজেক্টের অন্যতম মাথা, তাঁর উপলব্ধি, ‘যেভাবে আপনি ফোন ধরছেন, যতবারই গোপন পিন দিচ্ছেন ধরা যাক ১, ৫ অথবা ৯ যে নম্বরই আপনি প্রেস করুন না কেন ফোনের মুভমেন্ট প্রতিক্ষেত্রেই আলাদা। যেমন যখন ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ১ প্রেস করছেন এবং পরে যখন ৯ প্রেস করছেন দুটি ক্ষেত্রে আলোর তারতম্য হচ্ছে’। দুটি নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের অ্যালগোরিদম সেই তথ্য সংগ্রহ করে নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সেন্সরও কাজ করছে। পিনে যতই গোপনীয়তা থাক না কেন অ্যালগোরিদম নিজে তথ্য সংগ্রহ করে সেন্সরকে দিয়ে দেয়।

কোনও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কারও ফোনে একটা সেই সংক্রান্ত অ্যাপ ঢুকিয়ে দিতে পারলে অ্যালগোরিদমের সঙ্গে জুড়ে ওই ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেওয়া খুব একটা কঠিন নয়। সময় হয়ে গিয়েছে ফোনের সুরক্ষার জন্য আরও খঠিন উপায় খুঁজে বের করার। আর ফোনের বাইরে যে পৃথিবীটা আছে সেই অফলাইন পৃথিবীকেও একটু ভরসা করে দেখতে পারেন। আপনার ডায়রিতেই বরং হাতে কলমে লিখে রেখেদিন আপনার গোপণ পাসওয়ার্ড। সমস্যা একটু হলেও কমবে।

Related Stories