সরকারি মঞ্চ থেকে স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ ঘোষণা

0

শনিবার দিল্লীর বিজ্ঞান ভবনে স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে বিভিন্ন সরকারি অফিসিয়ালরা ভারতীয় স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন তা উদ্যোগীদের জন্য বেশ আশাব্যঞ্জক। আন্ত্রেপ্রেনিওররা ঠিক কতোটা সরকারি সুবিধা পেতে পারে তাদের সংস্থার জন্য সে নিয়েও বেশ কিছু দরকারি তথ্য পাওয়া গেল, যা স্টার্টআপের জন্য অবশ্যই বসন্ত এনে দিতে পারে। ভারতীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একটা বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে এই স্টার্টআপ মুভমেন্টের মাধ্যমে। ভাল কর্মসংস্থানের সাথে সাথে ভারতকে পরের লেভেলে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব যদি আরও কিছু সরকারী সুযোগ পায় এই স্টার্টআপ সংস্থাগুলো। কিন্তু একজন সফল আন্ত্রেপ্রেনিওর হয়ে উঠতে গেলে শুধু আইডিয়া দিয়ে কাজ ছিলনা। একটা স্টার্টআপ তৈরি করা মানে প্রায় যেন চক্রব্যূহে প্রবেশ করা। প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার পথ আগলে রয়েছে ট্যাক্সের বেড়াজাল থেকে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের মত দীর্ঘ মেয়াদী সরকারী নিয়ম রীতি।

ডিপার্টমেন্ট অফ ইলেকট্রনিক্স এবং ইনফরমেশনের সেক্রেটারি জে এস দীপকের মতে কিছু সরকারী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকলেও ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কনসেপ্টে ভর করে ইনফরমেশন টেকনোলজির ক্ষেত্রে বেশ ভালো বিনিয়োগ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং মেন্টরশিপের সুবিধা রয়েছে স্টার্টআপের জন্য।

কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি তপন রায়ও প্রায় একই সুরেই বলেছেন সরকার সর্বদাই স্টার্টআপের সাথেই আছে। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে যে আগের রুল ছিল তার পরিবর্তিত সংশোধনী রূপ আসতে চলেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হবে আগামী দিনে।

মাইক্রো, স্মল এবং মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের (এম.এস.এম.ই) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কালরাজ মিশ্রা আগস্টে ঘোষণা করেছিলেন যে তার মন্ত্রীসভা প্রায় ৩৫২ টা জায়গাকে শিল্পকেন্দ্র হিসাবে খুঁজে নিয়েছে স্কিল ম্যাপিং প্রোজেক্টের মাধ্যমে। মন্ত্রীর মতে নতুন উদ্যোগীরা তাদের স্টার্টআপের জন্য এর মধ্যে থেকে পছন্দমতো জায়গা খুঁজে নিতে পারবে নিজেদের ব্যবসার চাহিদা অনুযায়ী।

এম.এস.এম.ই সেক্রেটারি ডঃ অনুপ কে পূজারীর স্টার্টআপদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে “আপনি নিজে যদি কোনরকম ক্ষতির সম্মুখীন হতে না চান, কেউ আপনাকে সেখানে ঠেলে দিতে পারবেনা। আপনার সমস্যাগুলোকে সর্বপ্রথম ছকে ফেলতে হবে, উত্তরটা ঠিক খুঁজে পেয়ে যাবেন”।

লিস্টিং এর ক্ষেত্রে স্টার্টআপদের যাতে কোন অসুবিধার মুখোমুখি হতে না হয়, তাই বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা SEBI গতবছর জুন মাসে ই-আই পি ও চালু করেছে যেখানে বিনিয়োগকারীরা পাবলিক অফারে অনলাইন বিড করতে পারবেন। এছাড়া নতুন উদ্যোগীরা তাদের পুঁজি তলার জন্য এবং শেয়ারের ক্ষেত্রে একটা আলাদা প্ল্যাটফর্ম পাবে সহজে কাজ করার জন্য। এছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেট এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও স্টার্টআপ সংস্থাগুলো SEBI র তরফ থেকে “অলটারনেটিভ ক্যাপিটাল রাইসিং” প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করতে পারে।

একজন আন্ত্রেপ্রেনিওরের প্রশ্নের জবাবে সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সেক্রেটারি আশুতোষ শর্মা বলেন “বর্তমানে প্রায় সত্তর জন টেক ইনকিউবেটর আমাদের সাথে কর্মরত। তাদের সাহায্যেই আমরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বা আই আই টির মত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যেতে চাই। আমরা হাই রিস্ক এবং হাই স্কিল নামে দুটো স্কিম চালু করেছে ভবিষ্যতের টেক স্টার্টআপদের জন্য।

সবশেষে ভারত সরকার স্টার্টআপের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ উদ্যোগী। নেতিবাচক বিষয়গুলোকে স্টার্টআপের পথ থেকে সরিয়ে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। দেশজুড়ে বর্তমান নীতিগুলোকে ছড়িয়ে দিতে হবে স্টার্টআপের ভবিষ্যতের মাধ্যমে। টায়ার – ২ এবং টায়ার ৩ এর উদ্যোগীদের এগিয়ে আসতে হবে আর সক্রিয় ভাবে।

( লেখা - অপরাজিতা চৌধুরী, অনুবাদ - নভজিত গাঙ্গুলী )