জেনে নিন মোদির স্টার্টআপ অ্যাকশন প্ল্যান

0

দেশের ৬৯ তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ইনিশিয়েটিভ ঘোষণা করেছিলেন। ঠিক পাঁচ মাস বাদে, ১৬ জানুযারি ঐতিহাসিক স্টার্টআপ অ্যাকশন প্ল্যান সবার সামনে নিয়ে এলেন নিজেই। প্রাধানমন্ত্রীর কথায় ছিল কৌতুকের ছোঁয়া। ‘কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে পরিবর্তন কোথায়, তাহলে আমি বলব সরকার শনিবারও ছ’টার পর কাজ করছে, এটাই পরিবর্তন’। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমি রীতেশের (Oyo এর রীতেশ আগরওয়াল) কথা শুনি, ভাবলাম আমার মতো চা বিক্রেতা কেন হোটেল চেন করার কথা ভাবল না’।

বিজ্ঞান ভবনের অডিটোরিয়ামে সদা সপ্রতিভ, স্বতস্ফূর্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্টার্টআপ অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করেন। তার মূল অংশগুলি তুলে ধরা হল-

১. নিজস্ব অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করে সম্মতি-নিয়ন্ত্রকের বোঝা কমাতে শ্রম ও পরিবেশ আইনের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলিকে নিজস্ব অনুমোদনের অনুমতি দিতে হবে। শ্রম আইনের ক্ষেত্রে তিন বছরের জন্য কোনও নিরীক্ষা হবে না। পরিবেশ আইনের ক্ষেত্রে হোয়াইট শ্রেণির স্টার্টআপ নিজস্ব অনুমোদনের আওতায় থাকবে।

২. স্টার্টআপ ইন্ডিয়া হাব-সিঙ্গল পয়েন্ট যোগাযোগ এবং হ্যান্ড-হোল্ডিং হবে।

৩. স্টার্টআপ প্রক্রিয়া সহজিকরণ-মোবাইল অ্যাপে অথবা অনলাইন পোর্টালে যেটা এপ্রিল থেকে চালু হতে চলেছে, সেখানে ছোট্ট একটা অনলাইন ফর্ম ভরেই স্টার্টআপ করা যাবে।

৪. পেটেন্ট প্রোটেকশন- দেশের স্টার্টআপের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই বলেছেন পেটেন্ট প্রোটেকশন এবং আইপি রাইটস জরুরি। স্টার্টআপের জন্য আইপিআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করবে সরকার। স্টার্টআপগুলি যত দ্রুত সম্ভব তাদের আইপিআর ভ্যালু বোঝার জন্য স্টার্টআপ পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে ফাস্টট্র্যাক মেকানিজম থাকবে। স্টার্টআপের পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশন পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং ছাড়পত্রের জন্য ফাস্টট্র্যাক করা হবে।

৫. আইনি সাহায্যের জন্য ফেসিলেটরদের প্যানেল এবং পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ফাইলিংয়ে সহায়তা-সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে ডিজাইন, ট্রেডমার্ক এবং পেটেন্টের জন্য পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ফাইলিং এবং নিষ্পত্তিতে ফেসিলেটর সাহায্য করবেন। একটি স্টার্টআপ যতগুলি পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক এবং ডিজাইন ফাইল করবে সরকারের উচিত ফিসলেটরদের সব খরচ বহন করা।

৬. স্টার্টআপের পেটেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ফাইলে ৮০ শতাংশ ছাড়- স্টার্টআপগুলিকে থিতু হওয়ার জন্য লড়াইয়ের দিনগুলিতে সাশ্রয়ের পথ হিসেবে পেটেন্ট ফাইলিংয়ে ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

৭. স্টার্টআপের পাবলিক প্রকিউরমেন্টের নিয়ম শিথিল-স্টার্টআপ এবং পোড় খাওয়া স্টার্টআপ ও সংস্থাগুলির জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্টে সমান প্ল্যাটফর্ম দিতে স্টার্টআপের (উৎপাদন ক্ষেত্রে) পূর্ব অভিজ্ঞতা অথবা টার্নওভার মানদন্ড বাতিল হবে।

৮. স্টার্টআপের জন্য দ্রুত নির্গমণ-স্টার্টআপগুলির নির্গমণ সহজ করার জন্য ইনসলভেন্সি এবং ব্যাঙ্করাপ্টিং বিল ২০১৫ তে ফাস্ট ট্রেকিং জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সহজ ঋণনীতি সম্বলিত স্টার্টআপগুলি ফাস্টট্র্যাক বেসিসে চলার জন্য অ্যাপ্লিকেশন করার ৯০ দিনের মধ্যে গুটিয়ে আসতে পারে।

৯. ১০ হাজার কোটির ফান্ড-উদ্ভাবনী শক্তি রয়েছে এমন স্টার্টআপের উন্নয়ন এবং বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রাথমিকভাবে ২,৫০০ কোটির ফান্ড গড়বে।চার বছরে সেই ফান্ড হবে ১০,০০০ কোটির।

১০. ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড- ন্যাশনাল ক্রেডিট গ্যারান্টি ট্রাস্টের মাধ্যমে ক্রেডিট গ্যারান্টি ম্যাকানিজম চলতে পারে, প্রতি বছরে ৫০০ কোটি করে আগামী ৪ বছর।

১১. ক্যাপিটাল গেনস ট্যাক্স বাদ- সরকার অনুমোদিত ফান্ডগুলির ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্সে ছাড়। তাছাড়া, বর্তমান কারও নতুন এমএসএমই-এর জন্য বিনিয়োগে যেমন ক্যপিটাল গেন ট্যাক্স এক্সেম্পশন রয়েছে, সেটা সব স্টার্টআপে পাওয়া যাবে।

১২. স্টার্টআপের জন্য কর ছাড়-স্টার্টআপের বৃদ্ধি এবং লাভ উৎসাহিত করতে ২০১৬র পয়লা এপ্রিলের পর যেসব সেটআপ আসবে, সবার ৩ বছরের জন্য ছাড় থাকবে।

১৩. ফেয়ার মার্কেট ভ্যালুর ওপর বিনিয়োগে কর ছাড়- ফেয়ার মার্কেট ভ্যালুতে স্টার্টআপগুলিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল যে বিনিয়োগ করছে তাতে যে হিসেবে কর ছাড় রয়েছে, তেমনি ইনকিবেটররাও এফএমভির ওপর বিনিয়োগ করলে ছাড় পাবে।

১৪.স্টার্টআপ ফেস্ট-নতুন উদ্ভাবন এবং সমন্বিত মঞ্চ দেখানোই উদ্দেশ্য

১৫. অটল ইনোভেশন মিশনের লঞ্চ

উদ্যোক্তাদের প্রমোশন

  • . সেক্টর স্পেসেফিক ইনকিবেটর স্থাপনের মাধ্যমে
  • . বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ৫০০ মেরামত করা ল্যাব এবং ৩ডি প্রিন্টারের মাধ্যমে
  • . সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ
  • . বর্তমান সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো
  • . দ্রুত বাড়ছে এমন স্টার্টআপে সিড ফান্ডিং।

ইনোভেশন প্রমোশন

  • . ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড (৩টি রাজ্যস্তরে এবং ৩টি জাতীয়স্তরে)
  • . সচেতনতা তৈরির এবং রাজ্য স্তরে ওয়ার্কশপ করার জন্য স্টেট ইনোভেশন কাউন্সিলকে ভরসা যোগানো।
  • . ভারতের নানা সমস্যার কম খরচে সমাধানের জন্য গ্র্যান্ড ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড চালু করা।

১৬. ৩৫টি নতুন ইনকিউবেটর স্থাপন- পুরনো ইনস্টিটিউশনে নতুন ইনকিউবিটরদের জন্য কেন্দ্র ৪০ শতাংশ, রাজ্য ৪০ শতাংশ এবং প্রাইভেট সেক্টরগুলি ২০ শতাংশ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

১৭. আইআইটি মাদ্রাজের রিসার্চপার্কের আদলে ৭টি নতুন রিসার্চপার্ক প্রতিষ্ঠা-সরকার ৭টি রিসার্চ পার্ক করবে যার ৬টি আইআইটিতে এবং ১টি আইআইএসসিতে। বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রত্যেকটির জন্য ১০০ কোটি টাকা। তাছাড়া ৩১টি ইনোভেশন সেন্টার, ১৩টি স্টার্টআপ সেন্টার এবং ১৮টি টেকনোলজি বিজনেস ইনকিবেটর স্থাপন করা হবে।

১৮. বায়োটেকনোলজিতে এন্টারপ্রেনারশিপ প্রমোট করা-নতুন ৫টি বায়োক্লাস্টার, ৫০টি নতুন বায়ো ইনকিউবেটর, দেড়শো টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস এবং ২০টি বায়ো কানেক্ট অফিস স্থাপন।

১৯. শিক্ষার্থীদের জন্য ইনোভেশন ফোকাস প্রোগ্রাম-স্কুলে স্কুলে ইনোভেশন কোর প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার থেকে ২০ জন উদ্ভাবনী শিক্ষার্থীকে ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। আইআইটির পড়ুয়াদের উন্নত গবেষণার জন্য উচ্চতর আবিষ্কার যোজনায় প্রতি বছর ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।