অবশেষে উন্নয়নের সূর্য দেখছে ওড়িশার প্রত্যন্ত গ্রাম

1

সকলেই জানি ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়েছে। আবার এই তথ্যও দেশবাসীর জানা, এ দেশের বহু এলাকায় উন্নয়নের ছিটেফোঁটা সুযোগ-সুবিধাও এখনও পৌঁছয়নি। এমনই একটি প্রত্যন্ত গ্রাম ওড়িশার সম্বলপুর জেলার সারদা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। ২০১৩-১৪ সালেও এই গ্রামের ১,২৪৩ জন গ্রামবাসী আধুনিক দুনিয়ার যাবতীয় পরিষেবাগুলি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এমনকি সরকারি প্রকল্পগুলির কোনও সুবিধাও তাঁরা পেতেন না। ফলে সারদা পঞ্চায়েতের গ্রামবাসীদের রোজকার জীবন ছিল অসহনীয় কষ্টে ভরা।

গভীর অরণ্যে ঘেরা সারদা গ্রাম পঞ্চায়েতে মাওবাদীদের আনাগোনার জেরে এ সময়েই সরকারি কর্তাদের নজরে আসে গ্রামটি এখনও প্রাগৈতিহাসিক স্তরে রয়ে গিয়েছে। এরপরে নড়চড়ে বসে প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। উন্নয়নের কিছু কিছু কাজও শুরু হয়। আর ওই কাজের সূত্রপাতের মোটে এক বছরের মাথায় ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে থাকে সারদা।

এখানকার গ্রামবাসীদের জীবিকা শালের বীজ এবং মহুয়ার ওপর নির্ভরশীল। নিতান্ত দরিদ্র আদিবাসী মানুষজনের বসবাস এখানে। পানীয় জল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা আনুষঙ্গিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির কোনও সুযোগ আদিবাসী বাসিন্দাদের নাগালের ভিতর নেই। এতদিন এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনও ছিল হাত-পা গুটিয়ে।

Atmashakti নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা ২০১৩-১৪ সাল নাগাদ এই গ্রামটির বাসিন্দাদের দুরবস্থা স্বচক্ষে পরিদর্শন করেন। এরপরেই সরকারি আধিকারিকদের টনক নড়ে। এখন গ্রামবাসীরা সরকারি গ্রামীণ যোজনা প্রকল্পগুলির বরাদ্দ সুবিধা ভোগ করছেন। পাশাপাশি জীবনযাপনের মান অনেকই উন্নত হয়েছে।

জেলা শাসক বলবন্ত সিংয়ের অবদানও এখানে উল্লেখ করার মতোন। তাঁরই উদ্যোগে উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এবং ধারাবাহিকভাবে চলেছে।

সারদা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি উমাকান্ত প্রধান বললেন, আত্মশক্তি নামে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা রইল। বছর কয়েক আগেও এই এলাকার গ্রামগুলির বাসিন্দারা পশুর জীবন কাটাতে বাধ্য হতেন। এখন ধীরে ধীরে আমাদের এলাকায় সূর্যের আলো প্রবেশ করছে। মানুষের জীবনের আত্মমর্যাদার স্বাদ পাচ্ছি আমরাও।