প্রধানমন্ত্রীর স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাষ্ট্রপতি

0

দেরিতে হলেও অবশেষে ‘জাগছে ভারত’, বলছেন একসময় ইউপিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ভাবে তাঁর অবস্থান এখন কেউ পরিমাপ করে না। সেটা রেওয়াজ নয়। তিনি রাজনৈতিক টিকা টিপ্পনীর ঊর্ধ্বে এক মর্যাদার আসনে বসে আছেন। কিন্তু তবু তাঁর এই উক্তির ভিতর লুকিয়ে আছে অনেকগুলো ভাঁজ। অনেকগুলো শব্দ যেগুলো উচ্চারিত হওয়ার অপেক্ষায়, বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনায় ফুটছে। সিলিকন ভ্যালির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত চলাকালীন ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য বলেছেন এতদিনে জেগে ওঠার চেষ্টা করছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া স্ট্যান্ড-আপ ইন্ডিয়া ক্যাম্পেইনের প্রশংসা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে শোনা গেল প্রণববাবুকে। একসময় সংসদে তুমুল ঝড় তুলেছেন। প্রশাসকের ভূমিকায় অবিসংবাদী ছিলেন। দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন আর্থিক সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এবং হাল ধরা ছাড়া নৌকোকে তরতরিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেভাবে সক্ষম হননি। সব মিলিয়ে একটা আফসোস থেকেই গেছে এই দুঁদে রাজনীতিবিদের গলায়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর অবশ্য তাঁকে অনেক বেশি অ্যাগ্রেসিভ হতে দেখেছে দেশ। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। ইস্পাত স্নায়ুর এই মানুষটির মধ্যে বাঙালিয়ানার অনেক গুণ থাকলেও তিনি আর পাঁচটা বাঙালির মত নন। মুখ ফসকে কথা বেরনর নয়। তিনি যা বলেন তার আগুপিছু অনেক ব্যাকরণ থাকে। এইরকম পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার এই ঘটনা নিয়ে সাতকাণ্ড ইতিমধ্যেই জল্পনা হয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। তবে তাঁর বক্তব্যে রাজনীতির গন্ধের থেকেও আত্ম-সমালোচনার স্বরই ছিল প্রকট। তবে সব থেকে বেশি প্রকট ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্টার্ট-আপ নিয়ে এই ক্যাম্পেইনের প্রশংসা। তিনি বলেন আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ভারতের ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হার হওয়া উচিত।

নতুন উদ্যোগপতিদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন 'আপনারা সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছেন। নতুন উদ্যোগপতিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সাহস জোগাতে সরকারের আরও এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের উচিত নতুন নিয়মনীতি চালু করা।' পাশাপাশি তিনি বলেন দেশ জেগে উঠতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছে। 'আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।' তৃণমূল স্তরের নতুন উদ্যোগ কিংবা স্টার্ট আপ ক্যাম্পেইনের এই প্রয়াসের ভীষণ প্রয়োজন তাই নরেন্দ্র মোদির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এতদিন ‘দুর্বল শিল্পগুলোকে বাঁচিয়ে তুলতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে তা মোটেই কার্যকর হয়নি।'

পাশাপাশি তিনি বলেন, 'শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয় প্রয়োজন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। তবেই বৃহত্তর পর্যায়ে ভারতের মত বৃহৎ দেশে সমস্যাগুলি মিটতে পারে। ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হার হলেই দারিদ্রসীমা কাটিয়ে উঠতে পারবে দেশ। সভ্যসমাজের ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা – শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চাকরির সন্ধান দিতে পারবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর উদ্যোগপতিরা বলছেন,তাঁরা ভারতে পড়াশোনা করে সাফল্যের খোঁজে সিলিকন ভ্যালিতে ছোটেন। তার একমাত্র কারণ মার্কিন সরকারের নীতি। তাদের দাবি, বিনিয়োগকারীদের জন্য গতানুগতিক নীতি বদলে নতুন নিয়মনীতির প্রবর্তন করা হলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যাবে। গড়ে উঠবে আরও অনেক স্টার্ট-আপ ফার্ম। উদ্যোগপতিদের এই মতে সায় দিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তবে একইসঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নোবেল বিজয়ীদের উদাহরণ টেনে বলেন ভুলবেন না ভারতে প্রতিভার অন্ত নেই।