অ্যাপস পাবলিশারদের সহজ সমাধান RobusTest

0

৯ বিলিয়ন স্মার্টফোন ইউজার, ২০০ মিলিয়ন ডাউনলোড করা অ্যাপস এবং ১৫০০ কোটি টাকার বেশি অ্যাপস থেকে আয়। এই পরিসংখ্যানগুলিই অ্যাপস নির্ভর অর্থনীতির ছবিটা পরিষ্কার করে দেয়।

মোবাইলে এক একটা অ্যাপস তুড়ি মেরে আজকাল কত সমস্যার যে সমাধান করে দিচ্ছে তার কোনও হিসেব নেই। এইসব অ্যাপস রোজকার কাজকম্ম যত সহজ করেছে তার পেছনের গল্পটাও কিন্তু ততটা সহজ নয়। সাধারণত নানা ডিভাইসে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পরীক্ষা করা হয়। মোবাইল ডিভাইস কেনাও বেশ ঝক্কির। কেনার পর রক্ষণাবেক্ষন, লগ রেজিস্টার করা তারপর ডেভেলপমেন্টের জন্য নিজেদের সিস্টেমে নিয়ে আসা। গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো চল্লিশটারও বেশি ডিভাইস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অকারণ ভোগান্তি। তারপরও অ্যাপ ঠিকঠাক কাজ করবে কিনা নিশ্চিত হওয়া মুশকিল। অ্যাপ পাবলিশারদের (যারা অ্যাপ তৈরি করে বাজারে ছাড়েন) জন্য এতসব ঝক্কির সহজ সমাধান নিয়ে এসেছে RobusTest।

২০১৪য় ওম নারায়ণ এবং ঐশ্বরিয়া মিশ্রের হাত ধরে RobusTest এর জন্ম। দুজনের সাক্ষাৎ হয় পরমতি টেকনোলজিতে। ওম যখন টুল ডেভেলপমেন্টের বিষয়টা দেখছেন, ঐশ্বরিয়া তখন ব্যবসা এবং ইউসারদের সুবিধা-অসুবিধার দিকটা দেখছেন। মজা করেই ঐশ্বরিয়া জানান কীভবে তাঁদের মনে হত এই কাজের সম্পর্কটা জাদু তৈরি করতে পারে। ওমের মাত্র ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার সেভিংসে ভরসা করে এই ধরনের খরচ সাপেক্ষ ভেঞ্চার শুরু করার সাহস দেখিয়েছিলেন দুজনে। পুঁজির অভাব প্রথম দিকে বেশ হতাশ করেছিল, বলে চলেন ঐশ্বরিয়া।

RobusTest এর ইউজার ইন্টারফেসের স্ন্যাপশট
RobusTest এর ইউজার ইন্টারফেসের স্ন্যাপশট

অ্যাপ পাবলিশাররা তাদের অ্যাপ পরীক্ষা করে নিতে পারেন RobusTest এর মাধ্যমে। নিজের ব্রাউজার ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপ পরীক্ষা করা যায় কোনও রকম কোড ব্যবহার না করেই। তাতে লাভ কী? লাভ হল অ্যাড পাবলিশারকে একগাদা ডিভাইস নিয়ে খাবি খেতে হল না। সঙ্গে না রেখেও যেখানে খুশি, যখন খুশি এই ডিভাইস পাওয়া যায়। RobusTest এর এটা তৃতীয় সংযোজন। এর আগে বাগ ম্যনেজমেন্ট এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন টেসটিং নিয়ে এসেছিল RobusTest। ২০১৫ র মে তে লঞ্চ করে বর্তমানে তাদের ১৫টা বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ইন্টারফেস রয়েছে। প্রত্যেকটার জন্য দামও আলাদা।

কোনও ইউসার ওয়েবসাইটে RobusTest এ সাইনআপ করলেই নানা অফার দেখার জন্য ৬০ মিনিট সময় পান।তার জন্য কোনও চার্জ দিতে হয় না। ৬০ মিনিট পর ‘Pay as you go’ (যেমন নেবে তেমন দেবে)মোডে চলে যায়। সেই সময় ইউসারকে প্রতি ঘণ্টায় (ডিভাইস আওয়ার) ৫ ডলার করে দিতে হয়। এই সময়টায় ভেঞ্চার তাদের এন্টারপ্রাইজ মডেলে (B2B model)নজর দেয়। ঐশ্বরিয়া জানান, তাদের B2C model এর জন্য আরও বেশি পাবলিক ক্লাউড (অনলাইনে স্পেস বা ব্যক্তিগত জায়গা)দরকার। তার জন্য আরও বেশি পুঁজি দরকার। এন্টারপ্রাইজ মডেলে তারা দুধরনের অপশন দেয়। প্রথম অপশন হল ‘Hosted’। এর মাধ্যমে কোনও সংস্থা প্রতি মাসে ১০টি ডিভাইসের জন্য তিন লক্ষ টাকায় পাবলিক ক্লাউডে RobusTest ব্যবহার করতে পারে। যদি কোনওভাবে ১০ টি ডিভাইসের বেশি হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেক ডিভাইসের জন্য ৩০০০০ টাকা চার্জ করা হয়।

কিছু ফার্ম আছে যারা তাদের অ্যপলিকেশন পরীক্ষার জন্য পাবলিক ক্লাউডে স্বচ্ছন্দ নয়। তাদের জন্য দ্বিতীয় বিকল্প আছে। সেটা হল ‘On-Premise’ মডেল। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের অফিসেই পুরও সেটআপ (হার্ডওয়ার সহ) নিয়ে পৌঁছে যায় RobusTest। বাৎসরিক লাইসেন্সের ভিত্তিতে কাজ। সেক্ষেত্রে বছরে ৬০ লক্ষ টাকা দিতে হয় ক্লায়েন্টকে। কখনও কখনও অবশ্য ডিসকাউন্ট মেলে কিছুটা।

ব্যবসায় ঠিক কতটা উন্নতি হল সেটা মাপার জায়গায় এখনও আসেনি RobusTest। মূল ধারার ব্যবসা নয় বলেই প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, কতটা ডিভাইস ইনস্টল হল সেটা দেখেই উন্নতির মাপকাঠি বোঝা যায়।

আগামী ৬ মাসে RobusTest পরিকল্পনা রয়েছে ক্রাউড সোর্সিং টেস্টিং মডেল তৈরি করার। একটা দল মঞ্চে রাখা হবে যেখান থেকে ডেভেলপাররা তাদের প্রজেক্ট পরীক্ষার জন্য পরীক্ষকদের টাকার বিনময়ে নিয়ে যেতে পারেন। RobusTest এই ক্ষেত্রে সরাসরি নয়, বাইরে থেকে কাজ করবে। আয়ের টাকা RobusTest এবং অ্যাপ্লিকেশন টেস্টারদের মধ্যে ভাগ হবে। বর্তমানে টেলিকম এবং ফিন্যানশিয়াল ডাটা ডোমেনের বড় বড় ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করছে RobusTest, তাদের পাইলট প্রজেক্টে সাহায্য করছে। এন্টারপ্রাইজ মেসেজিং স্পেসের ভেন্ডারদের জন্যও কাজ করে RobusTest। তাদের ক্লায়েন্ট মূলত দু ধরনের- খদ্দেরদের জন্য যারা মোবাইল অ্যাপ রাখে এবং যারা মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে।

ক্রেতা পাওয়া যদি RobusTest এর প্রথম চ্যালেঞ্জ হয়, দ্বিতীয়টি অবশ্যই পুঁজি। ২০১৫র আগস্ট-সেপ্টম্বর থেকে পুঁজি সংগ্রহের চেষ্টা শুরু হয়েছে। তৃতীয় চ্যালেঞ্জের কথা বললেন ঐশ্বরিয়া। ‘একেবারে এন্ড টু এন্ড (ক্রেতার যা চাহিদা ঠিক সেই মত) প্রডাক্ট তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্ডস্ট্রির প্রয়োজনের দিকে নজর রেখে আমরা আমাদের পণ্যে সবসময় বদল ঘটাচ্ছি। চেষ্টা করছি বাজার যা চাইছে সেই মতো দিতে’।

অভিজ্ঞতার শেষ নেই। দুই উদ্যোক্তা জানালেন কীভাবে প্রতিদিন তাদের নানা রকম আবেগের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়-হতাশা, মন খারাপ, সন্তুষ্টি কত কী। তাঁরা বিশ্বাস করেন এক একটা প্রডাক্ট শুধু ফিচার আর টেকনোলজি নয়, তার বাইরে গিয়ে এটা হল ইউসারের সমস্যা সমাধানের উপায়। ‘আমাদের পরামর্শ, যখন কোনও প্রডাক্ট তৈরি করছেন নিজেকে প্রশ্ন করবেন। প্রডাক্ট কার জন্য? এবং এটা তাদের কোন সমস্যার সমাধান করবে? কোন কোন ফিচার থাকবে, কোন ফিচার এখনই দিতে হবে-এমন নানা প্রশ্ন আসবে বিশেষ করে অল্প পুঁজি নিয়ে যারা শুরু করেন তাদের ক্ষেত্রে তো বটেই। কারণ পুঁজির জোগান কম, তার মধ্য দিয়ে যতটা বেশি সম্ভব ঠিক প্রডাক্ট তৈরি করা যায় তারই চেষ্টাকরে RobusTest ।

২০১৫য় মোবাইল স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ হয়েছে ৫১৯ মিলিয়ন ডলার। এই সংখ্যাটা RobusTest মত অ্যাপ টেস্টারদের শুধু তেজি বাজারের দিশাই দিচ্ছে না, একই সঙ্গে বাজার দেখিয়ে দিচ্ছে এই সম্ভাবনা বহুদূর যাবে।