সৌর বিদ্যুতে সাজতে চলেছে কলকাতা বিমানবন্দর

0

আর হয়তো বেশিদিন নয়। সৌরশক্তিতেই ঝলমল করে উঠবে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (NSCBI)। সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবার নিজেরাই করে নিতে চাইছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমান ওঠানামা থেকে শুরু করে যাত্রী পরিষেবা, বিভিন্ন কাজে বিমানবন্দরের প্রতিদিন লাগে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুতের জন্য বিমানবন্দরের ৫৫ একর জমিতে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৩০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন Airports Authority of India-র চেয়ারম্যান আর কে শ্রীবাস্তব।


সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা নয়, হয়ে উঠতে হবে আত্মনির্ভরশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ।এমনটাই চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর দেখান সেই পথেই তাঁরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান। প্রস্তাবিত সৌর প্রকল্প থেকে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা বিমানবন্দরের প্রয়োজনের থেকে অনেকটাই বেশি। বিমানবন্দরের পরিকাঠামোয় আরও কিছু পরিবর্তনের কথা ভাবা হয়েছে। নতুন ও পুরনো টার্মিনালের যে দুটি এরোব্রিজ তা সংযুক্ত করা হবে। বিমানবন্দরে নতুন একটি টাওয়ারের জন্য বিকল্প একটি জমির সন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আর কে শ্রীবাস্তব।


ভিন রাজ্য বা বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের অনেকেই নতুন শহরে এসে কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হন। মূলত তাদের কথা ভেবেই গত ৩ সেপ্টেম্বর 'স্বাগত সেবা' (Swagat Seva) নামে নতুন একটি পরিষেবার সূচনা করেন আর কে শ্রীবাস্তব। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই পরিষেবা। বিমানযাত্রীদের জরুরি কিছু কাজে সহায়তা করার জন্য থাকবেন ভলান্টিয়াররা। অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার, দু'টি ক্ষেত্রেই ক্লিয়ারিংয়ের কিছু ব্যাপারস্যাপার থাকে বিমানবন্দরে। জরুরি এই কাজ অনেকেই সামলে উঠতে পারেন না বা বুঝতে পারেন না। বয়সের কারণে ব্যাপারটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় বৃদ্ধবৃদ্ধাদের কাছে। তাদের সহায়তা করতেই থাকবেন এই স্বেচ্ছাসেবক বা ভলান্টিয়াররা। তারাই পুরো ব্যাপারটা সামলাতে সহায়তা করবেন যাত্রীদের। যাত্রীদের জন্য লাগেজ-সহ ট্রলির ব্যবস্থা, বিমানবন্দরের বাইরে গাড়ির ব্যবস্থা, ট্রেন বা বিমানের টিকিট বুক করা এসব কাজেও সাহায্য করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তবে এই পরিষেবা পেতে গেলে মাথাপিছু ২০০ টাকা দিতে হবে যাত্রীদের। দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর বিমানবন্দরে আগেই এই পরিষেবা চালু হয়েছিল। এবার তাতে নাম লেখাল কলকাতাও।

কলকাতা বিমানবন্দরে সৌরশক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা পরিবেশ উপযোগীও বটে। সম্প্রতি সেই নজিরই গড়েছে কোচিন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড (CIAL). বিমানবন্দর এলাকার মধ্যে সূচনা হয়েছে ১২ মেগাওয়াটের সোলার পাওয়ার প্রজেক্ট। কোচি বিমানবন্দর প্রায় ৪৫ একর এলাকা নিয়ে। সেইসব জায়গায় সোলার প্যানেল বসানোর কাজ চলছে পুরোদমে। একবার সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে বিমানবন্দরের জন্য প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের খরচ বাঁচবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের জন্য আর কারোর মুখাপেক্ষী হতে হবে না।