ইভেন্টের আয়োজন সহজ করে দেয় আরবান রেসট্রো

0


রেস্তোরাঁয় টেবিল বুকিং থেকে নানা ধরনের রিজারভেশন। চাইলে কোনও ঝক্কির মধ্যেই আর আপনাকে যেতে হবে না। কারণ তার জন্য হাতের কাছে আপনি পেয়ে যাবেন অনেক স্টার্টআপ, যারা এই কাজগুলি করে দিয়ে আপনার জীবন সহজ করবে। কিন্তু যখনই কোনও ইভেন্টের আয়োজন করতে যাবেন, তখন আর দিশা খুঁজে পাবেন না। হাজারো অপশন চোখের সামনে কিলবিল করবে। এই অবস্থায় প্রথমেই সবাই যেটা করে থাকেন সেটা হল অনলাইনে ফোন নম্বর খোঁজা। তারপর একে একে ব্যঙ্কোয়েটগুলিতে ফোন করা, খালি আছে কিনা দেখা, সেখানে যাওয়া, কোটেশন নেওয়া তারপর দরাদরি তো আছেই। ঠিক এই জায়গাতেই ব্যবসার সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছে আরবান রেসট্রো। সব ঝক্কি এক নিমেষে উড়িয়ে দিতে পারে এই স্টার্টআপ। আপনি শুধু ইভেন্টের দিনের অপেক্ষা করুন।

বাইরে খেতে চাইলে গ্রাহকের হয়ে বুকিং অথবা রিজারভেশন করে দিলেও, আরবান রেসট্রো মূলত ব্যাঙ্কোয়েট হল বুকিং সার্ভিসে বিশেষ করে নজর দেয়। প্রতিযোগীদের থেকে আরবান রেসট্রো এগিয়ে। কারণ, শহরে যা ইভেন্ট চলছে তার তালিকা হিসেবে কাজ করে স্টার্টআপটি। গত বছর ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সৃতি ছাজেদের হাত ধরে আরবান রেসট্ট্রোর জন্ম। সৃতি টেক মাহিন্দ্রার সঙ্গেও কাজ করছেন। চাকরি করার সময় কোডিং এর থেকেও ইভেন্টের আয়োজন, টিম তৈরি করা-এইসব কাজে বেশি উৎসাহী ছিলেন। হঠাৎ কাজ ছেড়ে দিলেন। ঠিক করলেন, থিমের রেস্তোরাঁ খুলবেন। তেমন কিছু হল না। এমবিএ করে যোগ দিলেন এইচসিএলে। আড়াই বছর কাজ করেন। শেষ পর্যন্ত ২০১২র ডিসেম্বরে আরবান রেসট্রো শুরু করেন।

মুম্বই, আমদাবাদ এবং পুনেতে দেড়শোরও বেশি ব্যঙ্কোয়েট হল এবং দুশোর বেশি রোস্তোরাঁ রয়েছে আরবান রেসট্রোর সাইটে। এই সাইটের মজা হল, বিভিন্ন হোটেলের ব্যঙ্কোয়েট হলের তুলনামূলক ছবি যেমন কতটা ধারণ ক্ষমতা, খবারের দাম, পার্কিং, এলাকা এবং আরও অনেক কিছু যা দেখে নিজের জন্য ঠিক অপশন খুঁজে নিতে পারেন গ্রাহকরা।

আরও অনেক উদ্যোক্তার মতো সৃতি বলেন, এই কাজে বড় বাধা ছিল, মাস গেলে বাঁধা মাইনের গন্ডি টপকানো এবং পরিবারকে বোঝানো। শেষ পর্যন্ত দুটোই উতরে গিয়েছিলেন স্মৃতি। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাননি।

গত বছর শুরু করার পর থেকে আরবান রেসট্রোর এখন ১৩ জনের শক্ত টিম। বর্তমানে মাসে ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার হিট হয়। তাছাড়া প্রতিদিন ব্লগ পড়েন অন্তত ৭০০ জন। প্রতিযোগীও রয়েছে অনেক। মীরা ভেন্যু এবং ভেনু পন্ডিত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু তাদের কেউই আরবান রেসট্রোর মতো রিজারভেশন, ভেনু এবং ইভেন্ট সব একসঙ্গে ধরে রাখার মতো নয়।

চাকরি ছেড়ে ব্যবসা। ভালোই ঝুঁকি নিয়েছিলেন সৃতি। এই যাত্রা থেকে কী শিখলেন তরুণ উদ্যোক্তা বলে গেলেন একে একে

১. প্রক্ষাপট বিচার করে সবকিছু দেখেশুনে হায়ার করতে হবে। প্রতিশ্রুতি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়।

২. প্রথম যাত্রার সাফল্য ধুমধাম করে উদযাপনে যেন ভুল না হয়।

৩. টিমের বাইরে কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কারও কাছ থেকে প্রতিনিয়ত ইনপুট নিতে থাকুন।