যোগে উজ্জ্বল বরানগরের দীপান্বিতা

0

বিশ্ব যোগার আঙিনায় বাংলার মেয়ে দীপান্বিতা মণ্ডল একজন নক্ষত্র। ইতিমধ্যে আমেরিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তাইওয়ানেও চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নের শিরোপা উঠেছে বছর কুড়ির এই মেয়ের মাথায়। বিশ্বের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, দেশের পতাকা তুলে ধরছেন, জয় ছিনিয়ে এনে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু দ্বীপান্বিতার এই লড়াই বেশ কঠিন। প্রতিদ্বন্দীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দারিদ্রের সঙ্গেও সমান তালে লড়াই চলছে বরানগরের এই ব্যায়ামবীরের।

বাবা সুভাষ মণ্ডল সামান্য লজেন্স কারখানার কর্মী। সেখান থেকে যা রোজগার তাই দিয়ে সংসার চলে। মেয়ে দ্বীপান্বিতা ছোটবেলা থেকে বড্ড রোগে ভুগত। অনেককেই বলেতে শুনেছিলেন যোগব্যায়াম করলে নাকি রোগভোগ কম হয়। ৬বছরের মেয়েকে নিয়ে বাবা সুভাষ মণ্ডল একদিন সটান চলে গিয়েছিলেন পাড়ার যোগাকেন্দ্রে। সীতাংশু কাবাসি নামে এক যোগা শিক্ষকের হাতে সঁপে দেন মেয়ের যোগা প্রশিক্ষণের ভার। সেই শুরু। তারপর আর থামতে হয়নি দ্বীপান্বিতাকে। সকাল নটা থেকে সন্ধে ৬টা-দিনের পর দিন চলত কঠোর অনুশীলন। মাত্র বারো বছর বয়সে আমেরিকায় যোগার শো করে।

স্কুলের পড়াশোনাতেও ফাঁকি ছিল না এতটুকু। যোগার প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হত না। সেই অভাব পুষিয়ে দিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারাই। পড়াশোনার ক্ষেত্রে সবসময় স্কুলের স্যার-দিদিমণিদের পাশে পেয়েছেন। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে এখন কলেজে পড়ছেন বরানগরের এই সোনার মেয়ে।

দেশের মাটিতে জাতীয় স্তরে যোগা প্রতিযোগিতায় নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছিলেন দ্বীপান্বিতা। এবার আন্তর্জাতিক স্তরেও যেখানেই যাচ্ছেন তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। ২০১২য় আমেরিকায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম, ২০১৩য় তাইওয়ানে চ্যাম্পিয়নস অব চ্যাম্পিয়নের শিরোপা আদায় করে নিয়েছেন। এবার লক্ষ্য ২০১৬র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ। 'একমাত্র বাধা আর্থিক সামর্থ্য। কোথায় বসবে এই প্রতিযোগিতার আসর এখনও ঠিক হয়নি। ল্যাটিন আমেরিকা বা ইউরোপের কোনও দেশে হলে খরচ আরও বাড়বে। মেয়ের সাফল্যের ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত আমি। তবে প্রতিযোগিতায় নিয়ে যেতে পারবেন কিনা এখনও জানি না', একরাশ চিন্তা নিয়ে বললেন বাবা সুভাষ মণ্ডল। চিন্তায় ঘুম উড়েছে ব্যায়ামবীরেরও। সুযোগ পেলে দেশের নাম সোনার অক্ষরে লিখে আসবেন বিশ্বের আঙিনায়। তাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে অংশ নিতে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছে মণ্ডল পরিবার। সাহায্যটুকু পেলে নিজের সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত দ্বীপান্বিতা। দুচোখে স্বপ্ন। সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে চান এই বঙ্গ তনয়া।