বীরেন্দ্রর পাখির চোখ রিও অলিম্পিক

0

বছর তিরিশের বীরেন্দ্র সিং। বধির। তাই ডাক নাম গুঙ্গা পেহেলবান। বাংলায় বলি পালোয়ান। কুস্তি করে তিনি এখন খ্যাতির শীর্ষে। অজস্র দংগল জিতেছেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তারিফ কুড়িয়েছেন। ওঁকে নিয়ে সিনেমা হয়েছে। সেই ছবি আন্তর্জাতিকপুরস্কারও পেয়েছে। ওঁর সাহস আর দক্ষতাই বীরেন্দ্রকে আজ বনিয়ে তুলেছে ভারতীয় বধির ক্রীড়াবিদদের প্রধান মুখ। যেখানে গেছেন সেখানেই জয়জয়কার। যেমন ডেফলিম্পিকস (Deaflympics)-এ একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। বিশ্ব বধির কুস্তি প্রতিযোগিতাতেও (world deaf wrestling championship) জিতে এনেছেন একটি রৌপ্য পদক ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। গোটা দেশ টিভিতে দেখেছে। বীরেন্দ্রর জন্য গলা ফাটিয়েছে। বধির এই পালোয়ান সেসব শুনতে পাননি। যখন জিতেছেন দেশ গর্বিত হয়েছে। পরাজয়ের গ্লানি শুধু একা বয়ে বেড়িয়েছেন। কোনও বিশেষ মর্যাদা পাননি। পেট চালাতে নিয়মিত কাদা-কুস্তির আখড়ায় নামতে বাধ্য হন বীরেন্দ্র। এখনও।

হরিয়ানা পাওয়ার কর্পোরেশনে কেরানির চাকরী করলেও তাঁর আয়ের সিংহভাগই আসে কুস্তি জেতার পুরষ্কারের টাকা থেকে। অলিম্পিকে একাধিক পদক জয়ী কুস্তীগির সুশীল কুমার এবং অন্যানদের সঙ্গে দিল্লীর ছাত্রসাল স্টেডিয়ামে দীর্ঘ অনুশীলনের মাধ্যমে বীরেন্দ্র তাঁর কুস্তির কেরামতি ও দক্ষতা বাড়িয়েছেন। বিরেন্দ্র’র জীবন ও সংগ্রামের উপর নির্মিত জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত তথ্যচিত্র ‘গুঙ্গা পেহেলয়ান’ এর পরিচালক বিবেক টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, “জাতীয় কোচেরা প্রত্যেকে বিরেন্দ্র কে ভারতের এক নম্বর কুস্তীগির হিসাবে মেনে নিলেও ফেডারেশান কিছুতেই তাঁকে অলিম্পিকে যাওয়ার সুযোগ দিতে চাননা, কারণ বিরেন্দ্র নাকি রেফারির বাঁশি শুনতে পাননা। ঠিক ভাবে শুনতে না পাওয়ার জন্য সাইডলাইনড হয়ে যাওয়ার মত দুর্ভাগ্য আর কিই বা হতে পারে।”

যদিও বিরেন্দ্র তাঁর নিজের জীবন নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই। “কোনও কিছুই বদলায়নি”, দোভাষীর মাধ্যমে বিরেন্দ্র জানালেন। “আমার তালিমের জন্য এখনো দু জোড়া পোশাক রয়েছে। আর এক জোড়া জুতো। আমার পারফর্মেন্সের জন্য আমাকে কেউ কিছুই দেয়নি। তবে তাতে কিছু যায় আসেনা। আমি এতেই সন্তুষ্ট। অন্তত আমি যেটা ভালোবাসি সেটা তো করতে পারছি।” বর্তমানে তিনি ২০১৬-এর রিও অলিম্পিককে সামনে রেখে জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

(TCI) অনুবাদ- শঙ্খশুভ্র গাঙ্গুলি