গ্রিজম্যানের লড়াইয়ে আপনারও স্টেক আছে

লড়াইয়ের ময়দানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো আর আন্তোনিয়োন গ্রিজম্যান। রোনাল্ডোকে আপনি চেনেন। আপনার মতো অনেকেই জানেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সম্পর্কে। কিন্তু গ্রিজম্যান এখনও অনেকেরই অপরিচিত এক তারকা। ইউরো কাপের দৌলতে সকলের মুখেমুখে ফিরছে নামটি। কে এই দুর্দান্ত ফরাসি তরুণ। তাঁর জীবনের সংগ্রামের দিকটি আসুন একবার দেখে নিই। জেনে নিই কোথা থেকে শক্তি পান এই তুবড়ি।

0

গ্রিজম্যান মুখে রুপোর চামচ নিয়ে জন্মানো কোনও তারকা নন। মা ইসাবেলা হাসপাতালের সুইপারের কাজ করতেন। বাবা মহল্লার নেতা ছিলেন। মায়ের বাপের বাড়ি পর্তুগাল। দাদুর রক্তে ফুটবল ছিল। দাদু অ্যামারো লোপেস ছিলেন পর্তুগিজ ফুটবলার। প্যাকো দ্য ফেরেইরা ক্লাবের হয়ে খেলতেন। তখনকার যুগে খেলে পেট ভরত না। তাই ১৯৫৭ সালে খেলা শিকেয় তুলে স্ত্রী ক্যারোলিনাকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্সে চলে আসেন রাজমিস্ত্রির কাজ করতে। ১৯৯২ সালে মারা যান অ্যামারো। ১৯৯১ এ জন্মান আন্তোনিয়োন গ্রিজম্যান। ছোটবেলাতে মনে আছে মায়ের হাত ধরে দাদুর ক্লাবে মাঝে মধ্যেই যেতেন গ্রিজম্যান। বিশেষকরে ছুটির দিন গুলোয় দাদুর স্মৃতি জড়ানো পুরনো ক্লাবে বড়দের খেলা দেখতেন। বল বাউন্ডারির বাইরে গেলে এগিয়ে দিতেন। আর স্বপ্ন দেখতেন তিনিও খেলবেন। সবুজ মাঠ উথাল পাতাল করে দেবেন একদিন।

আজ সাত নম্বর জার্সির ছেলেটাই শাসন করেন ফরাসি ফুটবল। জিনেদিন জিদানদের পরের প্রজন্মে গ্রিজম্যানই কেড়ে নিতে পেরেছেন সব থেকে বেশি লাইমলাইট।

কিন্তু এত সহজে এই মাঠে জায়গা পাননি গ্রিজম্যান। স্থানীয় ক্লাবে খেলা এক জিনিস কিন্তু জাতীয় স্তরে পৌঁছনোর হরেক ধাপ পেরতেই দম বেড়িয়ে গিয়েছিল ছেলেটির। পরিবেশ প্রতিকূল ছিল। বড় ক্লাবে জায়গা পেতে তাদের অ্যাকাডেমিতে সুযোগ পেতে বারংবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। কখনও উচ্চতার জন্যে কখনও শারীরিক গঠনের দুর্বলতার ছাপ আছে এই অছিলায় বাতিল হয়ে গিয়েছেন তিনি। ২০০৫ সালে নিজের পায়ের যাদুতেই তামাম সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন গ্রিজম্যান। মোঁপেল্লিয়েরের একটা প্রদর্শনী ম্যাচ। সেখান থেকেই প্রথম বড় ক্লাবে খেলার সুযোগ পেলেন। তাঁকে তুলে নিলো রিয়েল সোসিয়েডাড। ২০০৫ থেকে ২০১৬ রাইন, শেন, এলবে দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। ২০১৪ সালে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ তাঁকে তুলে নেয়। তিরিশ মিলিয়ন ইউরোয় ৬ বছরের জন্যে গ্রিজম্যানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সেবছরই সুপারকোপা দ এস্পানায় দারুণ পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন। তার পর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ভালো খেলেছেন। আর লা লিগায় তো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে হ্যাট্রিকও করেছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি চলেছে ফ্রান্সের জাতীয় দলের খেলাও। ফিফার খেলাতেও গ্রিজম্যান উঠে এসেছেন ফরাসি আক্রমণের প্রধান মুখ হিসেবে। ফিফা ১৬-র মতো ভিডিও গেমেও তিনি এখন ভীষণ পরিচিত তারকা। লিওনেল মেসির পাশাপাশি তিনিও সেখানে কাভার বয়।

অথচ জীবনের শুরুটা ছিল দারুণ ঝঞ্ঝায়। অনিশ্চয়তায় ভরা। ফুটবল নিয়ে আদৌ এগোতে পারবেন কিনা তা নিয়েই ছিল যত দুর্ভাবনা। পড়াশুনোর ফাঁকে ফাঁকে ফুটবল নাকি ফুটবলের ফাঁকে ফাঁকে পড়াশুনো সেটাই একটা সময় ভাবিয়ে তুলেছিল আন্তোনিয়োন গ্রিজম্যানকে। আর ৭ জুলাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-০ গোলে দুমড়ে দেওয়ার পর গ্রিজম্যান এখন ফুটবল বিশ্বের উদিত সূর্য। যে এখনও অনেকদিন আলো দেবে। আর সেইসব লড়াকু মানুষগুলোকে সাহস দেবে যারা সততার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন নিজের নিজের ফিল্ডে।


Related Stories