শুরুয়াতি ব্যবসার সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এর সাতটি মারাত্মক ভুল

0

“হ্যাঁ আমি ভুল করেছি...কিন্তু জীবন তো আর নির্দেশাবলীসহ আসে না!”

সত্যিই তা আসে না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংএর ক্ষেত্রে বিষয়টি সেরকম নয়, ভয়ঙ্কর কিছু ভুল এড়ানোর জন্য কিছু পরামর্শ মেনে চলাই ভালো সেখানে। বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষত স্টার্টআপ সোশ্যাল মিডিয়া কৌশল ঠিক করার সময় কোন কোন ভুলগুলি সাধারণত করে থাকে তা একবার দেখে নেওয়া যাক।

১। ভুল মঞ্চ বেছে নেওয়া

ফেসবুকে ১.৪৪ বিলিয়ন মাসিক কার্যকরী গ্রাহক (মার্চ ৩১, ২০১৫ এর তথ্য অনুযায়ী) রয়েছে একথা সত্যি। কিন্তু কোনো ব্যবসা কখনই পুরো বিশ্বকে নিজেদের সম্ভাব্য ক্রেতা ভাবতে পারে না। আজ যখন প্রত্যেকের কাছে প্রচুর বিকল্প রয়েছে পছন্দ করে নেওয়ার জন্য তখন মার্কেটিংএর ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল তাদের ব্যবসার সম্ভাব্য ক্রেতাকে বেছে নেওয়া। এই সম্ভাব্য ক্রেতাদের লক্ষ্য করেই যাবতীয় মার্কেটিংএর উদ্যোগ নিতে হবে। এটিই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। খুব পরিস্কারভাবে এই অংশটিকে বেছে নেওয়া প্রয়োজন। এরফলে অবশ্যই একটা বড় অংশ বাদ যাবে। এরপর দেখতে হবে সেই ক্রেতারা কোন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। মনে রাখতে হবে ফেসবুকে কেউ চাকরি খোঁজেনা বা লিঙ্কড-ইনে হোটেল। জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি বাছার কিছু সহজ উপায়।

ফেসবুক একটি উপযোগী মঞ্চ যখন

• আপনার প্রচুর ছবি সহযোগে উপাদান থাকবে

• আপনি গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করতে চাইছেন

• বন্ধুদের নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে চাইছেন আপনি

• আপনি টাকা খরচ করতে প্রস্তুত, কারণ ফেসবুকের সাম্প্রতিক অ্যালগরিদমে নিজে পোস্ট করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছনো খুবই কঠিন.

ট্যুইটারও একটি অত্যন্ত উপযোগী মঞ্চ

• আপনার বার্তা প্রচারের জন্য

• একটি কথোপকথনে অংশ নেওয়ার জন্য

• জনমত গঠনকারী বা অন্য প্রয়োজনীয় মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য

• নিজেক একটি অবস্থান তৈরির জন্য

লিঙ্কড-ইন ব্যবহার করুন যখন

• আপনি বিজনেস-টু-বিজনেস কোম্পানি

• আপনি পেশাদার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে চান এবং একই পেশায় থাকা মানুষদের মধ্যে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চান

গুগল প্লাস -

• সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইসেশনে সাহায্য করবে

• গুগল কমিউনিটির মাধ্যমে সমমনস্ক মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব

পাইনরেস্ট ব্যবহার করতে পারেন যখন

• আপনার প্রাথমিক সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে মহিলারা রয়েছেন

• আপনার প্রচুর ছবি রয়েছে

এটি প্রাথমিক গাইডলাইন, আরও গবেষণা ও চিন্তাভাবনা করেই নিজের ব্র্যান্ডের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হবে।

২। খুব বেশি বা খুব কম উদ্যোগ নেওয়া

একটি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার পর সেটার পিছনে লেগে থাকতে হবে। যেকোনও প্ল্যাটফর্মেই নিস্ক্রিয় থাকা খারাপ প্রভাব ফেলে। শেষ ট্যুইট দুবছর আগে হওয়ার থেকে কোনও ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট না থাকা ভাল। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকতে হবে এবং তা যেন লাগাতার হয়। তবে উল্টোটাও সত্যি, লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টে দিনে দশটা পোস্ট দিয়ে ফলোয়ারদের বিব্রত করা ঠিক নয়।

৩। লেখার মাধ্যমে মার্কেটিংকে অবহেলা করা

লেখার মাধ্যমে মার্কেটিং বা কনটেন্ট মার্কেটিং সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের অত্যন্ত কার্যকরী উপায় ভাল ব্লগ প্রবন্ধ লেখা। ছবি ও তথ্যসহযোগে লেখা দিন। বিনামূল্যে ক্রেতাদের দেওয়ার জন্য ই-বুক খুবই উপযোগী। ফাঁকা কাগজে নিজের প্রভাব বিস্তার করা যায় না, তার জন্য লেখা প্রয়োজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টিকে অবহেলা করা একেবারেই ঠিক নয়। লেখা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইড্থ নেই এমন যুক্তি আজকের দিনে খাটে না।

৪। অনুপযুক্ত লেখা বা আত্মপ্রচার

প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব কিছু চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে একই লেখা দিয়ে ভারাক্রান্ত করবেন না। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের লেখার ধরণ ও স্বাদ ভিন্ন হয়। আপডেট দেওয়ার সময়ের বিষয়ও যত্নবান হতে হবে। আপনার ক্রেতা একই সময় সবগুলি প্ল্যাটফর্মে অনলাইন কখনই থাকবে না। সোশ্যাল মিডিয়ার সময় নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। বিশ্লেষণ না করে অটো সিডিউল দিয়ে দেওয়া একেবারেই কার্যকরী নয়। কী ধরণের লেখা দেওয়া হচ্ছে সেদিকেও মনযোগ দিতে হবে। অত্যধিক আত্মপ্রচার খারাপ প্রভাবই ফেলবে। নিজের পণ্য বা পরিষেবাটি নিয়ে আপনি নিজে খুশি বলে সারাদিন সেটা নিয়েই কথা বলে চললে বাকিদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শিক্ষা, বাজার সম্পর্কে তথ্য, আত্ম প্রচার ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিযুক্ত করা, লেখার ক্ষেত্রে এই প্রতিটা দিকই মাথায় রাখতে হবে।

৫। ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং

মানুষ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে উত্সাহী, বিশেষত স্টার্ট আপের ক্ষেত্রে ক্রেতা স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতার থেকে পরিষেবা কেনে, কোম্পানির থেকে না। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানির একটি মুখ দরকার।

৬। নিন্দামূলক সমালোচনার পূর্বনির্ধারিত উত্তর

নিন্দামূলক সমালোচনার ভয় অনেক কোম্পানিই সোশ্যাল মিডিয়াকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু এই ধরণের মন্তব্য আসলে পাঠকের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে সাহায্য করে। এই ধরণের মন্তব্যে কখনই আগেই তৈরি করে রাখা রেডিমেড উত্তর দেবেন না। ব্যক্তিগতভাবে উত্তর দিন এবং সমস্যা সমাধানে সত্ থাকুন. বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন, এবং সঠিক সমাধান করুন। জ্যাপোর উদাহরণটি এক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়।

৭। টার্গেট অডিয়েন্সের কথা মাথায় রেখে বার্তা এবং তা বলার ধরণ ঠিক করুন

টার্গেট অডিয়েন্স যদি যুবারা হয় তাহলে ভাষা খানিক হাল্কা রাখুন, যদি সিএক্সও হয় তবে পেশাদার ভাষা ব্যবহার করুন। আপনার মার্কেটিংএর ভাষা যেন আপনার কোম্পানির সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায়। এখন মার্কেটিং আর শুধু মার্কেটিং টিমের কাজ নয়, বরং কোম্পানির প্রতিটি কর্মীরই দায়িত্ব এটি। নিম্নলিখিত উদাহরণটি দেখা যেতে পারে।